ফাতওয়া  নং  ১৪৬

হিন্দুদের পূজায় কি অংশগ্রহণ করা যাবে? -মুফতি আবু ‍মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (হাফিযাহুল্লাহ)

হিন্দুদের পূজায় কি অংশগ্রহণ করা যাবে? -মুফতি আবু ‍মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (হাফিযাহুল্লাহ)

হিন্দুদের পূজায় কি অংশগ্রহণ করা যাবে?

 

প্রশ্ন: হিন্দুদের পূজায় অংশগ্রহণের হুকুম কী?

প্রশ্নকারী-কাশিম

 

উত্তর: হিন্দু বা যে কোনো কাফেরদের পূজা বা ধর্মীয় উৎসব-অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়া হারাম। আর সেই উৎসবের প্রতি সম্মান জ্ঞাপনপূর্বক উপস্থিত হওয়া অথবা তাদের পূজা ও ধর্মীয় প্রথা পালনে অংশ গ্রহণ করা কুফর। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,

{وَالَّذِينَ لَا يَشْهَدُونَ الزُّورَ وَإِذَا مَرُّوا بِاللَّغْوِ مَرُّوا كِرَامًا} [الفرقان: 72]

“(এবং রহমানের বান্দা তারা) যারা ‘যূরে’ উপস্থিত হয় না। আর অনর্থক কর্মকাণ্ডের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলে সসম্মানে পাশ কাটিয়ে চলে যায়।” –সূরা ফুরকান: ৭২

ইমাম ইবনে কাসির রহ. (৭৭৪ হি.) বলেন,

وقال أبو العالية، وطاوس، ومحمد بن سيرين، والضحاك، والربيع بن أنس، وغيرهم: هي أعياد المشركين – تفسير ابن كثير: 6/ 130

 

“আবুল আলিয়া, তাউস, মুহাম্মাদ বিন সিরিন, যাহহাক, রবি বিন আনাস প্রমুখ তাবিয়ি বলেছেন, ‘যূর’ হচ্ছে মুশরিকদের উৎসব।” -তাফসিরে ইবনে কাসির: ৬/১৩০; তাফসিরে বাগাবি: ৩/৪৫৯

ইমাম ফখরুদ্দিন রাযি রহ. (৬০৬ হি.) বলেন:

ويحتمل حضور كل موضع يجري فيه ما لا ينبغي ويدخل فيه أعياد المشركين ومجامع الفساق، لأن من خالط أهل الشر ونظر إلى أفعالهم وحضر مجامعهم فقد شاركهم في تلك المعصية، لأن الحضور والنظر دليل الرضا به. اهـ -التفسير الكبير: 24/485

“আয়াতে ‘যূর’ দ্বারা প্রত্যেক এমন জায়গা উদ্দেশ্য হতে পারে যেখানে অনুচিত কাজ সংঘটিত হয়। মুশরিকদের উৎসব এবং পাপাচারীদের মিলনমেলাও এর অন্তর্ভুক্ত। কেননা যে অবাধ্যদের সাথে মেলামেশা করে এবং তাদের কর্মকাণ্ড পরিদর্শন করে, তাদের সমাবেশে উপস্থিত হয়, সেও তাদের সঙ্গে উক্ত অপরাধে অংশ নিল। উপস্থিত হওয়া ও পরিদর্শন করা তার প্রতি সন্তুষ্টির প্রমাণ।” –তাফসিরে কাবীর: ২৪/৪৮৫

উমর রা. বলেন:

اجتنبوا أعداء الله في عيدهم. –السنن الكبرى للبيهقي: 18862

“তোমরা আল্লাহর দুশমনদের উৎসবগুলোতে তাদের থেকে দূরে থাক।” – আসসুনানুল কুবরা: ১৮৮৬২

আল্লামা ইবনে নুজাইম রহ. (৯৭০ হি.) বলেন:

يكفر … بخروجه إلى نيروز المجوس والموافقة معهم فيما يفعلون في ذلك اليوم وبشرائه يوم النيروز شيئا لم يكن يشتريه قبل ذلك تعظيما للنيروز لا للأكل والشرب وبإهدائه ذلك اليوم للمشركين ولو بيضة تعظيما لذلك اليوم … اتفاقا. اهـ -البحر الرائق شرح كنز الدقائق ومنحة الخالق وتكملة الطوري: 5/ 133، الهندية: 2/276

“অগ্নিপূজকদের নববর্ষে অংশগ্রহণ করলে এবং তাদের সাথে তাদের ওই দিনের কার্যাবলীর প্রতি সম্মতি জ্ঞাপন করলে অথবা শুধুমাত্র নববর্ষের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে সেদিন কিছু খরিদ করলে, যা সে খরিদ করার ছিল না এবং তা পানাহারের জন্যও নয়, এমনিভাবে ওই দিনের সম্মানার্থে কোনো মুশরিককে হাদিয়া প্রদান করলে; চাই তা একটা ডিমই হোক না কেন, সর্বসম্মতভাবে কাফের হয়ে যাবে।” –আলবাহরুর রায়িক: ৫/১৩৩; হিন্দিয়া: ২/২৭৬

