ফাতওয়া  নং  ১৫৯

বান্দার হক ফিরিয়ে না দিয়ে দান করে দিলে কি দায়মুক্ত হওয়া যাবে? -মুফতি আবু ‍মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (হাফিযাহুল্লাহ)

বান্দার হক ফিরিয়ে না দিয়ে দান করে দিলে কি দায়মুক্ত হওয়া যাবে? -মুফতি আবু ‍মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (হাফিযাহুল্লাহ)

পিডিএফ ডাউলোড করুন

ওয়ার্ড ডাউনলোড করুন

বান্দার হক ফিরিয়ে না দিয়ে দান করে দিলে কি দায়মুক্ত হওয়া যাবে?

 

প্রশ্ন:

আমি অল্প কিছু দিন হয় দ্বীনের পথে এসেছি। আগে যেসব বান্দার হক নষ্ট করেছি, সে জন্য আমি লজ্জিত। এখন প্রশ্ন হলো, আমি যদি সেই অর্থ তাদেরকে ফিরিয়ে না দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় দান করে দেই তাহলে কি দায়মুক্ত হতে পারব?

প্রশ্নকারী-মুহাম্মাদ উমর

 

উত্তর:

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله، أما بعد:

আপনি যাদের হক নষ্ট করেছেন, তাদেরকে যদি পাওয়া যায় বা চেষ্টা করলে খুঁজে বের করা সম্ভব, তাহলে তাদের হক তাদের কাছেই ফেরত দিতে হবে। ইরশাদ হচ্ছে,

إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَى أَهْلِهَا. –النساء: 58

“আল্লাহ তাআলা তোমাদের আদেশ দিচ্ছেন, তোমরা যেন আমানতসমূহ তার হকদারের হাতে পৌঁছে দাও।” –সূরা নিসা (০৪): ৫৮

অবশ্য এ সম্পদ মালিকদের কাছে যে কোন উপায়ে পৌঁছে দিলেই আপনি দায়মুক্ত হয়ে যাবেন। দেয়ার সময়; আপনি যে তাদের হক নষ্ট করেছেন, এখন সেটা ফেরত দিচ্ছেন, তা জানিয়ে দিতে হবে না। বরং হাদিয়ার নাম দিয়ে বা অন্য কোন উপায়ে হক ফিরিয়ে দিলেও চলবে। পাশাপাশি সুযোগ থাকলে সুনির্দিষ্ট বিষয় না বলে মৌখিক ক্ষমা চেয়ে নেয়াও কাম্য। যেমন কোনো সুযোগে বললেন, ভাই আগে তো দ্বীন বুঝিনি। কত মানুষের হক নষ্ট করেছি, কতজনকে কষ্ট দিয়েছি। আমাকে ক্ষমা করে দিয়েন!

মূল মালিককে না পাওয়া গেলে একইভাবে তাদের ওয়ারিশদের কাছে ফিরিয়ে দেবেন। যতক্ষণ মুল মালিক বা তাদের ওয়ারিশদের পাওয়া যাবে, ততক্ষণ ভিন্ন কোনো সুযোগ নেই। আল্লাহর রাস্তায় বিলিয়ে দেয়ার দ্বারা দায়মুক্ত হওয়া যাবে না।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,

من كانت له مظلمة لأخيه من عرضه أو شيء، فليتحلله منه اليوم، قبل أن لا يكون دينار ولا درهم، إن كان له عمل صالح أخذ منه بقدر مظلمته، وإن لم تكن له حسنات أخذ من سيئات صاحبه فحمل عليه. (صحيح البخاري: 2449)

“যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের সম্ভ্রমহানি বা অন্য কোন বিষয়ে জুলুমের জন্য দায়ী থাকে, সে যেন আজই তার কাছ থেকে দায়মুক্ত হয়ে নেয়, সেদিন আসার পূর্বে, যেদিন তার কোন দিনার বা দিরহাম থাকবে না। তার কোন সৎকর্ম থাকলে জুলুমের সমপরিমাণ সেখান থেকে নিযে নেয়া হবে। কোন সৎকর্ম না থাকলে প্রতিপক্ষের সমপরিমাণ পাপ তার উপর চাপিয়ে দেয়া হবে।” –সহীহ বুখারী: ২৪৪৯

অন্য হাদিসে ইরশাদ করেন-

“من جمع مالا حراما، ثم تصدق به، لم يكن له فيه أجر، وكان إصره عليه”. أخرجه ابن حبان، وقال الشيخ شعيب: إسناده حسن … وأخرجه الحاكم … وصححه، ووافقه الذهبي.

