ফাতওয়া  নং  ১৪৮

মুসলিম দেশে অবস্থানরত অমুসলিমরা কতটুকু সুযোগ সুবিধা পাবে? -মুফতি আবু ‍মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (হাফিযাহুল্লাহ)

মুসলিম দেশে অবস্থানরত অমুসলিমরা কতটুকু সুযোগ সুবিধা পাবে? -মুফতি আবু ‍মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (হাফিযাহুল্লাহ)

মুসলিম দেশে অবস্থানরত অমুসলিমরা কতটুকু সুযোগ সুবিধা পাবে?    

প্রশ্ন:

মুসলিম দেশে অবস্থানরত অমুসলিমরা ট্যাক্স দিয়ে থাকাকালে কী কী সুযোগ সুবিধা পাবে, আর কী কী সুযোগ সুবিধা পাবে না?

আমি যতটুকু জানি, তারা নতুন কোনো মন্দির বানাতে পারবে না। এছাড়া আর কী কী সুযোগ সুবিধা তারা পাবে না? শরীয়াহর আলোকে জানালে উপকার হবো।

প্রশ্নকারী-তারেক

 

উত্তর:

ইসলামী রাষ্ট্রে জিযিয়া-কর আদায় করে, জান মালের নিরাপত্তা নিয়ে বসবাস করার সুবিধা ভোগকারী কাফেরদেরকে যিম্মি বলা হয়। জিযিয়া গ্রহণের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো, কাফেরদেরকে ইসলামী হুকুমতের অধীনে মুসলমানদের সাহচর্যে থাকার সুযোগ করে দেয়া। যেন তারা একদিকে ইসলামের সত্যতার দলিল-প্রমাণ এবং ইসলামী বিধিবিধানের সৌন্দর্য অবলোকনের সুযোগ পায়, অপরদিকে আপন স্রষ্টা ও মনিব মহান আল্লাহর অকৃতজ্ঞতা এবং ইসলাম গ্রহণ করে তাঁর একমাত্র নির্দেশিত পথে জীবন পরিচালিত না করার কিছু লাঞ্ছনা ও অপদস্থতাও অনুভব করে। যেন এ লাঞ্ছনা ও অপদস্থতা থেকে মুক্তি লাভের বাসনা এবং সত্য ধর্ম গ্রহণের যুগপৎ প্রেরণা তাদেরকে ইসলাম গ্রহণে অনুপ্রাণিত করে এবং ইসলাম গ্রহণ করে ইহকাল ও পরকালের চিরসত্য ও চিরমুক্তির সন্ধান লাভে সৌভাগ্যবান হয়।

জিযিয়ার হেকমত ও তাৎপর্য সম্পর্কে বিখ্যাত মুফাসসির ইমাম রাযী রহ. বলেন,

 

ليس المقصود من أخذ الجزية تقريره على الكفر، بل المقصود منها حقن دمه وإمهاله مدة، رجاء أنه ربما وقف في هذه المدة على محاسن الإسلام وقوة دلائله، فينتقل من الكفر إلى الإيمان …..

لا بد معه من إلحاق الذل والصغار للكفر والسبب فيه أن طبع العاقل ينفر عن تحمل الذل والصغار، فإذا أمهل الكافر مدة وهو يشاهد عز الإسلام ويسمع دلائل صحته، ويشاهد الذل والصغار في الكفر، فالظاهر أنه يحمله ذلك على الانتقال إلى الإسلام، فهذا هو المقصود من شرع الجزية. -التفسير الكبير: 16/27 ط. دار إحياء التراث العربي.

“জিযিয়া গ্রহণের উদ্দেশ্য, কাফেরদেরকে কুফরের ওপর স্থির করা নয়; বরং জিযিয়ার উদ্দেশ্য হলো তার জীবন রক্ষা করা এবং কিছু সময়ের জন্য তাকে অবকাশ দেয়া, যেন সে এসময় ইসলামের সৌন্দর্য ও শক্তিশালী প্রামাণ্যতা সম্পর্কে অবগতি লাভ করে ইসলাম গ্রহণ করতে পারে। …….

