উলামা-মাশায়েখ, শায়খ হাবিবুল্লাহ নাদিম হাফিযাহুল্লাহ, সংশয় নিরসন

আমরা এক -শায়খ হাবিবুল্লাহ নাদিম (হাফিজাহুল্লাহ)

হানাফি বা সালাফি, মাতুরিদি বা আসারি : জিহাদি কাফেলায় আমরা সবাই অভিন্ন দেহের মতো -শায়খ হাবিবুল্লাহ নাদিম (হাফিজাহুল্লাহ)

আমরা এক

শায়খ হাবিবুল্লাহ নাদিম (হাফিজাহুল্লাহ)

 

বিগত মাসে ইমারাতে ইসলামিয়্যাহ আফগানিস্তানের অফিসিয়াল প্রকাশনা সংস্থা আলইমারাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ অডিও প্রকাশ করে। সেই অডিওর শিরোনাম ছিল : ‘সালাফি উলামা বাইয়াত’। অর্থাৎ ইমারাতে ইসলামিয়্যাহর উদ্দেশে প্রদত্ত সালাফি আলিমগণের বাইয়াত। মাজাল্লা : নওয়ায়ে আফগান জিহাদের এপ্রিল সংখ্যায় দুই পৃষ্ঠাব্যাপী সেই বিবরণ উল্লেখিত হয়। আমরা বাংলাদেশে জিহাদ সমর্থক ভাইদের উদ্দেশে সেই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা অবিকৃতভাবে উপস্থাপন করছি। আল্লাহ যদি চান, উম্মাহর এই ক্রান্তিকালে নিজেদের মানহাজ পরিশুদ্ধকরণে এটি বিরাট অবদান রাখবে।

 

তোমরা আহলুস সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত হও

রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন :

فَإِنَّهُ مَنْ يَعِشْ مِنْكُمْ بَعْدِي فَسَيَرَى اخْتِلاَفًا كَثِيرًا فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الْمَهْدِيِّينَ الرَّاشِدِينَ تَمَسَّكُوا بِهَا وَعَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ

‘তোমাদের মধ্যে যারা আমার পরে জীবিত থাকবে, তারা অচিরেই প্রচুর মতবিরোধ দেখতে পাবে। তখন তোমরা অবশ্যই আমার সুন্নাহ এবং আমার হিদায়াতপ্রাপ্ত খলিফাগণের সুন্নাহ অনুসরণ করবে, তা দাঁত দিয়ে কামড়ে আঁকড়ে থাকবে।’[1]

আলিমগণ এই হাদিসের ব্যাখ্যায় লিখেছেন, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, তোমরা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকবে। আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত হলো উম্মাহর সেই ‘মাসলাক’ (আদর্শ) ও ‘তবকা’ (স্তর), যাদের অধীনে অনেক ‘মাশারিব’ ও ‘মাকাতিবে ফিকর’ (বিভিন্ন চিন্তা-চেতনা, ধারা-উপধারা ও পথ-পদ্ধতি)-এর সম্মিলন ঘটে। (আকিদা ও ফিকহে) হানাফি হোক বা সালাফি, হায়াতি হোক বা মামাতি, পাঞ্জ পিরি হোক বা সালাফি, শাফেয়ি হোক কিংবা মালিকি বা হাম্বলি—এ সবই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের ছায়াদার বৃক্ষের শাখা-প্রশাখা, তার কিশলয় ও পত্রপল্লব। সকল ধারার মূল উৎস হলো কুরআন ও সুন্নাহ। দ্বীনের শাখাগত বিষয়ে সাহাবিগণ রা.-এর মধ্যেও মতবিরোধ হয়েছিল; যে ব্যাপারে দারুল উলুম দেওবন্দের অর্ধ শতাব্দীর মুহতামিম হাকিমুল ইসলাম কারি তায়্যিব রহ. বলেন :

‘সাহাবিগণের পারস্পরিক বিরোধের ক্ষেত্রে ভুল ও সঠিকের দ্বন্দ্ব হয়েছে; হক ও বাতিল কিংবা আনুগত্য ও অবাধ্যতার নয়। আর এ কথা তো সর্বজনবিদিত যে, মুজতাহিদ ভুল করলেও প্রতিদান পায়; তিরস্কার নয়।’[2]

