ফাতওয়া  নং  ৪৭

সহবাস ব্যতীত অন্য কোন পন্থায় মৈথুন করলে কি রোজা ভেঙ্গে যাবে?

সহবাস ব্যতীত অন্য কোন পন্থায় মৈথুন করলে কি রোজা ভেঙ্গে যাবে?

সহবাস ব্যতীত অন্য কোন পন্থায় মৈথুন করলে কি রোজা ভেঙ্গে যাবে?

প্রশ্ন:

কেউ রোজা অবস্থায় সহবাস ব্যতীত অন্য কোন পন্থায় মৈথুন করল। তার রোজা কি ভেঙ্গে যাবে? তার করণীয় কী?

প্রশ্নকারী- মেহসুদ আল হিন্দি

উত্তর:

রোযা অবস্থায় সহবাস ব্যতীত অন্য কোনো পন্থায় মৈথুন করলেও রোযা ভেঙ্গে যাবে। তবে এজন্য শুধু একটি রোযা কাযা করলেই হবে, কাফফারা লাগবে না। দেখুন হিদায়া: ১/১২০, আল বাহরুর রায়েক, ২/২৯৩

বলা বাহুল্য, হস্তমৈথুন করা এমনিতেই গোনাহ। রোযা অবস্থায় তা আরো কঠিন গোনাহ। রমজান মাসের বরকতময় সময়ে আরো কঠিনতর গোনাহ। তাছাড়া রমজান মাসের ফরজ রোযা ভাঙ্গা আরেকটি বড় গুনাহ। হাদীসে এ ধরনের ব্যক্তির ব্যাপারে কঠিন শাস্তির ধমকি এসেছে। তাই তার জন্য আন্তরিকভাবে আল্লাহর তায়ালার নিকট তাওবা-ইস্তেগফার করা এবং ভবিষ্যতে যেন এর পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকা জরুরি।  যে সকল কাজ বা বিষয়ের কারণে এ পরিস্থিতির ‍সৃষ্টি হতে পারে, তা থেকেও সতর্ক থাকা জরুরি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,

بينا أنا نائم إذ أتاني رجلان، فأخذا بضبعي، فأتيا بي جبلا وعرا، فقالا لي: اصعد، حتى إذا كنت في سواء الجبل فإذا أنا بصوت شديد، فقلت: ما هذه الأصوات؟ قال: هذا عواء أهل النار، ثم انطلق بي، فإذا بقوم معلقين بعراقيبهم، مشققة أشداقهم تسيل أشداقهم دما، فقلت: من هؤلاء؟ فقيل: هؤلاء الذين يفطرون قبل تحلة صومهم. -رواه ابن خزيمة (1986) وابن حبان (7491) في صحيحهيهما، والحاكم في المستدرك، (2837) والطبراني في المعجم الكبير (7666) وصححه الحاكم ووافقه الذهبي، قال الهيثمي في مجمع الزوائد (1/77) : رجاله رجال الصحيح.

“আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। তখন আমার নিকট দুজন ব্যক্তি এসে আমার বাহু ধরে আমাকে একটি দুর্গম পর্বতের কাছে নিয়ে গেল। তারা বলল, আপনি এই পাহাড়ে চড়ুন। আমি যখন পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছলাম, প্রচণ্ড আওয়াজ শুনতে পেলাম। জিজ্ঞেস করলাম, এ আওয়াজ কিসের? তারা বলল,  জাহান্নামীদের চিৎকার। এরপর তারা আমাকে নিয়ে চলল। তখন আমি এমন কিছু লোক দেখতে পেলাম, যাদের পায়ের গোড়ালি বেঁধে উল্টো ভাবে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, তাদের মুখের পার্শ্বগুলো ক্ষতবিক্ষত, তা হতে রক্ত ঝরছে। জানতে চাইলাম, এরা কারা? তারা বলল, এরা হল ওই সকল লোক, যারা সময় হওয়ার পূর্বেই রোযা ভেঙ্গে ফেলত। -সহীহ ইবনে খুযাইমাহ: ১৯৮৬, সহিহ ইবনে হিব্বান: ৭৪৯১, মুস্তাদরাক-হাকেম: ২৮৩৭, তবারানী-আলমুজামুল কাবীর: ৭৬৬৬, মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ১/৭৭, হাফেয আবু আব্দুল্লাহ হাকেম, ইমাম যাহাবী এবং হাফেয হাইসামী রহিমাহুমুল্লাহ হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন।

فقط. والله تعالى اعلم بالصواب

 

আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (উফিয়া আনহু)

৪ ই যুলকা’দাহ, ১৪৪১ হি.

২৬ শে জুন, ২০২০ ইং