জিহাদ-কিতাল:দারুল ইসলাম ও দারুল হারব:ফাতওয়াসিয়ারফাতওয়া  নং  ৪১৮

কাফের হারবী রাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিক হত্যার বিধান

কাফের হারবী রাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিক হত্যার বিধান

কাফের হারবী রাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিক হত্যার বিধান

পিডিএফ ডাউনলোড করুন
ওয়ার্ড ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন:

কাফের হারবী রাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিক, যারা যুদ্ধে জড়ায় না, তাদের হত্যা করার বিধান কী? যেমন হামাস ইদানিং ইসরাইলে ব্যাপক আক্রমণ করে সৈনিকদের পাশাপাশি বেশ কিছু সাধারণ নাগরিকও হত্যা করলো। এটা শরীয়তে জায়েয কি না?

-আব্দুল্লাহ আমীন

উত্তর:

بسم الله، والحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، أما بعد.

প্রথমে আমাদের জানা দরকার, এখানে কাফের হারবী রাষ্ট্র বলতে উদ্দেশ্য হচ্ছে, কাফেরদের এমন রাষ্ট্র, যার ক্ষমতা কাফেরদের হাতে এবং তা মানব রচিত কুফরী আইনে পরিচালিত।[1] এমন রাষ্ট্র দারুল হারব এবং এমন রাষ্ট্রের নাগরিক হারবী হওয়ার ব্যাপারে ফুকাহায়ে কেরামের কারও দ্বিমত নেই। প্রশ্নের আলোচ্য বিষয় হচ্ছে এমন রাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিক, যারা যুদ্ধে যুক্ত না, তাদের হত্যা করার বিধান কি?

শুরুতে আমরা শরীয়তের মূল মাসআলাটি বুঝার চেষ্টা করবো। তারপর ইসরাইলে হামাসের আক্রমণ সম্পর্কে আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ।

কাফের মানেই, তার সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা ও রিযিকদাতার মতো মহান ও একমাত্র মাবুদের অবাধ্য, অকৃতজ্ঞ ও বিরুদ্ধচারী। সৃষ্টি জগতের সর্বশ্রেষ্ঠ বিষয়, সকল কল্যাণের আধার ঈমানের সঙ্গে সে বিদ্রোহী। সৃষ্টি জগতের সর্বনিকৃষ্ট বিষয়, সকল অনিষ্টের উৎসমূল কুফর ও শিরকের সে ঘনিষ্ঠতর মিত্র, বাহক ও একনিষ্ঠ রক্ষক। স্বভাবতই সে ঈমানের শাখা-প্রশাখাসহ অন্য সকল কল্যাণের সঙ্গেও বিদ্রোহী। সকল কল্যাণের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা এবং সকল অন্যায়-অনাচার, অকল্যাণ ও অনিষ্টের প্রচার প্রসার করা কাফের-মুশরিকের মজ্জাগত স্বভাব। কখনও যদি এর ব্যতিক্রম দেখা যায়, বুঝতে হবে এটা তার সাময়িক রূপ; খণ্ডিত চিত্র; আসল রূপ ও মূল চরিত্র নয়। এবিষয়টি আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারীমের বিভিন্ন আয়াতে ব্যক্ত করেছেন।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,

{وَلَا يَزَالُونَ يُقَاتِلُونَكُمْ حَتَّى يَرُدُّوكُمْ عَنْ دِينِكُمْ إِنِ اسْتَطَاعُوا} [البقرة: 217]

“তারা (কাফেররা) ক্রমাগত তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে থাকবে, যতক্ষণ না তারা তোমাদেরকে তোমাদের দীন থেকে ফেরাতে পারে; যদি তারা সামর্থ্য হয়।”–সূরা বাকারা ০২: ২১৭

আরও ইরশাদ করেন,

{وَدُّوا لَوْ تَكْفُرُونَ كَمَا كَفَرُوا فَتَكُونُونَ سَوَاءً } [النساء: 89]

“তারা মন থেকে কামনা করে, তোমরাও যদি কুফরী করতে, যেমন তারা কুফরী করেছে, ফলে তোমরা তাদের বরাবর হয়ে যেতে!” –সূরা নিসা ০৪: ৮৯