জিযিয়া গ্রহণের পাশাপাশি কুফরের কারণে তাকে কিছু লাঞ্ছনা ও অপদস্থতার স্বাদও আস্বাদন করাতে হবে। কেননা বুদ্ধিমান মানুষ স্বভাবতই লাঞ্ছনা ও অপদস্থতার প্রতি বীতশ্রদ্ধ থাকে। তাকে যখন কিছুদিনের জন্য অবকাশ দেয়া হবে এবং সে ইসলামের সম্মান ও প্রভাব-প্রতিপত্তি লক্ষ করবে, দলিল-প্রমাণ শুনবে এবং কুফরের মধ্যে লাঞ্ছনা ও অপদস্থতা প্রত্যক্ষ করবে, স্বভাবতই তা তাকে ইসলাম গ্রহণে অনুপ্রাণিত করবে। এটাই জিযিয়া গ্রহণের উদ্দেশ্য। -তাফসীরে রাযী: ১৬/২৭

হাফেজ ইবনে হাজার রহ. (৮৫২ হি.) সহীহ বুখারীর ভাষ্যগ্রন্থ ফাতহুল বারীতে বলেন,

قال العلماء: الحكمة في وضع الجزية أن الذل الذي يلحقهم يحملهم على الدخول في الإسلام مع ما في مخالطة المسلمين من الاطلاع على محاسن الإسلام. -فتح الباري: 6 : 259 ط. دار الفكر.

“আলেমগণ বলেছেন, জিযিয়া গ্রহণের হেকমত হল, তাতে যে লাঞ্ছনা ও অপদস্থতা থাকবে, তা তাদেরকে ইসলাম গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করবে, পাশাপাশি তারা মুসলমানদের সংস্পর্শে থেকে ইসলামের সৌন্দর্য সম্পর্কে অবগত হবে।” -ফাতহুল বারী: ৬/২৫৯

মাওসূআহ ফিকহিয়্যাহ কুয়েতিয়্যাহ’য় বলা হয়েছে,

وتظهر هذه الحكمة في تشريع الجزية من جانبين :

الأول : الصغار الذي يلحق أهل الذمة عند دفع الجزية. قال إلكيا الهراسي في «أحكام القرآن» : «فكما يقترن بالزكاة المدح والإعظام والدعاء له ، فيقترن بالجزية الذل والذم، ومتى أُخذت على هذا الوجه كان أقرب إلى أن لا يثبتوا على الكفر لما يتداخلهم من الأنفة والعار، وما كان أقرب إلى الإقلاع عن الكفر فهو أصلح في الحكمة وأولى بوضع الشرع.

والثاني : ما يترتب على دفع الجزية من إقامة في دار الإسلام واطلاع على محاسنه. قال الحطاب: (الحكمة في وضع الجزية أن الذل الذي يلحقهم يحملهم على الدخول في الإسلام مع ما في مخالطة المسلمين من الاطلاع على محاسن الإسلام. (الموسوعة الفقهية: 15/158 ط. وزارة الأوقاف)

 “জিযিয়ার বিধানের হেকমত দু’দিক থেকে প্রকাশ পায়,

১. জিযিয়া প্রদানের সময় যিম্মীদের যে লাঞ্ছনা ও অপদস্থতার শিকার হতে হয়। ইমাম আবুল হাসান ইলকিয়া আলহাররাসী রহ. ‘আহকামুল কুরআন’ গ্রন্থে বলেন, ‘যেমনিভাবে যাকাতের সাথে যাকাত প্রদানকারীর জন্য প্রশংসা, সম্মান ও দোয়া সংযুক্ত থাকে, তেমনি জিযিয়ার সাথে লাঞ্ছনা ও অপমান যুক্ত থাকে। আর এভাবে জিযিয়া নেয়া হলেই তা ইসলাম গ্রহণের ক্ষেত্রে সহায়ক হয়। কেননা কাফেররা এতে লাঞ্ছনা ও অপমানবোধ করবে এবং তা হতে মুক্তির জন্য কুফর ছেড়ে ইসলাম গ্রহণ করবে। আর যে বিধান কুফর ছেড়ে ইসলাম গ্রহণে সহায়ক, তা শরীয়তসিদ্ধ হওয়াই যুক্তি ও প্রজ্ঞা সম্মত।’

