ফাতওয়া  নং  ২৫

স্ত্রী স্বামীকে জান্নাতের নিয়ামত হুর নিতে নিষেধ করে – এই বিষয়ে শরিয়ত কী বলে?

স্ত্রী স্বামীকে জান্নাতের নিয়ামত হুর নিতে নিষেধ করে - এই বিষয়ে শরিয়ত কী বলে?

স্ত্রী স্বামীকে জান্নাতের নিয়ামত হুর নিতে নিষেধ করে – এই বিষয়ে শরিয়ত কী বলে?

মুফতি আবু ‍মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (হাফিযাহুল্লাহ)

প্রশ্ন:

সন্মানিত শায়েখ, আমার স্ত্রী আমাকে আল্লাহর প্রতিশ্রুত জান্নাতের নিয়ামত হুর নিতে নিষেধ করে। সে আমাকে তাদের সাথে ভাগাভাগি করতে চায় না। সে এই ব্যাপারে খুবই বিরক্ত। এই বিষয়ে শরিয়ত কী বলে আমার জানা খুবই প্রয়োজন। জানালে খুব উপকৃত হব।

সোহাগ

উত্তর:

ভাই জান্নাতের বিষয়গুলো দুনিয়ার সঙ্গে তুলনা করে বুঝার কোনো সুযোগ নেই। সেখানে কার কি মন চাইবে, তার স্বরূপ ও বাস্তবতাও দুনিয়ার মন চাওয়া না চাওয়া দিয়ে যথাযথ বুঝা সম্ভব নয়। সে তো এমন এক স্বপ্নীল সুখের জগত যে, বান্দা যদি তার জাগতিক এই সামান্য মেধা ও চিন্তা শক্তি দিয়ে সারা জীবন সুখ সমৃদ্ধির কল্পনার জগতে ভাসতে থাকে, তাহলে জীবন সায়াহ্নে সে যেখানে গিয়ে উপনীত হবে, জান্নাতের শুরুটাও তার চেয়ে আরও অনেক বেশি কল্পনাতীত, অনেক বেশি সুন্দর এবং অনেক অনেক বেশি বিস্ময়কর। দয়াময় প্রভু ইরশাদ করেন,

فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ (17). السجدة

“কোনো সত্তাই জানে না, তার আমলের বিনিময়ে তার জন্য কেমন চক্ষুশীতলকারী বস্তু গোপন করে রাখা হয়েছে।” -সূরা সাজদাহ (৩২) : ১৭

হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত সহীহ বুখারীর একটি হাদীসে কদুসিতে এসেছে,

قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اللَّهُ أَعْدَدْتُ لِعِبَادِي الصَّالِحِينَ مَا لَا عَيْنٌ رَأَتْ وَلَا أُذُنٌ سَمِعَتْ وَلَا خَطَرَ عَلَى قَلْبِ بَشَرٍ فَاقْرَءُوا إِنْ شِئْتُمْ {فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ}. صحيح البخاري: 3244

“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা বলেন, আমার নেক বান্দাদের জন্য এমন কিছু প্রস্তুত করে রেখেছি, যা না কোনো চোখ অবলোকন করেছে, না কোনো কান শুনেছে, না কোনো মানুষের কল্পনার জগতে তা অতিবাহিত হয়েছে। তোমরা চাইলে এই আয়াতটি পড়তে পার, ‘কোনো সত্তাই জানে না, তার জন্য কেমন চক্ষুশীতলকারী বস্তু গোপন করে রাখা হয়েছে’।” -সহীহ বুখারী: ৩২৪৪

সুতরাং জান্নাতে কে কী চাইবে, কী চাইবে না, কী নিবে, কী নিবে না, দুনিয়াতে বসে তার চুক্তি করার কোনো প্রয়োজন নেই এবং চুক্তি করে লাভও নেই। নিজের মনমতো কিছু পেতে চাইলে যা করা দরকার, তা হল ঈমান আমল উন্নত করে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা এবং মৃত্যু পর্যন্ত তার উপর অটল থেকে নিজেকে জান্নাতের উপযুক্ত করা। আপনার স্ত্রী যদি জান্নাতে যেতে পারেন, তাহলে আল্লাহর কাছে যা চাইবেন, যা দাবি করবেন, আল্লাহ তার সকল দাবিই পূরণ করবেন। তিনি ওয়াদা করেছেন,

إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللَّهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوا تَتَنَزَّلُ عَلَيْهِمُ الْمَلَائِكَةُ أَلَّا تَخَافُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَبْشِرُوا بِالْجَنَّةِ الَّتِي كُنْتُمْ تُوعَدُونَ (30) نَحْنُ أَوْلِيَاؤُكُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ وَلَكُمْ فِيهَا مَا تَشْتَهِي أَنْفُسُكُمْ وَلَكُمْ فِيهَا مَا تَدَّعُونَ (31) نُزُلًا مِنْ غَفُورٍ رَحِيمٍ (32). فصلت

“যারা বলে, আমাদের প্রভু আল্লাহ। অতঃপর তাতে অবিচল থাকে, তাদের নিকট ফিরেশতা অবতীর্ণ হয় এবং বলে, তোমরা ভীত হয়ো না, চিন্তিত হয়ো না এবং তোমাদেরকে যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল, তার জন্য আনন্দিত হও! দুনিয়ায় ও আখেরাতে আমরাই তোমাদের বন্ধু। সেখানে তোমাদের জন্য রয়েছে, যা কিছু তোমাদের মন চাইবে এবং যা কিছু তোমরা ফরমায়েশ করবে।” -সূরা হামীম সাজদাহ (৪১) : ৩০-৩২

إِنَّ اللَّهَ لَا يُخْلِفُ الْمِيعَادَ

“নিশ্চয় আল্লাহ ওয়াদা ভঙ্গ করেন না।” -সূরা আলে ইমরান (৩) : ৯

তাছাড়া আখেরাতে বেশি হুর থাকা বেশি সম্মানের নিদর্শন। যে নারীর স্বামীর বেশি হুর থাকবে, সে স্বামী আল্লাহর কাছে বেশি সম্মানী হবেন। এটা স্ত্রীর জন্যেও গৌরবের। হতে পারে এ গৌরব ও মর্যাদা দেখে আপনার স্ত্রীই আফসোস করবেন, হায়! যদি আল্লাহ আপনাকে হুরের সংখ্যা আরও বাড়িয়ে দিতেন! কারণ জান্নাতি হলে আপনার স্ত্রী হবেন সেসব হুরের প্রধান ও সম্রাজ্ঞী! সেখানে একজন অন্যজনের কষ্টের কারণ হবে না; বরং সকলেই পরস্পরের জন্য আনন্দের কারণ হবে।

فقط. والله تعالى اعلم بالصواب

আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি

১৩ই জুন, ২০২০ ঈ.