অন্যত্র ইরশাদ করেন,

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا بِطَانَةً مِنْ دُونِكُمْ لَا يَأْلُونَكُمْ خَبَالًا وَدُّوا مَاعَنِتُّمْ قَدْ بَدَتِ الْبَغْضَاءُ مِنْ أَفْوَاهِهِمْ وَمَا تُخْفِي صُدُورُهُمْ أَكْبَرُ قَدْ بَيَّنَّا لَكُمُ الْآيَاتِ إِنْ كُنْتُمْ تَعْقِلُونَ (118) هَاأَنْتُمْ أُولَاءِ تُحِبُّونَهُمْ وَلَا يُحِبُّونَكُمْ وَتُؤْمِنُونَ بِالْكِتَابِ كُلِّهِ وَإِذَا لَقُوكُمْ قَالُوا آمَنَّا وَإِذَا خَلَوْا عَضُّوا عَلَيْكُمُ الْأَنَامِلَ مِنَ الْغَيْظِ قُلْ مُوتُوا بِغَيْظِكُمْ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ (119) إِنْ تَمْسَسْكُمْ حَسَنَةٌ تَسُؤْهُمْ وَإِنْ تُصِبْكُمْ سَيِّئَةٌ يَفْرَحُوا بِهَا وَإِنْ تَصْبِرُوا وَتَتَّقُوا لَا يَضُرُّكُمْ كَيْدُهُمْ شَيْئًا إِنَّ اللَّهَ بِمَا يَعْمَلُونَ مُحِيطٌ} [آل عمران: 118 – 120]

“হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের বাইরের কোনো ব্যক্তিকে অন্তরঙ্গ বন্ধু বানিও না। তারা তোমাদের অনিষ্ট কামনায় কোনো রকম ত্রুটি করে না। তাদের আন্তরিক ইচ্ছা, তোমরা যেন কষ্ট ভোগ কর। তাদের মুখ থেকেই আক্রোশ বের হয়ে গেছে। আর তাদের অন্তরে যা কিছু (বিদ্বেষ) গোপন আছে, তা আরও ভয়ঙ্কর। আমি তোমাদেরকে পরিষ্কার জানিয়ে দিলাম, যদি তোমরা বুদ্ধিকে কাজে লাগাও। দেখো, তোমরা তো এমন যে, তোমরা তাদেরকে ভালোবাসো, কিন্তু তারা তোমাদেরকে ভালোবাসে না। আর তোমরা তো সমস্ত (আসমানী) কিতাবের উপর ঈমান রাখো, কিন্তু (তাদের অবস্থা হল) তারা যখন তোমাদের সাথে মিলিত হয়, তখন বলে, আমরা (কুরআনের উপর) ঈমান এনেছি। আর যখন নিভৃতে চলে যায়, তখন তোমাদের প্রতি আক্রোশে নিজেদের আঙ্গুল কামড়ায়। (তাদের) বলে দাও, তোমরা নিজেদের আক্রোশে নিজেরা মর। আল্লাহ অন্তরের গুপ্ত বিষয়ও ভালো করে জানেন। তোমাদের যদি কোনো কল্যাণ লাভ হয়, তবে তাদের খারাপ লাগে। পক্ষান্তরে তোমাদের যদি মন্দ কিছু ঘটে, তাতে তারা খুশি হয়। তোমরা সবর ও তাকাওয়া অবলম্বন করলে, তাদের চক্রান্ত তোমাদের কোনও ক্ষতি সাধন করতে পারবে না। তারা যা কিছু করছে, তা সবই আল্লাহর (জ্ঞান ও শক্তির) আওতাভুক্ত।” –সূরা আলে ইমরান ০৩: ১১৮-১২০

অনত্র ইরশাদ করেন,

{كَيْفَ وَإِنْ يَظْهَرُوا عَلَيْكُمْ لَا يَرْقُبُوا فِيكُمْ إِلًّا وَلَا ذِمَّةً يُرْضُونَكُمْ بِأَفْوَاهِهِمْ وَتَأْبَى قُلُوبُهُمْ وَأَكْثَرُهُمْ فَاسِقُونَ (8) اشْتَرَوْا بِآيَاتِ اللَّهِ ثَمَنًا قَلِيلًا فَصَدُّوا عَنْ سَبِيلِهِ إِنَّهُمْ سَاءَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ (9) لَا يَرْقُبُونَ فِي مُؤْمِنٍ إِلًّا وَلَا ذِمَّةً وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُعْتَدُونَ } [التوبة: 8 – 10]

