ফাতওয়া  নং  ২৪৭

নারীদের জন্য প্রচলিত সহশিক্ষা পদ্ধতিতে মেডিক্যাল শিক্ষা গ্রহণের হুকুম কি?

জেলখানার রান্নাঘরের কর্মীদের থেকে তেল, সবজি ইত্যাদি ক্রয় করার হুকুম কি?

পিডিএফ ডাউনলোড করুন

ওয়ার্ড ডাউনলোড করুন

নারীদের জন্য প্রচলিত সহশিক্ষা পদ্ধতিতে মেডিক্যাল শিক্ষা গ্রহণের হুকুম কি?

 

মুহতারাম শাইখ, নিম্নোক্ত বিষয়ে আপনার সুচিন্তিত মতামত আশা করছি।

প্রশ্ন ক:

পরিস্থিতি ১: বাবা-মায়ের আদেশ মেডিক্যাল সেক্টরে পড়া এবং ডাক্তার হ‌ওয়া। কিন্তু আমি মেডিক্যাল সেক্টরের ভয়াবহ ফিতনাপূর্ণ পরিবেশের কথা ভেবে তাতে আর পড়তে চাচ্ছি না। এগুলোর পরিবর্তে দ্বীনী ইলম অর্জন করতে চাই। আবার মেডিক্যালে পড়তে না চাওয়াটা বাবা-মাকে জানালে তারা খুব কষ্ট পাবেন। হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক টাইপের কিছু হয়ে যাওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে। আবার তাতে পড়লে নিজের উপর জুলুম হচ্ছে। মা-বাবার আদেশ পালনার্থে গুনাহে পরিপূর্ণ পরিবেশে বাধ্য হয়ে যেতে হচ্ছে। কিন্তু মেডিক্যালে ফিতনার ভয়াবহতা অবর্ণনীয়। একটি মেয়ে ডাক্তারি পড়তে গেলে তাকে অনেক কিছু ফেইস করতে হয়। যেমন: পুরুষ রোগীর রিভিলিং বডি পার্ট (প্রাইভেট এরিয়া) দেখা, বা কোনো পেশেন্টকে বিনা অনুমতিতে বিবস্ত্র দেখা, মর্গে পোস্ট মর্টামের সময় ছেলে-মেয়ে উভয়কে দেখা ও প্রত্যেকটা বডি পার্ট চেক করা। কখনো বা পুরুষ স্যার বা ক্লাসমেটদের সো কোল্ড কুল (অশ্লীল, হারাম জোকস সহ্য করা)। কখনো আবার শিখার জন্যে নন মাহরামের সামনে হাল্কা হলেও চেহারা দেখানো! মেডিক্যালের বর্তমান পরিবেশে গেলে নিজের গুনাহের আশংকা করছি এবং নিজের ঈমান বাঁচানো কঠিন হয়ে যাবে বলে বোধ করছি। এক্ষেত্রে মা-বাবার আদেশ অমান্য করলে কি গুনাহ হবে?

তাছাড়া শুধু্ এমবিবিএস পাস করার পর কেউ নারীদের বিশেষ চিকিৎসা দিতে পারে না। এমবিবিএস পাস করে শুধু সর্দি, জ্বর, ঠাণ্ডা, কাশি ও সাধারণ মেয়েলি চিকিৎসা হয়তো দিতে পারে। কিন্তু নারীদের সন্তান প্রসব, জরায়ু ক্যান্সার, ব্রেস্ট ক্যান্সার এই সকল চিকিৎসা দিতে গেলে উচ্চতর ডিগ্রি নিতেই হবে। উচ্চতর ডিগ্রিতে ব্যাপক পরিমাণ সময় পড়াশোনাতে দিতে হয়, যা একজন বিবাহিত নারী; স্বামী, সন্তানের হক সামলানোর পর সাধারণত দিতে পারে না। (অন্যদের পক্ষে সম্ভব হলেও আমি নিজেকে অসমর্থ বলে মনে করছি)। যারাই এমনটি করেছেন, তাদের স্বামী, সন্তানের হক নষ্ট হয়েছে বলে শুনেছি। তাই উচ্চতর ডিগ্রি নেওয়ার ইচ্ছা আমার নেই। আর যদি আমার উচ্চতর ডিগ্রি নেওয়ার পরিকল্পনাই না থাকে, তাহলে শুধু এমবিবিএস পাস করার কোনো বিশেষ ফায়দা হচ্ছে না। সর্দি, কাশি, জ্বরের জন্য অনেক ডাক্তার রয়েছেন। তাই উচ্চতর ডিগ্রি নেয়ার ইচ্ছা না থাকলে এগুলো পড়া তো আরও সময় নষ্ট। আর সত্যিকারার্থে আমার পক্ষে উচ্চতর ডিগ্রি নেয়া সম্ভবপর নয়। স্বামীকে রাজি করালে স্বামীর হক আদায়ে না হয় কিছু ছাড় পাবো (তবে সেটিও অনিশ্চিত)। কিন্তু সন্তানের হকের জবাবদিহিতা নিয়ে ভয় পাচ্ছি। শরীরই চলবে না এত পরিশ্রমে। নিজের মেজাজই যদি খিটখিটে থাকে তাহলে সন্তান কি শিখবে আমাদের থেকে। আর এভাবে মেডিক্যালের চিকিৎসাবিদ্যা অর্জন এবং শর‌’ঈ ইলম অর্জন একসঙ্গে করতে গেলে দুটার কোনোটাই হয়তো ভালোভাবে না হওয়ার আশংকা করছি।

