ব্যবসা ও ক্রয় বিক্রয়:ফাতওয়া  নং  ২৮৭

কিস্তিতে নির্ধারিত মূল্য এর বেশী দিয়ে পণ্য ক্রয়ের হুকুম কী?

কিস্তিতে নির্ধারিত মূল্য এর অতিরিক্ত দিয়ে পণ্য ক্রয়ের হুকুম কী?

কিস্তিতে নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত দিয়ে পণ্য ক্রয়ের হুকুম কী?

পিডিএফ ডাউনলোড করুন

ওয়ার্ড ডাউনলোড করুন

প্রশ্নঃ

নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি মূল্যে কিস্তিতে কোনো পণ্য ক্রয় করার হুকুম কী? যেমন, একটি ফ্রিজের বাজার মূল্য ২০ হাজার টাকা। কিন্তু কিস্তিতে নিলে ১০% বেশি মূল্যে ক্রয় করতে হয়। এ ব্যাপারে ইসলামী শরীয়াহ কী বলে?

প্রশ্নকারী-মোস্তফা কামাল

 

الجواب باسمه تعالى

উত্তরঃ

কিস্তিতে বিক্রি মূলত ‘বাকি বিক্রির’ই একটি প্রকার। কোনো পণ্য নগদ মূল্যের চেয়ে বেশি মূল্যে বাকিতে বিক্রি করা জায়েয। তবে শর্ত হলো, পণ্যের মূল্য এবং মূল্য পরিশোধের মেয়াদ চুক্তির মজলিসেই সুনির্দিষ্ট হতে হবে এবং নির্ধারিত মেয়াদে মূল্য পরিশোধে অক্ষম হলে, মূল্য বাড়ানো যাবে না।

আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযি) বলেন,

لا بأس أن يقول للسلعة: ‌هي ‌بنقد ‌بكذا وبنسيئة بكذا، ولكن لا يفترقا إلا عن رضا ” (أخرجه ابن أبي شيبة في “مصنفه” (تـ محمد عوامة) كتاب البيوع، باب ‌‌الرجل يشتري من الرجل المبيع فيقول: «إن كان بنسيئة فبكذا، وإن كان نقدا فبكذا» برقم: 20826(

“পণ্যের দরদাম করার সময় এভাবে বলতে সমস্যা নেই যে, বাকিতে নিলে এতো টাকা, আর নগদে নিলে এতো টাকা। তবে ক্রেতা ও বিক্রেতা কোনো একটি দামের উপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে না পৌঁছে মজলিস ভাঙ্গা যাবে না।” -মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা: ২০৮২৬

যায়েদ বিন আসলাম (রাযি) বলেন,

” ‌كان ‌الربا في الجاهلية، أن يكون للرجل على الرجل الحق إلى أجل، فإذا حل الأجل، قال: أتقضي أم تربي؟ فإن قضى أخذ، وإلا زاده في حقه، وأخر عنه في الأجل ” (أخرجه مالك بن أنس هفي “موطأه” (برواية يحيى، دار إحياء التراث طـ 1406هـ) كتاب البيوع، ‌‌باب ما جاء في الربا في الدين برقم: 83(

“জাহেলি যুগে সুদের একটি প্রকার ছিলো এরকম যে, কারো কাছে যদি মেয়াদি পাওনা থাকতো এবং পাওনা পরিশোধের সময় হতো, তখন ঋণদাতা বলতো, ‘ঋণ পরিশোধ করবে, না পাওনা আরও বাড়িয়ে দিবে’। যদি ঋণ পরিশোধ করতো, তাহলে ঋণদাতা তাই গ্রহণ করতো। অন্যথায় ঋণের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতো এবং মেয়াদও বৃদ্ধি করে দিতো।’’ -মুয়াত্তা মালেক: ৮৩

সুতরাং যদি এভাবে চুক্তি করা হয় যে, তিন মাসের কিস্তিতে টাকা পরিশোধ করলে এতো টাকা দিতে হবে, পক্ষান্তরে ছয় মাসের কিস্তিতে টাকা পরিশোধ করলে এতো টাকা দিতে হবে, কিন্তু চুক্তির মজলিসে সুনির্দিষ্ট একটি মেয়াদ ও মূল্য চূড়ান্ত করা হলো না, তাহলে এই ক্রয় বিক্রয় জায়েয হবে না। -মাবসূত: ১৩/৯, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, ২০০৯ ইং

একইভাবে কিস্তিতে ক্রয়-বিক্রয়ের মাঝে যদি এই শর্ত করা হয় যে, কিস্তির নির্ধারিত সময়ে মূল্য পরিশোধ করতে না পারলে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাবে; এমন শর্তেও ক্রয়- বিক্রয় জায়েয হবে না। এটা স্পষ্ট সুদের অন্তর্ভুক্ত হবে। -বুহুস ফি কাজায়া ফিকহিয়্যাহ মুয়াসিরা: ১/১২, দারুল কলম

আরও দেখুন কিতাবুল আসল: ২/৪৫৪; মাবসূত: ১৩/৯, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, ২০০৯ ইং; মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যা, ধারা নং: ২৪৫/২৪৬; ইমদাদুল আহকাম: ৫/৩৬৪, যাকারিয়া বুক ডিপো; বুহুস ফি কাজায়া ফিকহিয়্যাহ মুয়াসিরা: ১/১২, দারুল কলম।

فقط، الله أعلم بالصواب

আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (উফিয়া আনহু)

২৭-০২-১৪৪৪ হি.

২৪-০৯-২০২২ ঈ.

আরো পড়ুনঃ আমদানি শুল্ক ফাঁকি দেয়া এর উদ্দেশ্যে পণ্যের দাম ও ওজন কম দেখানো কি বৈধ হবে?

Related Articles

Back to top button