ফাতওয়া  নং  ৮২

মোটিভেশন লেটার লিখে অর্থ উপার্জন করা কি বৈধ?

মোটিভেশন লেটার লিখে অর্থ উপার্জন করা কি বৈধ?

মোটিভেশন লেটার লিখে অর্থ উপার্জন করা কি বৈধ?

প্রশ্ন:

আমি নির্দিষ্ট পারিশ্রমিকের বিনিময়ে মোটিভেশন লেটার লিখে দেই। বিদেশের বিশ্যবিদ্যালয়গুলোতে মাস্টার্স আবেদনের জন্য এটি লাগে। আবেদনকারীর যোগ্যতার ওপর এক পেজের একটা রচনা বলতে পারেন। আমি আবেদনকারী থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য জেনে কথা গুছিয়ে লিখে দেই। সে এর জন্য আমাকে কিছু পারিশ্রমিক দেয়। এভাবে অর্থ উপার্জন করা কি হারাম হবে?

প্রশ্নকারী- মোহাম্মদ রাজীব

উত্তর:

بسم الله الرحمن الرحيم

যেখানে পশ্চিমাদের থেকে আমদানিকৃত মুসলিম বিশ্বের তথাকথিত আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনা করাই আজকাল ঈমানের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেখানে ইউরোপ আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কী অবস্থা, তা আমাদের কারো অজানা থাকার কথা নয়। যে সকল মুসলিম তরুণ তরুণী সেখানে শিক্ষা গ্রহণ করতে যায়, তারা এখান থেকে নিয়ে যাওয়া ঈমানের ছিটে ফোঁটাও সেখানে রেখে আসে। তাদের শিক্ষা কারিকুলামের মূল ভিত্তিই কুফর শিরক। নাস্তিকতা, ধর্মহীনতা, সেক্যুলারিজম, পুঁজিবাদ, বিবর্তনবাদসহ অসংখ্য কুফরী শিক্ষা এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিপাদ্য। তাছাড়া কাফেরদের দেশে অবস্থান এবং কাফেরদের সংশ্রবের কুপ্রভাব তো আছেই, যা স্বতন্ত্র একটি নিষিদ্ধ ও নাজায়েয কাজ। সহশিক্ষা ও নারী পুরুষের অবাধ মেলামেশা, প্রকাশ্য অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা, লাগামহীন যৌনতার ছড়াছড়ি সেখানকার নিত্যজীবনের অপরিহার্য ও সমাদৃত অনুসঙ্গ।

আসলে মুসলিম ছেলে-মেয়েদের এসব ধর্মহীন কুফরী রাষ্ট্রের স্কলারশীপ প্রদানের প্রধানতম উদ্দেশ্যই তাদের ঈমান ধ্বংস করা। অন্যথায় যাদেরকে পবিত্র কুরআনে আমাদের শত্রু বলা হয়েছে এবং কুরআনের ভাষায়, আমরা কষ্টে থাকলেই যারা আনন্দিত হয়, তাদের জন্য মুসলিম ছেলে-মেয়েদের সুশিক্ষা ও কল্যাণের প্রতি এমন আগ্রহের কোনো কারণ থাকতে পারে না।

বস্তুত এর মাধ্যমে ওরা এমন একটি মুসলিম প্রজন্ম তৈরি করতে চায়, যারা নামে মুসলিম হলেও, চিন্তা ও কর্মে, চেতনা ও আদর্শে হবে সম্পূর্ণ ইউরোপিয়ান। যার কারণে এসব বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মুসলিমদের বেশির ভাগকেই দেখা যায়, ফেরার পর তারা অন্য মানুষে রূপান্তরিত হয়ে যায়। হয় সম্পূর্ণ ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিক মুরতাদে পরিণত হয়, না হয় বড় জোর মডারেট ইসলামের নামে এক নতুন ইসলামের উদার দাঈতে রূপান্তরিত হয়।

যাদের এই অবস্থা হয়, তাদের জন্য যে সেখানে যাওয়া এবং সেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে পাড়াশোনা করা সবই নাজায়েয, তাও বলার অপেক্ষা রাখে না।

সুতরাং আপনার জন্য মোটিভেশন লেটার লিখে তাদের এই নাজায়েয কাজে সহযোগিতা করাও নাজায়েয। অবিলম্বে তা পরিহার করা জরুরি। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন,

وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ (2). المائدة

“সৎকর্ম ও তাকওয়ায় তোমরা পরস্পরের সহযোগিতা কর। মন্দ কর্ম ও সীমালঙ্ঘনে পরস্পরের সহযোগিতা করো না। আর আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ আযাব প্রদানে কঠোর।” -সূরা মায়েদা (৫): ২

অবশ্য মোটিভেশন লেটার লিখে যে উপার্জন করেছেন, তা ভোগ করা আপনার জন্য হারাম নয়। -তাতারখানিয়া ১৫/৮৫, ১৩০-১৩৪, রদ্দুল মুহতার: ৬/৩৯১-১৯২, এলাউস সুনান: ১৭/৪৩৩

আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (উফিয়া আনহু)

০৪-১২-১৪৪১ হি.

২৬-০৭-২০২০ ইং