আমি দ্বীনি ইলম অর্জন করতে চাই, আমার ফরয পরিমাণ ইলম নেই বললেই চলে। আমার যদি ইলম‌ই না থাকে, তাহলে কীভাবে ঠিকভাবে দ্বীন পালন করবো!

মেডিক্যাল কলেজ থেকে পাশ করা একজন আপু নিজে এই পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। তাঁর কাছে পরামর্শ নিতে গেলে তিনি বলেছেন, “শুধু জিনা-ব্যভিচারই কি ফিতনা!? চোখের ফিতনা, কানের ফিতনা। আরও কত রকম ফিতনা আছে, যাকে আমরা আমলেই নিই না। আমরা সেক্সচুয়াল বিষয়টা ছাড়া আর সব ফিতনাকে পাশ কাটিয়ে যাই। যখন আমি মেডিক্যালে পড়েছি, তখন বেপর্দা, পথভ্রষ্ট ছিলাম। ওখানকার সবকিছুই আমি দেখেছি। সহজ কথায়, পরকালকে অগ্রাধিকার দিলে মেডিক্যালে যাওয়া কোনোভাবেই সম্ভব না। যারা ইতিমধ্যে মেডিক্যালে পড়াশোনা করছেন, তারা পড়ুক। কিন্তু তোমার তাক‌ওয়া বুঝে তুমি সিদ্ধান্ত নাও; তুমি না গেলে নারী ডাক্তার তৈরি হ‌ওয়া কমে যাবে না।”

শাইখ, শুধু যে ফিতনা তা-ই নয়, এছাড়াও এই পড়াশোনাতে আমি যাওয়া মানেই আমার স্বামী, সন্তানের হক নষ্ট হ‌ওয়া। উল্লেখ্য, আমি অবিবাহিত। ভবিষ্যত হক নষ্টের ব্যাপারে প্রবল আশংকা করছি। এত এত গুনাহ সামাল দেওয়ার মতো ঈমান, তাক‌ওয়া, আত্মশুদ্ধিতা আমার নেই। এক্ষেত্রে আমি যদি পিতা-মাতার কথা না মানি এবং মেডিক্যালে পড়াশোনা না করি, এতে কি আমি পিতা-মাতার অবাধ্য বলে আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার নিকট অপরাধী গণ্য হবো? (উল্লেখ্য: আমার পিতা-মাতা আমার দুনিয়াবি সফলতার ব্যাপারে খুব‌ই দুর্বল। যদি শোনেন, আমি জেনারেল পড়াশোনা ছেড়ে দিতে যাচ্ছি, তাদের স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।)

পরিস্থিতি ২: (নিম্নোক্ত পরিস্থিতিটি আরেক বোনের)

বাবা-মায়ের আদেশ, মেডিক্যালে পড়াশোনা করতে হবে। কিন্তু আমার সেক্যুলার পড়াশোনা ভাল লাগে না। এই পড়ার প্রতি কোনো আগ্রহ অনুভব করি না; বরং কুর‌আন ও দ্বীনি পড়াশোনার প্রতি প্রচণ্ড আগ্রহ। এখন আমি যদি জেনারেল পড়াশোনা ছেড়ে দিই তাহলে পিতা-মাতার অবাধ্য বলে গণ্য হবো? তাছাড়া আমি মেডিক্যালের ফিতনাপূর্ণ পরিবেশের‌ও আশংকা করছি। তবে পিতা-মাতার কষ্ট পাওয়ার দিকটি আমাকে অত্যাধিক পীড়া দেয়। কিন্তু যে দিকে আমার আগ্রহ নেই, সে দিকে কন্টিনিউ করাটাও নিজের সঙ্গে যুলুম মনে হচ্ছে। আর দ্বীনের ফরজ পরিমাণ ইলম নেই বলা যায়। একজন ভাল ডাক্তার হওয়া অনেক পরিশ্রমের ব্যাপার। আমার পক্ষে দুইটা একসঙ্গে করাটা অনেক কষ্টসাধ্য। এজন্য উক্ত অবস্থাদৃষ্টে বিজ্ঞ শাইখদের নিকট কি করণীয় বলে মনে হয়?