ব্যাপকভাবে লক্ষ করলে দেখা যায়, আজকাল আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মধ্যে আপসে যে মতবিরোধগুলো দৃষ্টিগোচর হচ্ছে, তার অনেকগুলো সাহাবিযুগ থেকে অদ্যাবধি অবিচ্ছিন্নভাবে চলে আসছে। এসব শাখাগত মতবিরোধকে কেন্দ্র করে যারা বিভেদ উসকে দেয়, তাদের ব্যাপারে জনৈক বড় সুন্দর বলেছেন :

‘তোমরা নামাজে হাত নাভীর ওপরে বাঁধবে নাকি নিচে—এ নিয়ে আপসে লড়াই করো। অথচ তোমাদের দুশমন কুফফারগোষ্ঠী তোমাদের সবার হাতই কেটে দিতে চায়!’

আহলুস সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত মুসলিম উম্মাহর যত তবকা (স্তর) আছে, তারা সবাই এক সমুদ্র থেকে প্রবাহিত নদীর মতো। তাদের মধ্যে যত বর্ণ ও ধারা আছে, তারা সবাই একই তাসবিহের দানার মতো। তারা সকলে এক দেহেরই বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ। সবগুলো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ মিলেই দেহ গঠিত হয়। দেহের কোনো অঙ্গ অপর অঙ্গকে কেটে ফেললে তা আর বিনির্মাণ করার সক্ষমতা রাখে না। আহলুস সুন্নাহর সকল ধারা একই অন্তরের অভিন্ন আধার। এর কোনো একটি ধমনীও যদি বন্ধ হয়ে যায়, তবে গোটার মৃত্যু অপরিহার্য হয়ে পড়ে। কুরআন ও সুন্নাহর একনিষ্ঠ অনুসারী এ সকল ধারার অবস্থাও অনুরূপ। ভালো-মন্দ সব ধারার মধ্যেই কম-বেশি পাওয়া যায়; তবে ভুলে গেলে চলবে না, সবার উৎসমূল কিন্তু একই কুরআন ও সুন্নাহর অনুকরণ, কল্যাণ ও সফলতার অনুসরণ।

 

ভালোবাসাঘৃণার মাপকাঠি দলান্ধতা নয়

যারা শাখাগত মতবিরোধকে কেন্দ্র করে বিভেদ উসকে দেয়, শাখাগত মতবিরোধকে কেন্দ্র করে অন্যদের কাফির ও ফাসিক বলে বেড়ায়, নিজেদেরকে একমাত্র হকের ঠিকাদার আখ্যায়িত করে অন্যদেরকে গোমরাহ বলে প্রচার করে, তারা সিরাতে মুসতাকিম (দীনের সরল পথ) এবং মেজাজে শরিয়ত থেকে বিচ্যুত, প্রান্তিক চিন্তাধারা দ্বারা প্রভাবিত। কারও ভুল বা মন্দ আচরণের কারণে পুরো ধারাকে গলদ এবং বাতিল বলে আখ্যায়িত করা মূলত সেসব খারাপ মানুষের অন্ধ অনুকরণ ও পক্ষপাতদুষ্ট সমর্থনের ফল, যারা এসব ধারার মধ্যে ঘাপটি মেরে লুক্কায়িত থাকে। এরকম ঢালাও বিরোধিতার ফল এই হয় যে, আমার অস্বীকৃত ধারার অনুসারী বিপুল পরিমাণ হকপন্থী ও দীনদরদী মনীষীও অবচেতনে প্রত্যাখ্যাত হয়; অথচ খোঁজ নিলে দেখা যাবে, তাদের সংখ্যাটাই সর্বাধিক ছিল। জনৈক আলিম ফিতনার বড় সুন্দর সংজ্ঞা দিয়েছেল : ‘ফিতনা হলো মন্দদের প্রত্যাখ্যান করতে গিয়ে ভালোদেরও প্রত্যাখ্যান করা’।

