ফাতওয়া  নং  ১৭৯

‘জিহাদের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করার হুকুম কী?’ ফতোয়া সম্পর্কে একজন পাঠকের মতামত ও তার উত্তর -মুফতি আবু ‍মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (হাফিযাহুল্লাহ)

‘জিহাদের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করার হুকুম কী?’ ফতোয়া সম্পর্কে একজন পাঠকের মতামত ও তার উত্তর -মুফতি আবু ‍মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (হাফিযাহুল্লাহ)

পিডিএফ ডাউনলোড করুন
ওয়ার্ড ডাউনলোড করুন

 

‘জিহাদের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করার হুকুম কী?’ ফতোয়া সম্পর্কে একজন পাঠকের মতামত ও তার উত্তর

 

একজন পাঠকের মতামত:

মুহতারাম শাইখ, আলহামদুলিল্লাহ এই সাইট থেকে আমরা অনেক উপকৃত হচ্ছি। শাইখ, আমার কিছু বিষয় জানার ছিল, এ বিষয়ে উত্তর প্রদান করে ইহসান করলে খুবই উপকৃত হব।

সাইটে প্রকাশিত ‘জিহাদের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করার হুকুম কী?’ শিরোনামে প্রকাশিত ফতোয়াটি (ফাতোয়া নং-৩৮ https://fatwaa.org/2020/06/25/1185/) পড়ে বুঝলাম যে, সব ধরনের ইদাদই ফরজ। আর বাস্তবেও জিহাদের মাঠ প্রস্তুত করতে সবগুলোর দরকার আছে। তবে একটা বিষয় হলো, وأعدوا এই আয়াতের সরাসরি যে ব্যাখা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে তা হল, الرمي যার দ্বারা আসকারি ইদাদ বুঝে আসে। আবার কোথাও হয়তো কেউ এমন কিছু বলেননি যে, আসকারি ইদাদ না হয়ে যুদ্ধের অন্যান্য প্রস্তুতি নেওয়া হলেও ফরজ আদায় হবে, উক্ত আয়াতে এমনটি বুঝানো হয়েছে।

আমার কাছে যা মনে হচ্ছে, আসকারি ইদাদ এই আয়াত থেকে বুঝে আসে, এমনটা কেউ নফি (না) করেননি, কেননা হাদিসে সরাসরি তীর নিক্ষেপ বলে ব্যাখ্যা এসেছে। বাকি আমাদের সামর্থের অভাবে ব্যাপকভাবে আমরা এটা করতে পারছি না।

মুহতারাম শাইখ, বিষয়টা এভাবে বললে কেমন হয় যে, আসকারি ইদাদও জিহাদ ফরজে আইন হলে ফরজ হয়ে যায়। বাকি আমাদের নিরাপত্তার অভাব এবং প্রস্তুতির অভাবের কারণে আপাতত  আমাদের তা আদায় করার সামর্থ্য না থাকায় বিলম্ব হচ্ছে। যেমন আমরা প্রস্তুতির অভাবে কিতাল করতে পারছি না, কিন্তু তা সবার উপর ফরজ। এমনিভাবে আসকারি ইদাদও সবার উপর ফরজ। যখন তা অর্জনের সামর্থ্য হবে তখন আমরা ইনশাআল্লাহ তা আদায় করে নিব।

আশা করি, আমার কথা ও প্রশ্ন বুঝাতে পেরেছি। উত্তরের অপেক্ষায় থাকলাম।

বিনীত

মুহাম্মাদ হাসান

 

 

উত্তর:

মুহতারাম ভাইকে আল্লাহ তাআলা জাযায়ে খায়র দান করুন! আপনি আমাদের প্রতি খায়রখাহির পরিচয় দিয়েছেন এবং আপনার দৃষ্টিতে যে অসঙ্গতি ধরা পড়েছে, সেদিকে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

তবে আপনি যেভাবে বলতে চাচ্ছেন, সেভাবে বলার সুযোগ নেই। কারণ আপনার কথায় যে বিষয়টি উঠে এসেছে, তা হচ্ছে,

জিহাদ যখন ফরজে আইন হয়, তখন সবার উপর আসকারি ই’দাদও ফরজে আইন হয়। যেমন আপনি বলেছেন, ‘এমনিভাবে আস্কারি ই’দাদও সবার উপর ফরজ। যখন তা অর্জনের সামর্থ্য হবে তখন আমরা ইনশাআল্লাহ তা আদায় করে নিব।’

একথাটি আসলে ঠিক নয়। কারণ জিহাদ কারো উপর ফরজে আইন হলেই, তার উপর আসকারি ই’দাদও ফরজে আইন হয়ে যায় না; বরং তার উপর ই’দাদ ফরজে আইন হয়। পরিস্থিতি অনুযায়ী কিংবা আমিরের নির্দেশ অনুযায়ী জিহাদে অংশ গ্রহণ করতে তার জন্য যেই প্রকার ই’দাদ জরুরি, সেটাই তার উপর ফরজে আইন হয়। সুনির্দিষ্টভাবে আসকারি ই’দাদ সবার উপর ফরজে আইন হয় না। হ্যাঁ, কারো প্রতি যদি আসকারি ই’দাদের জন্য আমিরের নির্দেশ হয় কিংবা আসকারি ই’দাদ ব্যতীত তার জন্য ফরজ জিহাদ আদায় করা সম্ভব না হয়, শুধু তার উপরই আসকারি ই’দাদ ফরজে আইন হয়। অন্যথায় জিহাদ ফরজে আইন হলেও, আসকারি ই’দাদ ফরজে কেফায়া থাকে। যাদের উপর জিহাদ ফরজে আইন হয়, তাদের মধ্য থেকে জিহাদের জন্য প্রয়োজন পরিমাণ লোক যদি আসকারি ই’দাদ গ্রহণ করে, সবাই দায়মুক্ত হয়ে যায়। সুযোগ সামর্থ্য থাকলেও সবার উপর আসকারি ই’দাদ ফরজ নয়।

আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (উফিয়া আনহু)

১৮-১১-১৪৪২ হি.

৩০-০৬-২০২১ ইং