প্রশ্ন খ:

নারীদের ইজ্জত-আব্রু রক্ষার্থে মেডিক্যাল সেক্টরে ফরযে কিফায়া আদায় করার জন্য মুসলিম নারীদের একাংশ এগিয়ে আসা উচিত। কিন্তু বর্তমান মেডিক্যাল সেক্টর এতটাই নোংরা এবং জাহিলিয়্যাতপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, যেখানে নিজেদের ঈমান হারানোর সম্ভাবনা অত্যধিক। এতটা প্রতিকূল অবস্থায় চিকিৎসাবিদ্যা অর্জনে নারীদের কি ফরযে কিফায়া আদায় করার উদ্দেশ্যে যাওয়া উচিত? যদি উচিত না হয়, তবে বর্তমানে নারীদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে হুকুম কি হবে?

প্রশ্ন গ:

নারীদের জন্য সহশিক্ষার পরিবেশে থেকে পড়াশোনা করা উচিত কিনা? যদি পড়াশোনা করা উচিত না হয়, তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে মুসলিম নারীদের কোন ধরনের শিক্ষা গ্রহণ করা জরুরি এবং কোন ধরনের পরিবেশে অবস্থান করা উচিত?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

 

উত্তর:

এক. প্রিয় বোন! আপনি আল্লাহর শোকর আদায় করুন, আল্লাহ আপনাকে এই পরিমাণ দ্বীনের বুঝ দান করেছেন, যার জন্য আপনি দুনিয়ার নগণ্য কিছু প্রাপ্তি ছেড়ে আল্লাহর পথে অগ্রসর হওয়ার চিন্তা করছেন। দোয়া করি, আল্লাহ আপনাকে সুপথে পরিচালিত করুন, ঈমানের উপর অটল থাকার তাওফীক দান করুন। আপনি নিম্নোক্ত দোয়াগুলো বেশি বেশি পাঠ করবেন,

رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنْتَ الْوَهَّابُ (8) آل عمران: 8

‘’হে আমাদের রব! হেদায়াত দান করার পর আমাদের অন্তরগুলোকে বক্র করে দিও না। তোমার পক্ষ থেকে আমাদেরকে রহমত দান কর। নিশ্চয় তুমি মহাদাতা।’’ -সূরা আলে ইমরন: ৮

رَبِّ أَوْزِعْنِي أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِي أَنْعَمْتَ عَلَيَّ وَعَلَى وَالِدَيَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صَالِحًا تَرْضَاهُ وَأَدْخِلْنِي بِرَحْمَتِكَ فِي عِبَادِكَ الصَّالِحِينَ (19) النمل: 19

‘’হে আমার রব! তুমি আমার ও আমার পিতা-মাতার উপর যেসব নেয়ামত দান করেছ, তার শোকর আদায় করার এবং এমন নেক আমল করার তাওফীক দান কর, যা তুমি পছন্দ কর এবং দয়া করে তুমি আমাকে তোমার সালিহ (নেক) বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করো!’’ -সূরা নামল: ১৯

দুই. আসলে একজন মুসলিম ছাত্র বা ছাত্রীর জন্য বর্তমান ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রগুলোর প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় পড়াশোনার ক্ষেত্রে আপনি সমস্যাটি যেভাবে উপলব্ধি করেছেন, এমনটি হওয়াই স্বাভাবিক। সেখানে একজন ছাত্রের জন্য দ্বীন রক্ষা করে পড়াশোনা করা যত কঠিন, একজন ছাত্রীর জন্য তা আরও বেশি কঠিন। বরং অসম্ভবপর প্রায়। শিক্ষাপদ্ধতি সহশিক্ষা হওয়ায়, এখানে পর্দার ফরজ বিধান লঙ্ঘিত হওয়ার পাশাপাশি অসংখ্য হারামে লিপ্ত হওয়া অনিবার্য। শিক্ষা গ্রহণের জন্য এভাবে প্রতিনিয়ত হারামে লিপ্ত হওয়ার অনুমোদন শরীয়তে নেই।

