হালাল-হারাম:ফাতওয়া  নং  ১৪০

ব্যাংকে পিয়ন পদে চাকরি করার হুকুম কী?

ব্যাংকে পিয়ন পদে চাকরি করার হুকুম কী?

ব্যাংকে পিয়ন পদে চাকরি করার হুকুম কী?

পিডিএফ ডাউনলোড করুন

প্রশ্নঃ

আমি একটি প্রাইভেট ব্যাংকে পিয়ন পদে চাকরিরত আছি। অনেক ভাই আমাকে বলছেন, এ চাকরি আপনি করতে পারেন। আবার অনেকে বলছেন, এটি হারাম। মুহতারামের কাছে আমার জানার বিষয় হল, আসলেই কি আমি এ চাকরি করতে পারব? না, এ চাকরি করা আমার জন্য হারাম হচ্ছে? উত্তর দেয়ার সুবিধার্থে আমার কাজের কিছু বিবরণ দিচ্ছি। আমার কাজগুলো হল, ব্যাংকের বিভিন্ন ফাইল পত্র এগিয়ে দেওয়া। ফটোকপি করা। নতুন একাউন্ট খোলার জন্য দেওয়া। লোন ফাইল এগিয়ে দেওয়া। ক্রেডিট কার্ডের ফাইল দেওয়া। গ্রাহকদের চেক অন্য ব্যাংকে নিয়ে যাওয়া। চেকটা পাস করার জন্য ফটোকপি করা ইত্যাদি, এমন আরও অনেক কাজ আমাকে করতে হয়। এছাড়া ব্যাংকের কর্মকর্তাদের খাবার পরিবেশন করা, কর্মকর্তা ও গ্রাহকদের চা, কফি ইত্যাদি পরিবেশন করা। মাঝে মধ্যে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজও আমাকে করতে হয়।

প্রশ্নকারী-মুহাম্মদ আসাদ

উত্তর:

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله، أما بعد:

আপনি যে ব্যাংকে চাকরিরত, সেটি যদি সুদি হয়ে থাকে, তাহলে তা প্রাইভেট হোক বা সরকারী, উভয়টির বিধান একই। সুদ অত্যন্ত জঘন্য হারাম। সুদখোরদের বিপক্ষে স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা যুদ্ধের ঘোষণা করেছেন। সুদের সাথে জড়িতদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লা’নত করেছেন। হযরত জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন-

لعن رسول الله صلى الله عليه وسلم آكل الربا وموكله وكاتبه وشاهديه وقال هم سواء.

“সুদ গ্রহীতা, সুদ দাতা, সুদি লেন-দেনের লেখক ও তার স্বাক্ষীদ্বয়; সকলের ওপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লা’নত করেছেন এবং বলেছেন, ওরা সকলেই সমান। -সহীহ মুসলিম: ৪১৭৭

সুদি ব্যাংকে যেকোনো ধরনের চাকরি সুদের সহযোগিতার শামিল। তাই সুদি ব্যাংকে কোনো ধরনের চাকুরি করা জায়েয নেই।

আল্লাহ তায়ালা বলেন,

}وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ} [المائدة: 2[

“সৎকর্ম ও তাকওয়ায় তোমরা পরস্পরের সহযোগিতা কর। মন্দকর্ম ও সীমালঙ্ঘনে পরস্পরের সহযোগিতা করো না। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ শাস্তিদানে কঠোর।” -সুরা মায়িদা (০৫): ০২

তাই আপনি ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে রিযিকের জন্য অন্য কোনো হালাল পন্থা অবলম্বন করুন। আল্লাহ তায়ালা আপনার জন্য প্রয়োজনীয় জীবিকার ব্যবস্থা করে দেবেন ইনশাআল্লাহ।

আল্লাহ তায়ালা বলেন,

وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجًا وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ وَمَنْ يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ إِنَّ اللَّهَ بَالِغُ أَمْرِهِ قَدْ جَعَلَ اللَّهُ لِكُلِّ شَيْءٍ قَدْرًا [الطلاق: 2، 3[

“যে কেউ আল্লাহকে ভয় করবে, আল্লাহ তার জন্য সংকট থেকে উত্তরণের কোন পথ তৈরি করে দেবেন। এবং তাকে এমন স্থান থেকে রিযিক দান করবেন, যা তার ধারণার বাইরে। যে কেউ আল্লাহর উপর ভরসা করবে আল্লাহই তার (কর্ম সম্পাদনের) জন্য যথেষ্ট। নিশ্চিতভাবে জেনে রেখো, আল্লাহ তার কাজ পূরণ করেই থাকেন। (অবশ্য) আল্লাহ সবকিছুর জন্য একটা পরিমাণ নির্দিষ্ট করে রেখেছেন।” –সূরা তালাক (৬৫) : ২-৩

আরো দেখুন সুরা বাকারা (০২) : ২৭৫-২৭৯, ফতোয়া শামি: ৬/৫৫, তাবয়িনুল হাকায়েক: ৫/১২৫, ফাতাওয়া লাজনাতুত দায়েমা: ৩৫৪৬, আহসানুল ফাতাওয়া: ৭/২১-২২, ফাতাওয়া বানুরি টাউন: 144004200213

فقط، والله تعالى أعلم بالصواب

আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (উফিয়া আনহু)

২০-০৫-১৪৪২ হি.

০৫-০১-২০২১ ইং

আরও পড়ুনঃ সুদি ব্যাংকের চাকরি এবং তা থেকে প্রাপ্ত বেতন কী বৈধ?

Related Articles

Back to top button