ফাতওয়া  নং  ১৭৭

বাবা মা নফল ইবাদত করতে নিষেধ করলে তাদের নিষেধ শোনা কি জরুরি? -মুফতি আবু ‍মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (হাফিযাহুল্লাহ)

বাবা মা নফল ইবাদত করতে নিষেধ করলে তাদের নিষেধ শোনা কি জরুরি? -মুফতি আবু ‍মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (হাফিযাহুল্লাহ)

 

পিডিএফ ডাউনলোড করুন
ওয়ার্ড ডাউনলোড করুন

 

বাবা মা নফল ইবাদত করতে নিষেধ করলে তাদের নিষেধ শোনা কি জরুরি? 

 

প্রশ্ন:

বাবা মা নফল ইবাদত যেমন, তাহাজ্জুদ, সিয়াম ইত্যাদি করতে নিষেধ করলে তাদের নিষেধ শোনা কি জরুরি?

প্রশ্নকারী- আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ

 

উত্তর: 

একজন মুমিনের জীবনে নফল ইবাদতের গুরুত্ব অপরিসীম। নফল ইবাদতের মাধ্যমে মুমিনের ঈমান শক্তিশালী হয় এবং ফরজ আমলের ত্রুটি বিচ্যুতি পূর্ণতা লাভ করে। আল্লাহ তায়ালার আদেশ-নিষেধ পালন করা ও গুনাহ থেকে বাঁচা সহজ হয়।

সহীহ হাদীসে এসেছে, নফল ইবাদতের মাধ্যমে মানুষ আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য লাভ করে। -সহীহ বুখারী ৬৫০২

অপর হাদিসে এসেছে,

أول ما يحاسب به العبد يوم القيامة صلاته، فإن وجدت تامة كتبت تامة، وإن كان انتقص منها شيء، قال: انظروا هل تجدون له من تطوع يكمل له ما ضيع من فريضة من تطوعه، ثم سائر الأعمال تجري على حسب ذلك –رواه النسائي (466) وأبو داود (864) والترمذي (413) وقال الترمذي: حديث حسن.

“কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম বান্দার নামাযের হিসেব নেয়া হবে। পরিপূর্ণ পাওয়া গেলে পরিপূর্ণ বিনিময় দেয়া হবে। আর যদি ফরজ নামাযে কোনো ত্রুটি থাকে, আল্লাহ তায়ালা বলবেন, দেখ আমার বান্দার কোনো নফল নামায আছে কি না, যা দ্বারা তার ফরয নামাযের ত্রুটি পূরণ করা যায়। এরপর অন্যান্য আমলের হিসেবও একইভাবে নেয়া হবে।” –জামে’তিরমিযি ৪১৩, সুনানে নাসায়ী ৪৬৬, সুনানে আবু দাউদ, ৮৬৪

আর আমাদের আমল যে কতো ত্রুটিপূর্ণ, তা তো বলাই বাহুল্য। সুতরাং সবসময় নফল বাদ দেয়া অবশ্যই একজন মুমিনের পরকালের নাজাতের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

তাছাড়া নফল আমল আলাদা আলাদা প্রতিটি আমল নফল হলেও সমষ্টিগতভাবে নফল আমলের প্রতি যত্নবান থাকা ফরজ। কেউ যদি সবসময় সকল নফল আমল বাদ দিয়ে দেয়, তাহলে সে গুনাহগার হবে।

সুতরাং পিতা মাতার জন্য সন্তানকে সবসময় নফল ইবাদত থেকে বারণ করার অধিকার নেই। কেউ যদি করেন, তাহলে তাদের এই বারণ মান্য করা সন্তানের জন্য জায়েয নয়। একইভাবে তারা যদি অপ্রয়োজনে দ্বীন ও ঈমান আমলের প্রতি গুরুত্বহীনতার কারণে নফল ইবাদত থেকে বারণ করেন, তবুও তাদের বারণ মান্য করার সুযোগ নেই। এসব ক্ষেত্রে তাদের বাধা উপেক্ষা করেই নফল ইবাদত করতে হবে। তবে সর্বাবস্থায়ই তাদের সঙ্গে সদাচার বজায় রাখতে হবে। প্রয়োজনে কখনো তাদের অগোচরে নফল ইবাদত করবে এবং তাদেরকে সুন্দরভাবে ‍বুঝানোর চেষ্টা করবে।

হ্যাঁ, মা-বাবা যদি যুক্তিসংগত কোনো কারণে সন্তানকে বিশেষ কোনো নফল ইবাদতে বাধা দেন বা বিশেষ কোনো সময়ের জন্য বারণ করেন; যেমন নফল রোযার কারণে যদি সন্তানের স্বাস্থ্যগত অস্বাভাবিক ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে বা সন্তানের নফল নামাযের কারণে খেদমতের মুখাপেক্ষী মা-বাবার কষ্ট হয়, তাহলে তাদের এই বারণ মান্য করা সন্তানের জন্য জরুরি। বরং এক্ষেত্রে পিতা মাতা বারণ না করলেও এরকম নফল আমলগুলো আপাতত বন্ধ রেখে যথাসম্ভব অন্যান্য নফল আমল করা এবং পিতা মাতার খেদমত আঞ্জাম দেয়া সন্তানের দায়িত্ব। -আলফাতাওয়াল কুবরা, ইবনে তাইমিয়া রহ.: ৫/৩৮১; আলফাতাওয়াল ফিকহিয়া, ইবনে হাজার হাইতামি রহ.: ৫/৬-৯; আলবাহরুর রায়িক: ৫/৭৮; রদ্দুল মুহতার: ৪/১২৪-১২৫

 

আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (উফিয়া আনহু)

০৭-১১-১৪৪২ হি.

১৯-০৬-২০২১ ইং