ফাতওয়া  নং  ৬৮

পুরুষদের জন্য কি বাড়িতে ইতেকাফ করার অবকাশ আছে? -মুফতি আবু ‍মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (হাফিযাহুল্লাহ)

পুরুষদের জন্য কি বাড়িতে ইতেকাফ করার অবকাশ আছে? -মুফতি আবু ‍মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (হাফিযাহুল্লাহ)

পুরুষদের জন্য কি বাড়িতে ইতেকাফ করার অবকাশ আছে?

প্রশ্ন:

বর্তমানে আমরা অনেকে কোয়ারেন্টাইনে আছি, যার দরুন নিয়মিত বাড়িতেই সালাত আদায় করছি, কিংবা অনেক সময় আমরা নিরাপদ হাউসে থাকার কারণে মসজিদে গিয়ে সালাত আদায় করতে পারি না। ধারাবাহিক অনেকদিন ওই বাড়ি বা মাদরাসার রুমেই থাকতে হয়। মুহতারামের নিকট জানার বিষয় হল, এমতাবস্থায় ওই রুমে বা বাড়িতে কি (নফল বা ওয়াজিব) ইতিকাফের নিয়ত করা যাবে? না ইতিকাফের জন্য মসজিদ হওয়া শর্ত? তাছাড়া পাঞ্জেগানা মসজিদে কি ইতিকাফ করা যাবে?

উত্তর:

পুরুষের ইতেকাফ সহীহ হওয়ার জন্য শরয়ী মসজিদ শর্ত| তাই বাড়িতে ইতিকাফ করা যাবে না। পাঞ্জেগানা মসজিদও শরয়ী মসজিদ। সুতরাং তাতেও ইতিকাফ করা যাবে। তবে জামে মসজিদে যদি পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের জামাত হয় সে ক্ষেত্রে পাঞ্চেগানা মসজিদ অপেক্ষা জামে মসজিদে ইতিকাফ করা উত্তম।

উল্লেখ্য, কিছু জায়গা আছে, যেগুলোতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের জামাত হয় ঠিক, কিন্তু সেগুলো অস্থায়ী সালাতের জায়গা বা ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গা। সেগুলো শরয়ী মসজিদ নয়। সুতরাং এমন জায়গায় ইতেকাফ সহীহ হবে না।

আল্লাহ তায়ালা বলেন,

وَلَا تُبَاشِرُوهُنَّ وَأَنْتُمْ عَاكِفُونَ فِي الْمَسَاجِدِ

“তোমরা মসজিদে ইতেকাফরত অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করো না। -সূরা বাকারা (০২): ১৮৭

আল্লামা কাসানি রহ. (৫৮৭ হি.) বলেন,

وأما الذي يرجع إلى المعتكف فيه: فالمسجد وإنه شرط في نوعي الاعتكاف: الواجب والتطوع؛ لقوله تعالى {ولا تباشروهن وأنتم عاكفون في المساجد}……وقال الطحاوي: إنه يصح في كل مسجد. بدائع الصنائع، دار الكتب العلمية: 2/ 112-113

“ই’তেকাফের জায়গা সংক্রান্ত শর্ত হল, মসজিদ হওয়া। নফল, ওয়াজিব দুই প্রকারের ই’তেকাফেই তা শর্ত। দলীল আল্লাহ তায়ালার বাণী, ‘তোমরা মসজিদে ইতেকাফরত অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করো না’। ইমাম ত্বাহাবি রহ. বলেছেন, সকল মসজিদেই ই’তেকাফ সহীহ।” -বাদায়েউস সানায়ে: ২/১১২-১১৩, আরো দেখুন ফতোয়া শামী:২/৪৪০, ফাতহুল কাদীর: ২/৩৯৪

উল্লেখ্য, ইতেকাফের আন্তরিক ইচ্ছা ও চেষ্টা থাকা স্বত্বেও জিহাদের কারণে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে ইতেকাফ না করতে পারলে, আল্লাহ তায়ালা ইতেকাফের সওয়াব দিয়ে দিবেন ইনশাআল্লাহ। সুতরাং এ নিয়ে অতি মাত্রায় পেরেশান হওয়ার কোন কারণ নেই। হাদিসে এসেছে, আল্লাহ যাকে সম্পদ দিয়েছেন এবং সে ওই সম্পদ আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অনুযায়ী ব্যয় করে, আর আল্লাহ যাকে সম্পদ দেননি, কিন্তু সে বলে, যদি আল্লাহ আমাকে সম্পদ দিতেন, তবে আমিও তার মত আমল করতাম, তবে উভয়েই সমান সওয়াব পাবে। -জামে’ তিরমিযি : ২৩২৫

আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (উফিয়া আনহু)

২৫-১১-১৪৪১ হি.

১৭-০৭-২০২০২ ইং