“(কিন্তু মুশরিকদের সাথে) কেমন করে চুক্তি বলবৎ থাকবে! তাদের অবস্থা তো হল, তারা কখনও তোমাদের উপর বিজয়ী হলে তোমাদের ব্যাপারে কোনোরূপ আত্মীয়তার মর্যাদা রাখে না এবং অঙ্গীকারেরও না। তারা মুখে তোমাদেরকে সন্তুষ্ট রাখতে চায়, অথচ তাদের অন্তর তা অস্বীকার করে। তাদের অধিকাংশই অবাধ্য। তারা আল্লাহর আয়াতসমূহের বিনিময়ে (দুনিয়ার) তুচ্ছ মূল্য গ্রহণকেই পছন্দ করেছে। ফলে আল্লাহর পথে বাধা প্রদান করে। বস্তুত তাদের কাজকর্ম অতি নিকৃষ্ট। তারা কোনো মুমিনের ক্ষেত্রেই কোনো আত্মীয়তার মূল্য দেয় না এবং অঙ্গীকারেরও না এবং তারাই সীমালঙ্ঘনকারী।” –সূরা তাওবা ০৯: ৮-১০

তিনি আরও ইরশাদ করেন,

{وَمَا لَهُمْ أَلَّا يُعَذِّبَهُمُ اللَّهُ وَهُمْ يَصُدُّونَ عَنِ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَمَا كَانُوا أَوْلِيَاءَهُ إِنْ أَوْلِيَاؤُهُ إِلَّا الْمُتَّقُونَ وَلَكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ (34) وَمَا كَانَ صَلَاتُهُمْ عِنْدَ الْبَيْتِ إِلَّا مُكَاءً وَتَصْدِيَةً فَذُوقُوا الْعَذَابَ بِمَا كُنْتُمْ تَكْفُرُونَ (35) إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا يُنْفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ لِيَصُدُّوا عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ فَسَيُنْفِقُونَهَا ثُمَّ تَكُونُ عَلَيْهِمْ حَسْرَةً ثُمَّ يُغْلَبُونَ وَالَّذِينَ كَفَرُوا إِلَى جَهَنَّمَ يُحْشَرُونَ (36) لِيَمِيزَ اللَّهُ الْخَبِيثَ مِنَ الطَّيِّبِ وَيَجْعَلَ الْخَبِيثَ بَعْضَهُ عَلَى بَعْضٍ فَيَرْكُمَهُ جَمِيعًا فَيَجْعَلَهُ فِي جَهَنَّمَ أُولَئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ (37) قُلْ لِلَّذِينَ كَفَرُوا إِنْ يَنْتَهُوا يُغْفَرْ لَهُمْ مَا قَدْ سَلَفَ وَإِنْ يَعُودُوا فَقَدْ مَضَتْ سُنَّتُ الْأَوَّلِينَ (38) وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّى لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ كُلُّهُ لِلَّهِ فَإِنِ انْتَهَوْا فَإِنَّ اللَّهَ بِمَا يَعْمَلُونَ بَصِيرٌ (39) } [الأنفال: 34 – 40]

“আর তাদের কী আছে যে, আল্লাহ তাদেরকে আযাব দেবেন না? তারা তো মসজিদুল হারাম থেকে বাধা প্রদান করে, অথচ তারা এর অভিভাবকও নয়। তার অভিভাবক তো শুধু মুত্তাকীগণ; কিন্তু তাদের অধিকাংশ জানে না। কাবার নিকট তাদের সালাত শিষ ও হাত-তালি ছাড়া কিছু ছিল না। সুতরাং তোমরা আযাব আস্বাদন কর। কারণ তোমরা কুফরী করতে।

