ফাতওয়া  নং  ২৩০

সুদের টাকা জিহাদের ফান্ডে দান করে দিলে কি সুদের গুনাহ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে?

সুদের টাকা জিহাদের ফান্ডে দান করে দিলে কি সুদের গুনাহ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে?, fatwaa

পিডিএফ ডাউনলোড করুন

ওয়ার্ড ডাউনলোড করুন

সুদের টাকা জিহাদের ফান্ডে দান করে দিলে কি সুদের গুনাহ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে?

 

প্রশ্ন:

সুদের টাকা জিহাদের ফান্ডে দান করে দিলে কি সুদের গুনাহ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে?

প্রশ্নকারী- তাসলিমা

 

উত্তর:

সুদ গ্রহণ অনেক বড় গুনাহ। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হচ্ছে,

يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ * فَإِنْ لَمْ تَفْعَلُوا فَأْذَنُوا بِحَرْبٍ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِه.

“হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সুদের যা বকেয়া আছে তা ছেড়ে দাও; যদি তোমরা মুমিন হও। যদি তা না কর, তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ হতে যুদ্ধের ঘোষণা শুনে নাও।” -সূরা বাকারা (২) : ২৭৮-২৭৯

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুদ গ্রহণকারীকে লা’নত করেছেন। হযরত জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত,

لعن رسول الله -صلى الله عليه وسلم- آكل الربا وموكله وكاتبه وشاهديه وقال هم سواء. -صحيح مسلم، رقم: 4177؛ ط. دار الجيل بيروت + دار الأفاق الجديدة ـ بيروت

“সুদ গ্রহীতা, সুদ দাতা, সুদি লেন-দেনের লেখক ও তার স্বাক্ষীদ্বয়, সকলের উপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লা’নত করেছেন এবং বলেছেন, এরা সবাই সমান।” -সহীহ মুসলিম : ৪১৭৭

তাই সুদের ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম করণীয় হলো, খালেস দিলে তাওবা করা এবং তা তার মূল মালিককে ফিরিয়ে দেয়া। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,

إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَى أَهْلِهَا.

“আল্লাহ তাআলা তোমাদের আদেশ দিচ্ছেন, তোমরা যেন আমানতসমূহ তার হকদারের হাতে পৌঁছে দাও।” –সূরা নিসা (০৪) :  ৫৮

মূল মালিককে না পাওয়া গেলে তাদের ওয়ারিশদের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। যতক্ষণ মূল মালিক বা তাদের ওয়ারিশদের পাওয়া যাবে, ততক্ষণ ভিন্ন কোনো সুযোগ নেই। আল্লাহর রাস্তায় বিলিয়ে দেয়ার দ্বারা দায়মুক্ত হওয়া যাবে না।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,

من جمع مالا حراما، ثم تصدق به، لم يكن له فيه أجر، وكان إصره عليه. أخرجه ابن حبان، وقال الشيخ شعيب: إسناده حسن … وأخرجه الحاكم … وصححه، ووافقه الذهبي.

“যে ব্যক্তি হারাম সম্পদ উপার্জন করে তা সাদাকা করল, তাতে তার কোনো সওয়াব হবে না; বরং এর গুনাহ তার উপরই বর্তাবে।” -সহীহ ইবনে হিব্বান : ৩২১৬

হ্যাঁ, যদি হকদার বা তাদের ওয়ারিশদের পরিচয় জানা না থাকে বা খুঁজে বের করা সম্ভব না হয়, তাহলে ওই সম্পদ মালিকের পক্ষ হতে যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত কোনো গরিবকে সাদাকা করে দিতে হবে বা মুসলিমদের জনকল্যাণমূলক কোনো কাজে ব্যয় করতে হবে। জিহাদের খাতেও ব্যয় করা যাবে। ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহ. (৭২৮ হি.) বলেছেন, এটাই উত্তম। তিনি বলেন,

ومن أراد التخلص من الحرام والتوبة ولا يمكن رده إلى أصحابه فلينفقه في سبيل الله عن أصحابه فإن ذلك طريق حسنة إلى خلاصه مع ما يحصل له من أجر الجهاد”. اهـ مجموع الفتاوى 28/422

‘যে ব্যক্তি হারাম থেকে দায়মুক্ত হতে চায় এবং তওবা করতে চায়; অথচ তা মালিকের নিকট পৌঁছানো সম্ভব নয়, তাহলে সে যেন তা মালিকের পক্ষ থেকে জিহাদের পথে খরচ করে। এটা দায়মুক্তির উত্তম পথ এবং এতে সে জিহাদে অংশ গ্রহণেরও সওয়াব পাবে।’ -মাজমুউল ফাতাওয়া ২৮/৪২১-৪২২

সুদি কারবার থেকে তওবা করার পাশাপাশি সুদের অর্থ যদি এভাবে শরীয়াহর নির্দেশ মোতাবেক দান করে দেয়া হয়, আশা করি আল্লাহ তায়ালা তাকে ক্ষমা করে দিবেন ইনশাআল্লাহ।

আরও দেখুন:

ফতোয়া নং ১৫৯: ‘বান্দার হক ফিরিয়ে না দিয়ে দান করে দিলে কি দায়মুক্ত হওয়া যাবে?

ফতোয়া নং ১৭৫: ‘সুদের টাকা কোথায় সদকা করা উত্তম?

 

আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (উফিয়া আনহু)

০৭-০৬-১৪৪৩ হি.

১১-০১-২০২১ ঈ.