 

দলান্ধতা অন্যায় সাম্প্রদায়িকতা যেকোনো আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ার অন্যতম কারণ

উম্মাহর যেই বিপ্লব বা আন্দোলনের মধ্যেই এই দলান্ধতা ও অন্যায় সাম্প্রদায়িকতা অনুপ্রবেশ করেছে, চিরকালই তা ব্যর্থ ও অসফল হয়েছে। আল্লাহ না করুন, কোনো জিহাদি আন্দোলনের মধ্যে যদি এই দলান্ধতার অনুপ্রবেশ ঘটে, তাহলে এর ক্ষতি ও বরবাদি আরও ব্যাপক ও বিস্তৃত হয়। এটা তো সর্বদা প্রত্যক্ষ করা যায়, দীনের দুশমন যারা, তাগুত ও তাগুতি শাসনব্যবস্থার সহচর যারা, পর্দার আড়াল থেকে তারা এ ধরনের বিভেদ ও দলান্ধতা উসকে দিতে তৎপর থাকে। যদি প্রত্যক্ষভাবে এতে সফল না হয়, তাহলে পরোক্ষভাবে পেছন থেকে এর ইন্ধন জোগাতে থাকে, নাটের গুরু হয় মাঠের খেলোয়ারদের সমর্থন ও সহযোগিতা সরবরাহ করতে থাকে। (র‍্যান্ড কর্পোরেশন প্রকাশিত নথিতেও এ বিষয়টি স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। বিশেষত তারা তাদের ভাষায় ‘ট্রেডিশনালিস্ট’ ও ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ মুসলিমদে মধ্যে সর্বদা দূরত্ব ও বিভেদ জাগিয়ে রাখার ব্যাপারে অনেক সচেষ্ট ও তৎপর থাকবে।)

 

সালাফি হোক বা দেওবন্দি, জিহাদের পথের প্রতিটি পথিকই তাগুতের চোখের কাঁটা

সালাফি আলিম বা দাঈ হোক কিংবা হোক হানাফি ও দেওবন্দি মনীষা, তাগুতি শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে যারাই মুখ খুলবে, যারাই দাজ্জালি ফিতনাগুলোর ব্যাপারে মানুষকে সচেতন করবে, তাগুত অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে তাদেরকে সরিয়ে দিয়েই নিজেদের পথ সাফ করবে। এই দাবির পক্ষে অগণিত দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করা যাবে। মাওলানা হক নেওয়াজ জংভি থেকে শুরু করে আল্লামা ইহসান ইলাহি জহির ও মুফতি নেজামুদ্দীন শামজায়ি, মাওলানা ওলিউল্লাহ কাবুলগ্রামি থেকে শুরু করে মাওলানা আবদুল্লাহ গাজি ও মাওলানা আবদুর রশিদ গাজি (আল্লাহ তাদের কবরসমূহকে আলোকিত করুন)—এ সকল বিদগ্ধ মনীষীদের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পেছনে তাগুতের সরাসরি হস্তক্ষেপ ছিল।

 

