ফাতওয়া  নং  ১৭২

লেখাপড়া চালিয়ে যাব? না, উপার্জন করে আম্মাকে পর্দায় রাখার ব্যবস্থা করব? -মুফতি আবু ‍মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (হাফিযাহুল্লাহ)

লেখাপড়া চালিয়ে যাব? না, উপার্জন করে আম্মাকে পর্দায় রাখার ব্যবস্থা করব? -মুফতি আবু ‍মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (হাফিযাহুল্লাহ)

পিডিএফ ডাউলোড করুন

 

ওয়ার্ড ডাউনলোড করুন

 

লেখাপড়া চালিয়ে যাব? না, উপার্জন করে আম্মাকে পর্দায় রাখার ব্যবস্থা করব?

 

প্রশ্ন:

আমার বয়স আঠার। মাদ্রাসায় লেখাপড়া করি। আব্বা বেঁচে নেই। আম্মা বাসায় বাসায় কাজ করে আমাদের খরচের ব্যবস্থা করে থাকেন। এতে করে তাঁর পর্দা লঙ্ঘন হয়। আমার জানার বিষয় হল, শরীয়তের দৃষ্টিতে এখন আমার করণীয় কী? আমি কি লেখাপড়া চালিয়ে যাব? না, অর্থ উপার্জন করে আম্মাকে পর্দায় রাখার ব্যবস্থা করব?

প্রশ্নকারী- আব্দুল্লাহ

 

উত্তর:

মা-বাবা যদি দরিদ্র হয়, তাদের নিজেদের জীবিকা নির্বাহের মতো সম্পদ না থাকে, তাহলে সন্তানের ওপর তাদের ভরণপোষণ ফরয। তাই যদি আপনার মায়ের পর্দা রক্ষা করে আপনার পড়াশুনা চালানোর মতো কোনো ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে আপনি উপার্জন করে মায়ের ভরণপোষণ করুন। পাশাপাশি যথাসাধ্য ইলম অর্জনেরও চেষ্টা করুন। মনে রাখবেন, ইলম অর্জন শুধু মাদ্রাসায় পড়ার মাঝেই সীমাবদ্ধ নয় এবং উপার্জনও ইলম অর্জনের পরিপন্থী নয়। তাই অন্য কোনো ব্যবস্থা না থাকলে আপনি উপার্জন করা শুরু করুন, পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ইলম অর্জনের প্রচেষ্টাও চালিয়ে যান। আল্লাহ আপনাকে সাহায্য করবেন এবং আপনার পথ সুগম করে দিবেন ইনশাআল্লাহ।

হিদায়া গ্রন্থকার মারগিনানি রহ. (৫৯৩ হি.) বলেন,

وعلى الرجل أن ينفق على أبويه وأجداده وجداته إذا كانوا فقراء … -الهداية في شرح بداية المبتدي : 2\292، الناشر: دار احياء التراث العربي – بيروت – لبنان

“ব্যক্তির ওপর তার পিতা মাতা, দাদা দাদী ও নানা নানীর ভরণ পোষণ আবশ্যক; যদি তারা দরিদ্র হয়।” –হিদায়া: ২/২৯২; আরো দেখুন রদ্দুল মুহতার: ৩/৬২২

আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (উফিয়া আনহু)

১০-১০-১৪৪২ হি.

২৩-০৫-২০২১ ইং