আল্লামা যফর আহমদ থানভি রহ. বলেন,

ہندؤوں کا میلہ اگر مذہبی ہو تو اس میں شرکت جائز نہیں اور نہ مسلمانوں کو ان کے ایسے میلے میں اپنی دوکان لے جانی چاہئے۔ باقی سودا خرید نے میں دونوں قول ہیں۔ بعض فقہاء نے اس کو بھی منع کیا ہے اور بعض نے کہا ہے کہ اگر معمول کے مطابق ضروریات خریدی جائیں اور اس میلہ کی وجہ سے خاص کوئی چیز نہ خریدی جائے تو جائز ہے مگر احتیاط اسی میں ہے کہ ان کے مذہبی میلہ میں سے کچھ بھی نہ خریدے کیونکہ خریداروں سے بھی میلہ کی رونق بڑھتی ہے اور کفّار کے مذہبی میلہ کی رونق کو بڑھانا مناسب نہیں۔ ہاں اگر تجارتی میلہ ہو جیسے بعض جگہ جانوروں کی تجارت کے لئے میلہ لگتا ہے۔ اس میں جانے اور خرید وفروخت کرنے میں مضائقہ نہیں بشرطکیہ ناچ رنگ وغیرہ سے دور رہے۔ واللہ اعلم                                                                                                

حرره الاحقر ظفراحمد                                                                                             ۲۴؍جمادی الاولیٰ  ۴۰ ؁ھ –امداد الاحكام: 7/172

 

“হিন্দুদের মেলা-উৎসব যদি ধর্মীয় হয়, তাতে অংশগ্রহণ জায়েয নেই। তাদের এমন মেলাতে মুসলমানদের জন্য দোকান-পাট নিয়ে না যাওয়া চাই। তবে (মেলা থেকে) সওদাপাতি খরিদ করার ব্যাপারে দু’দিকেই বক্তব্য রয়েছে। কিছু ফকিহ সেটাও নিষেধ করেছেন। কেউ বলেছেন, যদি নিয়মিত প্রয়োজনীয় পণ্য খরিদ করা হয়; মেলার কারণে বিশেষভাবে কিছু ক্রয় না করা হয়, তাহলে জায়েয হবে। কিন্তু সতর্কতা হলো, তাদের ধর্মীয় মেলা থেকে কিছু খরিদ না করা। কেননা ক্রেতাদের দ্বারাও মেলার জৌলুস বৃদ্ধি পায়। আর কাফেরদের মেলার জৌলুস বাড়ানো সঙ্গত নয়। হ্যাঁ, যদি বাণিজ্যিক মেলা হয়, যেমন অনেক জায়গাতে পশু-পাখির বাণিজ্যমেলা বসে, সেখানে যেতে এবং কেনাকাটা করতে সমস্যা নেই। শর্ত হলো নাচ-গান থেকে দূরে থাকতে হবে।” –ইমদাদুল আহকাম: ৭/১৭২; আরা দেখুন: ফাতওয়া দারুল উলুম দেওবন্দ: ১৬/৩৯৮-৩৯৯; ইমদাদুল ফাতাওয়া: ৪/২৬৮-২৭০; আযিযুল ফাতাওয়া, পৃ: ৭১৮; রশিদিয়া, পৃ: ৪৫৫ ও ৪৭১

যফর আহমদ থানভি রহ.এর সময়ে জনৈক হিন্দু তাদের ধর্মীয় প্রথায় স্থানীয় মুসলিদেরকে দাওয়াত করলে, জনৈক মুসলিম এবিষয়ে হযরতের নিকট ফতোয়া তলব করেন। তখন তিনি লিখেন,

مسلمانوں کو اس دعوت میں شریک ہونا جائز نہیں کیونکہ یہ دعوت ہندوؤں کی مذہبی دعوت هے اور كفار كى مذهبى دعوتوں میں شرکت جائز نہیں۔ امداد الاحكام: 7/181

“মুসলমানদের জন্য এই দাওয়াতে শরিক হওয়া জায়েয নেই। কেননা এটা হিন্দুদের ধর্মীয় দাওয়াত। আর কাফেরদের ধর্মীয় দাওয়াতে শরিক হওয়া জায়েয নেই।” –ইমদাদুল আহকাম: ৭/১৮১

আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (উফিয়া আনহু)

০৯-০৬-১৪৪২ হি.

২৩-০১-২০২১ ইং.