ইমারাতে ইসলামিয়্যাহ্ বৈশিষ্ট্য

আলহামদুলিল্লাহ, আমিরুল মুমিনিন মোল্লা মুহাম্মাদ উমর মুজাহিদ রহ.-এর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত ইমারাতে ইসলামিয়্যাহ আফগানিস্তান আল্লাহর অনুগ্রহে এ ধরনের ‘আসাবিয়্যাহ’ (সাম্প্রদায়িকতা, দলান্ধতা ও অন্যায় পক্ষপাতমূলক আচরণ) থেকে মুক্ত ও পবিত্র। ইমারাতে ইসলামিয়্যাহ্‌র প্রসঙ্গ উত্থাপন এক্ষেত্রে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বর্তমান সময়ে পৃথিবীর কোনো ভূমিতে যদি শাসনব্যবস্থা ও বিচারব্যবস্থা থেকে শুরু করে সবক্ষেত্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত থাকে, তবে তবে তা ইমারাতে ইসলামিয়্যাহ্‌র আকারে গঠিত আফগানিস্তানের ভূমিতেই প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। ইসলামি হুকুমত, ইসলামি ইমারত এবং ইসলামি খিলাফত কখনো বিশেষ চিন্তাধারার প্রতিনিধি হয় না; বরং তা সর্বদা ইসলাম ও আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের প্রতিনিধিত্ব করে এবং তাদের ইহলৌকিক ও পারলৌকিক অধিকারসমূহ সংরক্ষণ করে। তা কখনো হানাফি আকিদা ও ফিকহের পতাকা বহন করে এবং হানাফি মাযহাবের অনুসারীদের সঙ্গে নিয়ে যারা হানাফি নয় তাদের বুকে খঞ্জর চালায় না। একইভাবে তা কখনো সালাফিয়্যাতের পতাকা ধারণ করে যারা সালাফি নয় তাদেরকে কাফির বা ফাসিক অভিধায় অভিহিত করে না। ফকিহগণ লিখেছেন, খলিফা, সুলতান ও হাকিম কোনো বিশেষ চিন্তাধারা বা নির্দিষ্ট ফেরকার প্রতিনিধি হয় না। তাদের জন্য কোনো ধারার পক্ষে আর কোনো ধারার বিপক্ষে প্রান্তিক আচরণ করারও অনুমতি নেই। তাদের জন্য কারও পক্ষপাতদুষ্ট সমর্থন আবার কারও অন্যায় বিরুদ্ধাচরণ করারও সুযোগ নেই। তারা পুরো মুসলিম উম্মাহর অভিভাবক হন; যাদের অধীনে সকল মুসলমান ঐক্যবদ্ধ থাকে। মুসলিম উম্মাহর মধ্যে মতবিরোধের ধারা এবং বিভিন্ন চিন্তা-চেতনার উদ্ভব ও উন্মেষ ‘খাইরুল কুরুনে’র (সর্বোত্তম প্রজন্ম—সাহাবি, তাবেয়ি ও তাবে তাবেয়ি) সময় থেকে চলে আসছে। মুসলিম উম্মাহর সাহায্য-সহযোগিতায় অবদান রাখা এবং ইসলাম-ঈমান ও দ্বীন-শরিয়তের পৃষ্ঠপোষকতা করার ক্ষেত্রে ইমারাতে ইসলামিয়্যাহ আফগানিস্তান সুউচ্চ আদর্শের প্রতিভূ।

বর্তমানে ইমারাতে ইসলামিয়্যাহ আফগানিস্তান আমিরুল মুমিনিন শাইখুল হাদিস ওয়াত তাফসির মাওলানা হিবাতুল্লাহ আখন্দজাদাহ (হাফিজাহুল্লাহ)-এর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। এ সময়ে ইমারাতে ইসলামিয়্যাহ্‌র পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সালাফি উলামায়ে কেরামের বাইয়াত গ্রহণ করা এবং অফিসিয়ালভাবে তা প্রচার করা ইমারাতে ইসলামিয়্যাহ্‌র ইনসাফ, হিকমত এবং দূরদর্শিতার প্রোজ্জ্বল সাক্ষী হয়ে থাকবে। প্রচারিত অডিওতে সালাফি আলিমগণ শায়খ আবদুল আজিজ নুরিস্তানি (হাফিজাহুল্লাহ)-এর নেতৃত্বে বাইয়াত নবায়ন প্রসঙ্গে বলেন :

