ফাতওয়া  নং  ১৬৯

ইমামদের জন্য তাগুত সরকারের দেওয়া বেতন নেওয়া কি জায়েয হবে? -মুফতি আবু ‍মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (হাফিযাহুল্লাহ)

ইমামদের জন্য তাগুত সরকারের দেওয়া বেতন নেওয়া কি জায়েয হবে? -মুফতি আবু ‍মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (হাফিযাহুল্লাহ)

পিডিএফ ডাউলোড করুন

ওয়ার্ড ডাউনলোড করুন

 

 

ইমামদের জন্য তাগুত সরকারের দেওয়া বেতন নেওয়া কি জায়েয হবে?

 

প্রশ্ন:

তাগুত সরকারের অধীনে যেসব মসজিদ রয়েছে, ওগুলোর ইমামদের জন্য তাগুত সরকারের দেওয়া বেতন নেওয়া কি জায়েয হচ্ছে? যেহেতু তাদের বেতন দিচ্ছে সরকার আর তাদের অধিকাংশ অর্থই তো আসে জনগণের কাছ থেকে নেওয়া অবৈধ ট্যাক্স থেকে। এছাড়া সরকারের অধীন নয়, এমন কোনো কোনো মসজিদের ইমামদেরকেও এখন সরকারের পক্ষ থেকে মাসিক কিছু টাকা দেওয়া হয়। তা নেওয়া কি তাদের জন্য জায়েয হবে?

প্রশ্নকারী- উসামা মাহমুদ

 

উত্তর:

যেসব চাকরিতে কুফর বা হারাম কিছুতে লিপ্ত হতে হয় না, অপছন্দনীয় হলেও তাগুত সরকারের অধীনে সেসব চাকরি করা জায়েয। তাই তাগুত সরকারের অধীনে ইমামতি করলে যদি অন্য কোনো নাজায়েয কাজে লিপ্ত হতে না হয় (যদিও নাজায়েয কাজে লিপ্ত না হয়ে এমন চাকরির সুযোগ আজকাল বিরল), তাহলে তা অপছন্দনীয় হলেও নাজায়েয নয় এবং এই চাকরির বেতনও হারাম নয়। ট্যাক্স ইত্যাদির মতো অন্যায় পন্থায় গৃহীত টাকা থেকে দিলেও ইমামের জন্য তা হালাল। কারণ, তাগুত সরকার হচ্ছে হারবি। হারবিরা মুসলিমদের সম্পদ অন্যায়ভাবে কব্জা করে নিলেও তাতে তাদের মালিকানা সাব্যস্ত হয়ে যায়।

পক্ষান্তরে তাগুতের অধীন উক্ত চাকরির কারণে যদি ওয়ালা-বারার সম্পর্ক নষ্ট করা, তাগুতি শাসনের জন্য দোয়া করা, তাগুতের অন্যায়ে সমর্থন যোগানো ইত্যাদির মতো কোনো অন্যায় কাজে লিপ্ত হতে হয় (যা আজকাল খুবই স্বাভাবিক), তাহলে উক্ত চাকরি জায়েয নয়।

এমনিভাবে সরকারের অধীন নয় এমন মসজিদের ইমামদেরকে যদি সরকারের পক্ষ থেকে কোনো টাকা দেয়া হয়, তাতে অন্য কোনো সমস্যা না থাকলে, তাও মৌলিকভাবে নাজায়েয নয়। কিন্তু যদি অন্য কোনো সমস্যা থাকে, যেমন তাগুতরা ইমাম থেকে কোনো অন্যায় সুবিধা লাভের উদ্দেশ্যে তা প্রদান করছে (যা বর্তমানে দেয়া টাকাগুলোর ক্ষেত্রে একেবারেই স্পষ্ট), অথবা উক্ত টাকা গ্রহণের কারণে ওয়ালা-বারার সম্পর্ক নষ্ট করা, তাগুতি শাসনের জন্য দোয়া করা, তাগুতের অন্যায়ে সমর্থন যোগানো ইত্যাদির মতো কোনো অন্যায় কাজে লিপ্ত হতে হয়, তহলে তা জায়েয নয়।

দেখুন সহীহ বুখারী: ২১৫৫, ২৪৫৭; ফাতহুল বারি: ৪/৪৫২, ৫/২২১ ও ২৩০, ১২/৩৪৯; আসইলাতু মিম্বারিত তাওহিদ, প্রশ্ন নং: ২১২০, ১৩৯৬, ৩৭৫, ২৬৫৯, ২৮৯০

فقط، والله تعالى أعلم بالصواب

আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (উফিয়া আনহু)

১২-০৯-১৪৪২ হি.

২৫-০৪-২০২১ ইং