“যে ব্যক্তি হারাম সম্পদ উপার্জন করে তা সাদাকা করল, তাতে তার কোনো সওয়াব হবে না; বরং এর গুনাহ তার উপরই বর্তাবে।” -সহীহ ইবনে হিব্বান: ৩২১৬

হ্যাঁ, যদি হকদার বা তাদের ওয়ারিশদের পরিচয় জানা না থাকে বা খুঁজে বের করা সম্ভব না হয়, তাহলে ওই সম্পদ মালিকের পক্ষ হতে সাদাকা করে দিতে হবে।

তাবেয়ী আবু ওয়ায়েল রহ. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,.

اشترى عبد الله جارية بسبع مئة درهم، فغاب صاحبها ، فأنشده حولا، أو قال: سنة، ثم خرج إلى المسجد فجعل يتصدق ويقول : اللهم فله فإنْ أبى فعليَّ  ثم قال : هكذا افعلوا باللقطة ، أو بالضالة. -مصنف ابن أبي شيبة (22050)، وذكره البخاري في ترجمة الباب في كتاب الطلاق،  باب حكم المفقود في أهله وماله؛ ط. دار طوق النجاة؛ قال الحافظ ابن حجر رحمه الله تعالى: وقد وصله سفيان بن عيينة في جامعه رواية سعيد بن عبد الرحمن عنه، وأخرجه أيضا سعيد بن منصور عنه بسند له جيد أن بن مسعود اشترى جارية الخ قوله “وقال بن عباس نحوه” وصله سعيد بن منصور من طريق عبد العزيز بن رفيع عن أبيه. اهـ فتح الباري 9\430-431

“আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাযি. সাতশ’ দিরহাম দিয়ে একটি দাসী খরিদ করেন। (কিন্তু মূল্য পরিশোধের পূর্বেই) দাসীর মালিক চলে যায়। ইবনে মাসউদ রাযি. এক বছর পর্যন্ত তাকে খোঁজ করেন। এরপর তিনি মসজিদে এসে দাসীর মূল্য সাদাকা করতে শুরু করেন এবং বলতে থাকেন হে আল্লাহ, এই সাদাকা দাসীর মালিকের পক্ষ থেকে। অবশ্য যদি সে (পরবর্তীতে আসে এবং এ সাদাকায় সম্মত না হয় তবে আমি তার) জরিমানা দিতে বাধ্য থাকবো। এরপর তিনি বলেন, তোমরা মালিক না জানা কুড়িয়ে পাওয়া বস্তুর ক্ষেত্রেও এই নীতি অবলম্বন করো।” -মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা: ২২০৫০

ইবনে আবিদিন শামি রহ. (১২৫২ হি.) বলেন,

وإن لم يجد المديون ولا وارثه صاحب الدين ولا وارثه فتصدق المديون أو وارثه عن صاحب الدين برئ في الآخرة –رد المحتار، ج: 4، ص: 283؛ الناشر: دار الفكر-بيروت

“যদি দেনাদার বা তার ওয়ারিশরা পাওনাদার বা তার ওয়ারিশদের না পায়, তাহলে দেনাদার বা তার ওয়ারিশরা পাওনাদারের পক্ষ থেকে দান করে দিলে আখেরাতে দায়মুক্ত হবেন।” –রদ্দুল মুহতার: ৪/২৮৩

فقط، والله تعالى أعلم بالصواب

আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (উফিয়া আনহু)

২১-০৭-১৪৪২ হি.

০৬-০৩-২০২১ ইং