নিশ্চয় যারা কুফরী করেছে, তারা নিজেদের সম্পদসমূহ ব্যয় করে, আল্লাহর রাস্তা হতে বাধা প্রদান করার উদ্দেশ্যে। হ্যাঁ, তারা তা ব্যয় করবে। অতঃপর এটি তাদের উপর আক্ষেপের কারণ হবে, এরপর তারা পরাজিত হবে। আর যারা কুফরী করেছে তাদেরকে জাহান্নামে সমবেত করা হবে। যাতে আল্লাহ পৃথক করেন মন্দকে ভালো হতে আর মন্দের কতককে কতকের উপর রাখবেন এবং সেগুলোকে একসাথে স্তূপ করবেন। এরপর তা জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন। তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত। যারা কুফরী করেছে তুমি তাদেরকে বল, যদি তারা বিরত হয়, তাহলে অতীতে যা হয়েছে তাদেরকে তা ক্ষমা করা হবে। আর যদি তারা পুনরায় করে, তাহলে পূর্ববর্তীদের (ব্যাপারে আল্লাহর) রীতি তো গত হয়েছে।

আর যদি তারা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে, তাহলে জেনে রাখো, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের অভিভাবক। তিনি কতই না উত্তম অভিভাবক এবং কতই না উত্তম সাহায্যকারী। তোমরা তাদের বিরুদ্ধে কিতাল কর, যতক্ষণ না ফিতনার অবসান হয় এবং দীন পূর্ণরূপে আল্লাহর জন্য হয়ে যায়। তবে যদি তারা বিরত হয়, তাহলে নিশ্চয় আল্লাহ তারা যা করে তার সম্যক দ্রষ্টা।” –সূরা আনফাল ০৮: ৩৪-৪০

একারণে কোনো কাফের কার্যত ইসলাম ও মুসলমান এবং ঈমান ও কল্যাণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ না করলেও, তার মূল স্বভাব ও যুদ্ধের সক্ষমতার ভিত্তিতেই শরীয়ত তাকে মুহারিব গণ্য করে এবং একজন যোদ্ধার মতো তাকেও হত্যা করা বৈধ গণ্য করে, যতক্ষণ না তার ইসলাম গ্রহণ কিংবা ইসলামী শরীয়তের বশ্যতা স্বীকার করে যিম্মা চুক্তির মাধ্যমে এ কথা নিশ্চিত করা যায় যে, এখন পৃথিবীর সকল কল্যাণ ও কল্যাণের প্রসার তার অনিষ্ট, প্রভাব ও প্রতিবন্ধকতা থেকে মুক্ত। সকল কল্যাণ প্রত্যাশী কল্যাণ গ্রহণে স্বাধীন ও শঙ্কাহীন। কুরআনে কারীমের বিভিন্ন আয়াত ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশনার ভিত্তিতে চার মাযহাবের মতামতও এখানে এক ও অভিন্ন। আমরা বিস্তারিত আলোচনায় না গিয়ে সংক্ষেপে কিছু দলীল পেশ করছি।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,

{وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّى لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ لِلَّهِ فَإِنِ انْتَهَوْا فَلَا عُدْوَانَ إِلَّا عَلَى الظَّالِمِينَ } [البقرة: 193]

“তোমরা তাদের সঙ্গে কিতাল করতে থাকো, যতক্ষণ না ফিতনা নির্মূল হয়ে যায় এবং দীন আল্লাহর হয়ে যায়। অতঃপর তারা যদি ক্ষান্ত হয়, তবে (জেনে রাখো) জালিম ছাড়া অন্য কারও প্রতি কঠোরতা করার অবকাশ নেই।” –সূরা বাকারা ০২: ১৯৩

এখানে ফিতনা দ্বারা উদ্দেশ্য কুফর শিরকের এমন অবস্থান, যা ইসলামের দাওয়াত ও প্রচার প্রসারে বাধা হওয়ার সামর্থ্য রাখে।

ইমাম ফখরুদ্দীন রাযি রহিমাহুল্লাহ (৬০৬ হি.) বলেন,

… أنها الشرك والكفر، قالوا: كانت فتنتهم أنهم كانوا يضربون ويؤذون أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم بمكة حتى ذهبوا إلى الحبشة ثم واظبوا على ذلك الإيذاء حتى ذهبوا إلى المدينة وكان غرضهم من إثارة تلك الفتنة أن يتركوا دينهم ويرجعوا كفارا، فأنزل الله تعالى هذه الآية، والمعنى: قاتلوهم حتى تظهروا عليهم فلا يفتنوكم عن دينكم فلا تقعوا في الشرك اهـ. – التفسير الكبير: 5/ 291، الناشر: دار إحياء التراث العربي – بيروت.