তিন. আরও গুরুতর বিষয় হচ্ছে, এদেশের প্রচলিত ধারার পুরো শিক্ষাব্যবস্থাই সেক্যুলার ও বস্তুবাদি কুফরি চিন্তাদর্শনের ভিত্তিতে গড়া এবং এই শিক্ষাব্যবস্থা তাদের কুফরি রাষ্ট্রব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তিমূল। এর অন্যতম লক্ষ্যই হচ্ছে, একজন মুসলিম নামে মুসলিম থাকলেও, আকীদা বিশ্বাস ও চিন্তা-চেতনায় হয়ে উঠবে একজন বস্তুবাদি সেক্যুলার মুরতাদ কিংবা নাস্তিক। সে নিজেকে মুসলিম দাবি করলেও অন্য সব কুফরি ধর্মকে সম্মান করা জরুরি মনে করবে। মসজিদে গিয়ে জামাআতের সঙ্গে সালাত আদায় করলেও; সমাজ, রাষ্ট্র ও আইন আদালতে ইসলামকে অচল মনে করবে। ইসলামের বিধানকে উন্নতি ও অগ্রগতির অন্তরায় মনে করবে। ইসলাম ধর্ম ও কুফরি ধর্মকে সমমর্যাদার মনে করবে। ইসলামের অনেক বিধানকে সেকেলে, অচল, পশ্চাতপদ ও বর্বর মনে করবে। ইসলামী বিধানের মোকাবেলায় পশ্চিমাদের বিধানকে যুগোপযোগী, আধুনিক ও কল্যাণকর মনে করবে। প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার এসব ফলাফল আজ আমাদের চোখের সামনে। যারাই এই শিক্ষাব্যবস্থার কাছে নিজেকে সঁপে দিচ্ছেন, তারাই আজ ঈমানহারা হচ্ছেন। আল্লাহর বিশেষ করুণায় কেউ বেঁচে গেলে ভিন্ন কথা।

চার. ঈমান রক্ষা করা, পর্দা করা এবং হারাম থেকে বেঁচে থাকা ফরজে আইন। স্বাভাবিক অবস্থায় ফরজে কেফায়া আদায় করার জন্য একটি ফরজে আইনও লঙ্ঘন করা জায়েয নয়। একাধিক ফরজে আইন লঙ্ঘন করা বা ঈমানকে ঝুঁকিতে ফেলার তো প্রশ্নই আসে না। তাছাড়া বর্তমানে মুসলিমদের মধ্যে কিছু নারী ডাক্তার থাকায় ফরজে কেফায়া পরিপূর্ণরূপে না হলেও মোটামুটি আদায় হওয়ার মতো ব্যবস্থা আছে বলা যায়। বাকিটা পূর্ণ করার জন্য ইতিমধ্যে যারা ডাক্তার হয়ে গেছেন, আপাতত তাদেরকে আমরা দাওয়াত দিয়ে দ্বীনের পথে আনার চেষ্টা করতে পারি।

 

পাঁচ. পিতা-মাতার আনুগত্য জরুরি। তবে তা শরীয়াহ সম্মত বিষয়ে সীমাবদ্ধ। শরীয়াহ পরিপন্থি বিষয়ে পিতা-মাতার আনুগত্য জায়েয নয়।

হাদীসে এসেছে,

عن علي، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا طاعة لبشر في معصية الله». –صحيح البخاري (7257) ، صحيح مسلم (1840) مصنف ابن أبي شيبة (34998) واللفظ له.

 “আলী (রাযি) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তায়ালার অবাধ্য হয়ে কোনো মানুষের আনুগত্য করা যাবে না।” –সহীহ বুখারী: ৭২৫৭; সহীহ মুসলিম: ১৮৪০; মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা: ৩৪৯৯৮

উমারাহ রহ. বলেন,

نزل معضد إلى جنب شجرة، فقال: ما أبالي أطعت رجلا في معصية الله، أو سجدت لهذه الشجرة من دون الله. -مصنف ابن أبي شيبة: 34403

“(বিশিষ্ট তাবেয়ী) মি’দাদ (রহ) একটি গাছের পাশে অবতরণ করেন। অত:পর তিনি বলেন, আল্লাহর অবাধ্য হয়ে কোন মানুষের আনুগত্য করা, আর আল্লাহর পরিবর্তে এই গাছকে সিজদা করা আমার নিকট বরাবর।” -মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা: ৩৪৪০৩

 