২. জিযিয়া প্রদান করে কাফেররা দারুল ইসলামে বসবাসের মাধ্যমে ইসলামের সৌন্দর্য সম্পর্কে অবগতি লাভ করতে পারবে। (মালেকী মাযহাবের প্রসিদ্ধ ফকিহ ইমাম) হাত্তাব রহ. বলেন, জিযিয়া গ্রহণের হেকমত হল, তাতে যে লাঞ্ছনা ও অপদস্থতা থাকবে, তা তাদেরকে ইসলাম গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করবে, পাশাপাশি তারা মুসলমানদের সংস্পর্শে থেকে ইসলামের সৌন্দর্য সম্পর্কে অবগত হবে।” -মওসুয়্যাহ ফিকহিয়্যাহ, ১৫/১৫৮ আরও দেখুন, মাবসুতে সারাখসী, ১০/৭৭ দারুল মারেফা, বৈরুত, ১৪১৪ হি.; বাদায়েউস সানায়ে, ৭/১১১ দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, তৃতীয় প্রকাশনা, ১৪০৬ হি.; রদ্দুল মুহতার, আল্লামা শামী, ৪/২০০ দারুল ফিকর, দ্বিতীয় প্রকাশনা, ১৪১২ হি.; আললুবাব ফি ইলমিল কিতাব, ইবনে আদেল হাম্বলী, ১০/৬৮ দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, প্রথম প্রকাশনা, ১৪১৯ হি.

কুরআন কারীম আমাদেরকে কাফেরদের লাঞ্ছনা ও অপদস্থতার সঙ্গে তাদের থেকে জিযিয়া গ্রহণের আদেশ দিয়েছে। ইরশাদ হয়েছে,

قَاتِلُوا الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَلَا بِالْيَوْمِ الْآخِرِ وَلَا يُحَرِّمُونَ مَا حَرَّمَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَلَا يَدِينُونَ دِينَ الْحَقِّ مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ حَتَّى يُعْطُوا الْجِزْيَةَ عَنْ يَدٍ وَهُمْ صَاغِرُونَ –سورة التوبة: 29

“কিতাবীদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে না এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা হারাম করেছেন, তা হারাম হিসেবে মানে না এবং সত্য দ্বীনকে দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করে না, তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করো, যতক্ষণ না তারা লাঞ্ছিত ও অপদস্থ অবস্থায় নিজ হাতে জিযিয়া প্রদান করে।” -সুরা তাওবা: ২৯

এ লাঞ্ছনার পদ্ধতি কেমন হবে, কিভাবে জিযিয়া গ্রহণ করলে যিম্মিরা অপমানিত বোধ করবে, তার বিস্তারিত বিবরণ হাদিস ও আছারে সাহাবার আলোকে ফুকাহায়ে কেরাম লিপিবদ্ধ করেছেন। আমরা এখানে উদাহরণস্বরূপ শুধু একটি হাদিস ও একটি আছার উল্লেখ করছি। তা থেকেই আমরা ধারণা করতে পারবো, দারুল ইসলামে বসবাসকারী যিম্মিরা কী কী সুবিধা পাবে আর কী কী সুবিধা পাবে না।

আবু হোরায়রা রা. থেকে বর্ণিত,

أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «لا تبدءوا اليهود ولا النصارى بالسلام، فإذا لقيتم أحدهم في طريق، فاضطروه إلى أضيقه». -صحيح مسلم: 2167

“ইহুদি ও খ্রিস্টানদেরকে আগে সালাম দিও না। পথে তাদের কারো মুখোমুখী হলে, এমনভাবে চল, যাতে সে তোমার পথ ছেড়ে সঙ্কীর্ণ হয়ে চলতে বাধ্য হয়।” -সহীহ মুসলিম: ২১৬৭ (ইফা: ৫/১৮৪)

 

