ফাতওয়া  নং  ২০৭

গ্রাফিক্স ডিজাইন করে অর্থ উপার্জন করা কখন বৈধ? -মুফতি আবু ‍মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (হাফিযাহুল্লাহ)

গ্রাফিক্স ডিজাইন করে অর্থ উপার্জন করা কখন বৈধ? -মুফতি আবু ‍মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (হাফিযাহুল্লাহ)

পিডিএফ ডাউনলোড করুন

ওয়ার্ড ডাউনলোড করুন

গ্রাফিক্স ডিজাইন করে অর্থ উপার্জন করা কখন বৈধ?

 

প্রশ্নঃ

আমি একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার। গ্রাফিক্স ডিজাইন করার জন্য বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ওয়েবসাইটে যেতে হয়, ছবি খুঁজতে হয়। কিন্তু সেখানে অর্ধেকের বেশি ছবি থাকে বেগানা মহিলাদের। এতে করে অধিকাংশ সময় নজর হেফাজত করা অসম্ভব হয়ে যায়। ফলে মাঝে মধ্যে শয়তানের কুমন্ত্রণায় নানা ধরনের খারাপ কাজে জড়িয়ে পড়ি।

উল্লেখ্য, গ্রাফিক্স ডিজাইনের মাধ্যমে হালাল জীবিকা উপার্জনের পাশাপাশি দ্বীনের কিছু খেদমতও করার ইচ্ছা রাখি। এ পরিস্থিতিতে আমার করনীয় কী? জানালে উপকৃত হব।

প্রশ্নকারী-আহমেদ

উত্তরঃ

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله وكفي وسلام علي عباده الذين الصطفي أمابعد

আপনার জন্য দুটি শর্তে গ্রাফিক্স ডিজাইন করে উপার্জন করা জায়েয হবে।

এক. নজর হেফাজত করতে হবে। অসতর্কতাবশত বেগানা নারী বা অশ্লীল ছবিতে নজর পড়লে দ্রুত নজর সরিয়ে নিতে হবে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন,

قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ذَلِكَ أَزْكَى لَهُمْ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ. (النور:)30

“মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গ হেফাজত করে। এটা তাদের জন্য পবিত্রতর। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ্‌ তা সম্পর্কে সম্মক অবহিত। -সূরা আননূর: ৩০

দুই. নারী ও অশ্লীল ছবির মতো কোনো হারাম ও নাজায়েয ডিজাইন করা থেকে বিরত থাকতে হবে। অনুরূপ কোনো নাজায়েয ও হারাম কাজের সহায়তা হয় মতো কোনো কাজ করা যাবে না। যেমন সুদি ব্যাংক, মদের বার ইত্যাদির মতো হারাম কোম্পানির কোন কাজের ডিজাইন করে দেওয়া ইত্যাদি।

আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন,

وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ. (سورة المائدة:2)

“সৎকর্ম ও তাকওয়ায় তোমরা পরস্পরের সহযোগিতা কর। মন্দকর্ম ও সীমালঙ্ঘনে পরস্পরের সহযোগিতা করো না।” -সুরা মায়িদা:২

উপরোক্ত দুটি শর্ত মেনে যদি গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজ সম্ভব না হয়; বরং অধিকাংশ সময়ই অশ্লীলতায় লিপ্ত হতে হয়, তাহলে আপনার জন্য এভাবে একাজে যুক্ত থাকা জায়েয হবে না। যত দ্রুত সম্ভব, অন্য কোনো হালাল উপার্জনের ব্যবস্থা করে এটা ছেড়ে দিতে হবে। -তাফসীরে ইবনে কাছির: ৬/৪১; সহীহ বোখারী, হাদীস নং ৬৬১২; ফাতহুল বারি: ১১/৫০৪; মাআলিমুস সুনান: ৩/২২৩; আলজাওয়াবুল কাফি, ইবনুল কাইয়্যিম: ১৫২-১৫৩

فقط والله تعالي اعلم بالصواب

আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (উফিয়া আনহু)

০৮-০৩-১৪৪৩ হি.

১৬-১০-২০২১ ঈ.