ছয়. সুতরাং এ অবস্থায় আপনি আপনার দ্বীন ও ঈমান রক্ষার জন্য পিতা-মাতার কথা অমান্য করে মেডিক্যাল পড়া বাদ দিলে, আল্লাহর কাছে পিতা-মাতার অবাধ্য গণ্য হবেন না। বরং এটাই আপনার জরুরি করণীয় এবং এতে আল্লাহ খুশি হবেন ইনশাআল্লাহ। অতএব আপনি নির্দ্বিধায় আল্লাহর উপর ভরসা করে সাহসিকতার সঙ্গে দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিয়ে নিন এবং মেডিক্যাল পড়া বন্ধ করে দ্বীনি ইলম অর্জন শুরু করতে পারেন। আর আপনার পিতা-মাতাকে ধীরে ধীরে বিষয়গুলো বুঝানোর চেষ্টা করুন। আপনি তাদের ব্যাপারে যে আশঙ্কা করছেন যে, তারা আপনার এই সিদ্ধান্তের কথা শুনলে স্ট্রোক কিংবা হার্ট এ্যাটাক করবেন, আল্লাহর কাছে আশা রাখুন, এমনটি হবে না ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ অবশ্যই আপনার সাহায্য করবেন ইনশাআল্লাহ। কোরআনে কারীমে ইরশাদ হচ্ছে,

{وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجًا (2) وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ وَمَنْ يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ إِنَّ اللَّهَ بَالِغُ أَمْرِهِ قَدْ جَعَلَ اللَّهُ لِكُلِّ شَيْءٍ قَدْرًا (3)} [الطلاق: 2، 3]

“যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার পথ খুলে দেন এবং তাকে এমনভাবে রিযিক দান করেন, যা সে কল্পনাও করে না। যে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে, আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট হন। আল্লাহ তাঁর বিষয় পূর্ণ করেই ছাড়েন। সবকিছুর জন্যই তিনি একটি সীমা নির্ধারিত করেছেন।” -সূরা তালাক: ২-৩

ইমাম তাবারি (রহ) বর্ণনা করেন,

 

أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ كَانَ يَقُولُ: ….. أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ: لَا يَقْدِرُ رَجُلٌ عَلَى حَرَامٍ ثُمَّ يَدَعُهُ، لَيْسَ بِهِ إِلَّا مَخَافَةُ اللَّهِ، إِلَّا أَبْدَلَهُ اللَّهُ فِي عَاجِلِ الدُّنْيَا قَبْلَ الْآخِرَةِ مَا هُوَ خَيْرٌ لَهُ مِنْ ذَلِكَ. – تفسير الطبري = جامع البيان عن تأويل آي القرآن ط هجر 14/ 593

“…রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন, যে কোনো ব্যক্তি কোনো হারাম বিষয়ে সক্ষম হয়, তারপর একমাত্র আল্লাহর ভয়ে তা পরিহার করে, তাকে আল্লাহ আখেরাতে যাওয়ার পূর্বে দুনিয়াতেই এমন বস্তু দান করেন, যা তার চেয়ে উত্তম।” -তাফসীরে তাবারী: ১৪/৫৯৩

ইমাম বায়হাকী (রহ) বর্ণনা করেন,

 – 832أَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِرٍ الْفَقِيهُ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حَمْشَاذٍ، حَدَّثَنَا الْحَارِثُ بْنُ أَبِي أُسَامَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو النَّضْرِ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، عَنْ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو قَتَادَةَ، وَأَبُو الدَّهْمَاءِ، قَالا : أَتَيْنَا عَلَى رَجُلٍ مِنْ أَهْلِ الْبَادِيَةِ ، فَقَالَ الْبَدَوِيُّ : أَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِيَدِي، فَجَعَلَ يُعَلِّمُنِي مِمَّا عَلَّمَهُ اللَّهُ، وَكَانَ يَقُولُ : إِنَّكَ لَنْ تَدَعَ شَيْئًا اتِّقَاءً لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ إِلاَّ أَعْطَاكَ اللَّهُ خَيْرًا مِنْهُ. الآداب للبيهقي: 2/ 8، بترقيم الشاملة آليا

 

“… আবু কাতাদা ও আবুদ দাহমা রাহিমাহুমাল্লাহ বলেন, আমরা এক বেদুঈন (সাহাবী)-এর নিকট গেলাম। তিনি বললেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার হাত ধরলেন এবং আল্লাহ তাঁকে যা শিখিয়েছেন, তা থেকে আমাকে শেখাতে লাগলেন। তিনি বললেন, তুমি আল্লাহর ভয়ে যে কোনো বিষয় পরিহার করবে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাকে তার চেয়ে উত্তম কিছু দান করবেন।” -আল-আদাব, বায়হাকী: ২/৮

আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (উফিয়া আনহু)

১৪-০৫-১৪৪৩ হি.

১৯-১২-২০২১ ঈ.