আব্দুর রহমান ইবনে গানাম রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

 «كتبت لعمر بن الخطاب رضي الله عنه حين صالح أهل الشام: بسم الله الرحمن الرحيم، هذا كتاب لعبد الله عمر أمير المؤمنين من نصارى مدينة كذا وكذا، إنكم لما قدمتم علينا سألناكم الأمان لأنفسنا وذرارينا وأموالنا وأهل ملتنا، وشرطنا لكم على أنفسنا أن لا نحدث في مدينتنا ولا فيما حولها ديرا ولا كنيسة ولا قلاية ولا صومعة راهب، ولا نجدد ما خرب منها، ولا نحيي ما كان منها في خطط المسلمين، وأن لا نمنع كنائسنا أن ينزلها أحد من المسلمين في ليل ولا نهار، وأن نوسع أبوابها للمارة وابن السبيل، وأن ننزل من مر بنا من المسلمين ثلاثة أيام ونطعمهم، وأن لا نؤمن في كنائسنا ولا منازلنا جاسوسا، ولا نكتم غشا للمسلمين، ولا نعلم أولادنا القرآن، ولا نظهر شركا ولا ندعو إليه أحدا، ولا نمنع أحدا من قرابتنا الدخول في الإسلام إن أراده، وأن نوقر المسلمين، وأن نقوم لهم من مجالسنا إن أرادوا جلوسا، ولا نتشبه بهم في شيء من لباسهم من قلنسوة ولا عمامة ولا نعلين ولا فرق شعر، ولا نتكلم بكلامهم، ولا نتكنى بكناهم، ولا نركب السروج، ولا نتقلد السيوف، ولا نتخذ شيئا من السلاح، ولا نحمله معنا، ولا ننقش خواتيمنا بالعربية، ولا نبيع الخمور، وأن نجز مقاديم رءوسنا، وأن نلزم زينا حيث ما كنا، وأن نشد الزنانير على أوساطنا، وأن لا نظهر صلبنا وكتبنا في شيء من طريق المسلمين ولا أسواقهم، وأن لا نظهر الصليب على كنائسنا، وأن لا نضرب بناقوس في كنائسنا بين حضرة المسلمين، وأن لا نخرج سعانينا ولا باعونا، ولا نرفع أصواتنا مع أمواتنا، ولا نظهر النيران معهم في شيء من طريق المسلمين، ولا نجاوزهم موتانا، ولا نتخذ من الرقيق ما جرى عليه سهام المسلمين، وأن نرشد المسلمين، ولا نطلع عليهم في منازلهم.

فلما أتيت عمر رضي الله عنه بالكتاب زاد فيه: وأن لا نضرب أحدا من المسلمين ، شرطنا لهم ذلك على أنفسنا وأهل ملتنا وقبلنا منهم الأمان، فإن نحن خالفنا شيئا مما شرطناه لكم فضمناه على أنفسنا فلا ذمة لنا، وقد حل لكم ما يحل لكم من أهل المعاندة والشقاوة». راجع: معجم ابن المقرى (365) السنن الكبرى للبيهقي (18717) أحكام أهل الملل والردة من الجامع لمسائل الإمام أحمد بن حنبل للخَلَّال (1000) وتفسير ابن كثير: 4/133 ط. دار طيبة  وأحكام أهل الذمة لابن القيم: 3/1159

وقال ابن القيم عقب ذكر هذه الشروط: وشهرة هذه الشروط تغني عن إسنادها، فإن الأئمة تلقوها بالقبول وذكروها في كتبهم واحتجوا بها، ولم يزل ذكر الشروط العمرية على ألسنتهم وفي كتبهم، وقد أنفذها بعده الخلفاء وعملوا بموجبها.

 