‘“আমরা তো ইমারাতে ইসলামিয়্যাহ্‌র প্রাথমিক যুগ (মোল্লা উমর রহ.-এর নেতৃত্বকাল) থেকেই এর সঙ্গে যুক্ত আছি। আমরা সালাফি আলিমরা ইমারাতের বিরুদ্ধাচরণ করিনি। আমরা সালাফি আলিমরা এই মর্মে ফাতওয়া দিয়েছি, ইমারাতে ইসলামিয়্যাহ আমাদের ইমারত এবং তা ইসলামি শাসন। যে-কেউ এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে, তার বিরুদ্ধে জিহাদ করা হবে।” সালাফি আলিমগণের আকাবির যারা, তারা স্বহস্তে এই কথাগুলো লিখেছেন এবং এর ওপর স্বাক্ষর করেছেন। আমরা এখনো ইমারাতের সঙ্গে উল্লিখিত অঙ্গীকার এবং আকিদার ওপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত আছি। আমরা ইমারাতের সঙ্গে কোনো ইখতিলাফ রাখি না। আমরা ইমারাতকে নিজেদের আমির মনে করি এবং নিজেদেরকে ইমারাতের প্রজা হিসেবে বিবেচনা করি। ইমারাতের বাইয়াত প্রসঙ্গে আমাদের অবস্থান হলো, আমাদের আলিমগণ পূর্বেই ইমারাতকে বাইয়াত দিয়ে রেখেছেন। যাদের মধ্যে শায়খ আমিনুল্লাহ পেশাওয়ারি, শায়খ হায়াতুল্লাহ, শায়খ এনায়াতুর রহমান প্রমুখ সবিশেষ উল্লেখযোগ্য।

বাইয়াত তো আমরা পূর্বেই প্রদান করেছি। এখন নতুন করে এর নবায়নের প্রসঙ্গ কেন আসল? এর কারণ হচ্ছে, ইহুদি-খ্রিষ্টানরা অনেক ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের জাল বিছিয়ে রাখে। এতদ্‌সত্ত্বেও আল্লাহর অনুগ্রহে তারা ইমারাতে ইসলামিয়্যাহর মোকাবিলা করতে সমর্থ হয় না। তারা নিজেদের অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য এক দল ও ফেরকার উদ্ভব ঘটিয়েছিল, যারা আদ-দাওলাতুল ইসলামিয়্যাহ বা দায়েশ নামে পরিচিত। তারা যদিও বাহ্যিকভাবে জোরে আমিন বলে এবং রফয়ে ইয়াদাইন করে, কিন্তু সালাফি মতাদর্শের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। এ ধরনের উগ্র চিন্তা-চেতনার বাহকদের নিন্দা আমরা পূর্ব থেকেই করে এসেছি, এখনো করছি এবং আগামীতেও করতে থাকব ইনশাআল্লাহ। আমরা সালাফি হই বা হানাফি, আমরা এক ও অভিন্ন।’

সেই মজলিসেই শায়খ ফজলে রাব্বি (হাফিজাহুল্লাহ) বলেন :

‘আমাদের দুয়া, সমর্থন ও সহযোগিতা ইমারাতে ইসলামিয়্যাহ্‌র সাথে রয়েছে। আমরা প্রত্যাশা করি, ইমারাত তার পুরো শক্তি ও প্রতাপের সাথে প্রতিষ্ঠিত হোক, ইমারাত সারা পৃথিবীর জন্য এক দ্বীনি নমুনা ও আদর্শে পরিণত হোক এবং আল্লাহ তাআলা গোটা পৃথিবীতে ইমারাত কায়েম করে দেন।’

সেই মজলিসে ইমারাতে ইসলামিয়্যাহ্‌র পক্ষ থেকে দায়িত্বশীল হিসেবে সভাপতিত্ব করেন দাওয়াত ও ইরশাদ কমিশনের মাসউল শাইখুল হাদিস মাওলানা মুহাম্মাদ খালেদ (হাফিজাহুল্লাহ); যিনি একজন হানাফি আলিম।

আল্লাহ তাআলা ইমারাতে ইসলামিয়্যাহকে আরও শক্তি ও তামকিন দান করুন। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে ফুরুয়ি ইখতিলাফ থেকে বেঁচে উত্তম আখলাক গঠন করার তাওফিক দান করুন। উম্মাহর সালাফ তথা সাহাবায়ে কেরাম এবং সম্মানিত ইমামগণের অনুসরণে আদর্শিক মানহাজ গঠন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

 

 

 

[1] সুনানু আবি দাউদ : ৪৬০৭; সুনানুত তিরমিজি : ২৬৭৬

[2] মাসলাকে উলামায়ে দেওবন্দ : ২৫ (তায়্যিব পাবলিশার প্রকাশিত)