ফাতওয়া  নং  ২১২

হারাম সম্পদ কি আল্লাহর রাস্তায় সদকা করা যাবে? -মুফতি আবু ‍মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (হাফিযাহুল্লাহ)

হারাম সম্পদ কি আল্লাহর রাস্তায় সদকা করা যাবে? -মুফতি আবু ‍মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (হাফিযাহুল্লাহ)

পিডিএফ ডাউনলোড করুন

ওয়ার্ড ডাউনলোড করুন

হারাম সম্পদ কি আল্লাহর রাস্তায় সদকা করা যাবে?

 

প্রশ্নঃ

হারাম সম্পদ কি আল্লাহর রাস্তায় (জিহাদের ফান্ডে) সদকা করা যাবে?

প্রশ্নকারী-কাসেম

 

উত্তরঃ

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وعلى آله وصحبه ومن والاه، أما بعد

 

সুদ, ঘুষ, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি বা এ ধরনের কোনো অন্যায় পন্থায় কারও হক নষ্ট করে অর্জিত হারাম সম্পদের ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম করণীয় হলো, খালেস দিলে তাওবা করা এবং তা তার মূল মালিককে ফিরিয়ে দেয়া। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,

إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَى أَهْلِهَا. –النساء: 58

“আল্লাহ তাআলা তোমাদের আদেশ দিচ্ছেন, তোমরা যেন

 আমানতসমূহ তার হকদারের হাতে পৌঁছে দাও।”–সূরা নিসা (০৪):  ৫৮

মূল মালিককে না পাওয়া গেলে তাদের ওয়ারিশদের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। যতক্ষণ মূল মালিক বা তাদের ওয়ারিশদের পাওয়া যাবে, ততক্ষণ ভিন্ন কোনো সুযোগ নেই। আল্লাহর রাস্তায় বিলিয়ে দেয়ার দ্বারা দায়মুক্ত হওয়া যাবে না।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,

من جمع مالا حراما، ثم تصدق به، لم يكن له فيه أجر، وكان إصره عليه. أخرجه ابن حبان، وقال الشيخ شعيب: إسناده حسن … وأخرجه الحاكم … وصححه، ووافقه الذهبي.

“যে ব্যক্তি হারাম সম্পদ উপার্জন করে তা সাদাকা করল, তাতে তার কোনো সওয়াব হবে না; বরং এর গুনাহ তার উপরই বর্তাবে।” -সহীহ ইবনে হিব্বান: ৩২১৬

হ্যাঁ, যদি হকদার বা তাদের ওয়ারিশদের পরিচয় জানা না থাকে বা খুঁজে বের করা সম্ভব না হয়, তাহলে ওই সম্পদ মালিকের পক্ষ হতে যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত কোনো গরীবকে সাদাকা করে দিতে হবে বা জনকল্যাণমূলক কোনো কাজে ব্যয় করতে হবে। জিহাদের খাতেও ব্যয় করা যাবে এবং ইবনে তাইমিয়া রহ. (৭২৮ হি.) বলেছেন, এটাই উত্তম। তিনি বলেন,

“ومن أراد التخلص من الحرام والتوبة ولا يمكن رده إلى أصحابه فلينفقه في سبيل الله عن أصحابه فإن ذلك طريق حسنة إلى خلاصه مع ما يحصل له من أجر الجهاد”. اهـ مجموع الفتاوى 28/422

‘যে ব্যক্তি হারাম থেকে দায়মুক্ত হতে চায় এবং তওবা করতে চায়; অথচ তা মালিকের নিকট পৌঁছানো সম্ভব নয়, তাহলে সে যেন তা মালিকের পক্ষ থেকে জিহাদের পথে খরচ করে। এটা দায়মুক্তির উত্তম পথ এবং এতে সে জিহাদে অংশ গ্রহণেরও সওয়াব পাবে।’ -মাজমুউল ফাতাওয়া ২৮/৪২১-৪২২

এ ব্যাপারে আপনি আরও দেখুন:

ফতোয়া নং ১৫৯: ‘বান্দার হক ফিরিয়ে না দিয়ে দান করে দিলে কি দায়মুক্ত হওয়া যাবে?

https://fatwaa.org/2021/03/16/2180/

ফতোয়া নং ১৭৫: ‘সুদের টাকা কোথায় সদকা করা উত্তম?

https://fatwaa.org/2021/06/07/2308/

فقط، والله تعالى أعلم بالصواب

আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (উফিয়া আনহু)

১০-০৪-১৪৪৩ হি.

১৬-১১-২০২১ ঈ.