“উমর রা. যখন শামবাসীর সঙ্গে চুক্তি করলেন, আমি তাঁকে লিখলাম, ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। এ হচ্ছে শাম দেশের অমুক অমুক নগরের অধিবাসীদের পক্ষ হতে আল্লাহর বান্দা আমীরুল-মুমিনীন উমরকে প্রদত্ত লিখিত চুক্তিপত্র। আপনারা যখন আমাদের নিকট আগমন করলেন, তখন আমরা নিজেদের জন্য, আমাদের সন্তান-সন্ততির জন্য, আমাদের ধন-সম্পদের জন্য এবং আমাদের ধর্মাবলম্বী লোকদের জন্য আপনাদের নিকট নিরাপত্তা প্রার্থনা করলাম। উক্ত নিরাপত্তার বিনিময়ে আমরা প্রতিজ্ঞা করছি, আমরা আমাদের নগরে বা তার চারপাশে কোথাও কোনো নতুন গির্জা ও ইবাদতখানা নির্মাণ করবো না; কোনো পুরাতন গির্জা মেরামত করবো না। ইতিপূর্বে যে গির্জা ও ইবাদতখানা মুসলমানদের নিজস্ব সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছে, সেগুলোকে পুনরায় গির্জা ও ইবাদতখানায় রূপান্তর করবো না। আমাদের কোনো ইবাদখানায় দিনে বা রাতে কোনো মুসলিম অবস্থান করতে চাইলে তাকে বাধা দিবো না। আমাদের গির্জাগুলোর দ্বারসমূহ পথিক ও মুসাফিরদের জন্য উন্মুক্ত রাখবো। কোনো পথিক মুসলিম আমাদের আবাসস্থলের নিকট দিয়ে অতিক্রম করলে তিনদিন পর্যন্ত তার মেহমানদারী করবো। আমাদের গির্জায় বা বাসস্থানে কোনো গুপ্তচরকে আশ্রয় দিবো না। অন্তরে মুসলমানদের সাথে কোনরূপ প্রতারণা লালন করবো না। আমাদের সন্তানদের কুরআন শিখাবো না। প্রকাশ্যে কোনো প্রকার শিরক করবো না, কাউকে শিরকের প্রতি আহবানও জানাবো না। আমাদের কোনো আত্মীয় ইসলাম গ্রহণ করতে চাইলে তাকে বাধা দিবো না। মুসলমানদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবো; কোনো মুসলমান আমাদের মজলিসে বসতে চাইলে আমরা উঠে গিয়ে তার জন্য জায়গা করে দিবো। লেবাস-পোশাকে মুসলিমদের সাদৃশ্য অবলম্বন করব না। তাদের মতো টুপি ও পাগড়ি পরা, জুতো পরা, মাথায় সিঁথি কাটা ইত্যাদি থেকে বিরত থাকব। মুসলিমদের ন্যায় ভাষা ব্যবহার করবো না। মুসলিমদের ন্যায় উপনাম গ্রহণ করবো না। ঘোড়া ও বাহনে গদি ব্যবহার করবো না। গলায় তরবারি ঝুলিয়ে চলাফেরা করবো না; কোনো প্রকার অস্ত্র সঙ্গে রাখবো না; কোনো প্রকার অস্ত্র বহন করবো না। আংটিতে আরবি ভাষায় কিছু লিখব না। মদ বেচা-কেনা করবো না। মাথার সম্মুখভাগের চুল ছেঁটে ফেলবো। যেখানেই থাকি না কেন; সর্বত্র ও সর্বদা নিজেদের বেশ ভূষা অবলম্বন করব। কোমরে পৈতা বাঁধবো। মুসলমানদের রাস্তায় বা তাদের বাজারে ক্রুশ বা নিজেদের ধর্মীয় পুস্তক প্রদর্শন করবো না। গির্জায়ও প্রকাশ্যে ক্রুশ রাখবো না। গির্জায় মুসলিমদের উপস্থিতিতে ঘণ্টা বাজাবো না। ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও উৎসব উপলক্ষে প্রকাশ্যে বের হব না। মৃতদেহ বহন করার সময় উচ্চস্বরে আওয়াজ করবো না। মুসলিমদের পথে মৃতদেহের সঙ্গে আগুন বহন করব না। মুসলমানদের ডিঙ্গিয়ে মৃতদেহ বহন করবো না। মুসলিমদের ব্যবহৃত দাসকে দাস হিসেবে গ্রহণ করবো না। মুসলিম পথিককে পথ দেখিয়ে দিব। কোনো মুসলমানের ঘরে উঁকি মারবো না।

আবদুর রহমান ইবনে গানাম আশআরী রহ. বলেন, উপরোক্ত চুক্তিপত্র নিয়ে আমি উমর রা. এর নিকট পৌঁছলে তিনি তাতে নিম্নোক্ত শর্তগুলো সংযোজন করেন। আমরা কোনো মুসলমানকে প্রহার করবো না। উক্ত শর্তসমূহ মেনে আমরা নিরাপত্তা লাভ করলাম। আমরা যদি কোনো একটি শর্ত ভঙ্গ করি, আপনাদের ওপর আমাদের নিরাপত্তার কোনো দায়িত্ব থাকবে না। তখন আমাদের সাথে শত্রুর ন্যায় আচরণ করা আপনাদের জন্য বৈধ হয়ে যাবে।” -মুজামে ইবনুল মুকরী, হাদিস: ৩৬৫; সুনানে বাইহাকী: ১৮৭১৭; আহকামু আহলিল মিলাল: ১০০০; তাফসীরে ইবনে কাসীর, ইফা: ৪/৫৬৬; আহকামু আহলিয যিম্মাহ: ৩/১১৫৯

والله تعالى أعلم بالصواب

আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (উফিয়া আনহু)

২৪-০৬-১৪৪২ হি.

০৭-০২-২০২১ ইং