ফাতওয়া  নং  ২২৪

আকিকার গোশত কি সন্তান নিজে এবং তার পিতা-মাতা খেতে পারবে? -মুফতি আবু ‍মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (হাফিযাহুল্লাহ)

আকিকার গোশত কি সন্তান নিজে এবং তার পিতা-মাতা খেতে পারবে? -মুফতি আবু ‍মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (হাফিযাহুল্লাহ)

পিডিএফ ডাউনলোড করুন

ওয়ার্ড ডাউনলোড করুন

আকিকার গোশত কি সন্তান নিজে এবং তার পিতা-মাতা খেতে পারবে?

 

প্রশ্নঃ

আকিকার গোশত কি সন্তান নিজে এবং তার পিতা-মাতা খেতে পারবে? আকিকা ও কুরবানি একসাথে দিলে দোয়া কীভাবে পড়তে হবে?

প্রশ্নকারীঃ আব্দুল্লাহ

উত্তরঃ

بسم الله الرحمن الرحيم

আকিকার গোশত, যার আকিকা সে নিজে, তার পিতা-মাতা এবং আত্মীয় স্বজন সকলেই খেতে পারবে। কেউ কেউ মনে করেন, পিতা-মাতা সন্তানের আকিকার গোশত খেতে পারে না। এ ধারণা ঠিক নয়।-মুনান্নাফে ইবনে আবি শাইবা: ২৪৭৩৯, ২৪৭৪৩, ২৪৭৪৪; মুয়াত্তা মালিক: ২/৫০২; তানকিহুল ফাতাওয়াল হামিদিয়্যাহ : ২/৩৬৮

উল্লেখ্য, আকিকার মূল সময় সন্তানের জন্মের ৭ম দিন। হাদীসে ৭ম দিনেই আকিকা করতে বলা হয়েছে। এরপর আকিকা দিলে অনেক আলেমের মতে আকিকা হবে না; যদিও অনেকের মতে হয়ে যাবে। আকিকা একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত হওয়ার পাশাপাশি সন্তানের শাফাআত পাওয়া বা তার স্বভাবজাত প্রকৃতির উপর সুস্থতার সঙ্গে বেড়ে ওঠারও সম্পর্ক রয়েছে। হাদীস শরীফে এসেছে,

2840 – أن رسول الله -صلى الله عليه وسلم- قال:  كل غلام رهينة بعقيقته تذبح عنه يوم سابعه ويحلق ويسمى.  سنن أبي داود للسجستاني (3/ 66)

“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, প্রত্যেক শিশু তার আকিকার উপর বন্ধককৃত। সুতরাং তার জন্মের সপ্তম দিনে তার পক্ষ থেকে একটি পশু যবাই করতে হবে, মাথা মুণ্ডাতে হবে এবং নাম রাখতে হবে।” -সুনানে আবু দাউদ: ২৮৪০

মুহাদ্দিসীনে কেরাম সন্তানের আকিকার উপর বন্ধককৃত হওয়ার বিভিন্ন ব্যাখ্যা করেছেন, যেমন আকিকা না দিলে পিতা মাতা উক্ত সন্তানের শাফাআত পাবে না, আকিকা না দিলে সন্তান যেভাবে সুস্থতার সঙ্গে বেড়ে ওঠার কথা, তা হবে না ইত্যাদি ইত্যাদি। আরও দেখুন, fatwaa.org তে প্রকাশিত ১১০ নং ফতোয়া। লিংক: https://fatwaa.org/2020/10/08/1735/

সুতরাং সন্তানের জন্মের ৭ম দিনে আকিকা করার প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া চাই। অগত্যা সম্ভব না হলে, পরবর্তীতে দেয়ার চিন্তা করবে।

আকিকা ও কুরবানি এক সাথে দিলে জবাইয়ের সময় কুরবানির দোয়ার পাশাপাশি আকিকার দোয়াটিও পড়ে নিবে। এক হাদিসে আকিকার নিম্নোক্ত দোয়াটি এসেছে,

بِسْمِ اللَّهِ وَاللَّهُ أَكْبَرُ، اللَّهُمَّ لَكَ وَإِلَيْكَ هَذِهِ عَقِيقَةُ فُلاَنٍ.

(সুনানে ‍কুবরা, বায়হাকি: ১৯৭৭২; মুসনাদে আবি ইয়ালা: ৪৫২১; আলমাজমু শারহুল মুহাযযাব, নাবাবি রহ.: ৮/৪২৮)

উক্ত দোয়ায় فُلاَنٍ এর স্থলে সন্তানের নাম নেবে।

উল্লেখ্য, দোয়া পড়া সুন্নত, তবে দোয়া না পড়লেও কুরবানি ও আকিকা সহীহ হয়ে যাবে।

فقط، والله تعالى أعلم بالصواب

আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (উফিয়া আনহু)

১৭-০৫-১৪৪৩ হি.

২২-১২-২০২১ ঈ.