“ফিতনা হচ্ছে, শিরক এবং কুফর। সাহাবায়ে কেরাম রাযিয়াল্লাহু আনহুমের সময়ে ফিতনা ছিল, তারা (মুশরিকরা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদেরকে মক্কায় প্রহার করতো এবং কষ্ট দিতো। এক পর্যায়ে তাঁরা হাবশায় চলে যায়। অতঃপর তারা অবিরাম নির্যাতন চালাতে থাকে, যতক্ষণ না মুমিনরা মদীনায় চলে যায়। সেই ফিতনা উসকে দেয়ার উদ্দেশ্য ছিল, তাঁরা (মুসলমানরা) যেন তাঁদের দীন ছেড়ে দেয় এবং পুনরায় কাফের হয়ে যায়। অতঃপর আল্লাহ তাআলা এই আয়াত নাযিল করেন। আয়াতের অর্থ হচ্ছে, তোমরা তাদের উপর বিজয় হওয়া পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কিতাল করো, যাতে তোমাদেরকে তোমাদের দীন থেকে সরাতে না পারে। তাহলে তোমরা শিরকে পতিত হবে না।” –তাফসীরে কাবীর ৫/২৯১

এর ব্যাখ্যা অন্য আয়াতে এসেছে,

{قَاتِلُوا الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَلَا بِالْيَوْمِ الْآخِرِ وَلَا يُحَرِّمُونَ مَا حَرَّمَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَلَا يَدِينُونَ دِينَ الْحَقِّ مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ حَتَّى يُعْطُوا الْجِزْيَةَ عَنْ يَدٍ وَهُمْ صَاغِرُونَ (29)} [التوبة: 29]

“কিতাবীদের মধ্যে যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখে না, পরকালের প্রতিও না এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা কিছু হারাম করেছেন, তাকে হারাম মনে করে না এবং সত্য দীনকে দীন হিসেবে গ্রহণ করে না, তাদের সঙ্গে যুদ্ধ কর, যাবৎ না তারা হেয় হয়ে নিজ হাতে জিযিয়া আদায় করে।” –সূরা তাওবা ০৯: ২৯

অন্য আয়াতে ইরশাদ হচ্ছে,

{وَقَاتِلُوا الْمُشْرِكِينَ كَافَّةً كَمَا يُقَاتِلُونَكُمْ كَافَّةً وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ مَعَ الْمُتَّقِينَ (36) } [التوبة: 36]

“এবং তোমরা সকলে মিলে মুশরিকদের সাথে লড়াই কর, যেমন তারা সকলে মিলে তোমাদের সাথে লড়াই করে। আর নিশ্চিত জানবে, আল্লাহ মুত্তাকীদের সঙ্গে আছেন।” –সূরা তাওবা ০৯: ৩৬

এক হাদীসে এসেছে,

عن سليمان بن بريدة، عن أبيه، قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا أمر أميرا على جيش، أو سرية، أوصاه في خاصته بتقوى الله، ومن معه من المسلمين خيرا، ثم قال: «اغزوا باسم الله في سبيل الله، قاتلوا من كفر بالله، اغزوا ولا تغلوا، ولا تغدروا، ولا تمثلوا، ولا تقتلوا وليدا، وإذا لقيت عدوك من المشركين، فادعهم إلى ثلاث خصال – أو خلال – فأيتهن ما أجابوك فاقبل منهم، وكف عنهم، ثم ادعهم إلى الإسلام، فإن أجابوك، فاقبل منهم، وكف عنهم، ثم ادعهم إلى التحول من دارهم إلى دار المهاجرين، وأخبرهم أنهم إن فعلوا ذلك فلهم ما للمهاجرين، وعليهم ما على المهاجرين، فإن أبوا أن يتحولوا منها، فأخبرهم أنهم يكونون كأعراب المسلمين، يجري عليهم حكم الله الذي يجري على المؤمنين، ولا يكون لهم في الغنيمة والفيء شيء إلا أن يجاهدوا مع المسلمين، فإن هم أبوا فسلهم الجزية، فإن هم أجابوك فاقبل منهم، وكف عنهم، فإن هم أبوا فاستعن بالله وقاتلهم …». -صحيح مسلم: 1731، الناشر: دار إحياء التراث العربي – بيروت.

“বুরায়দা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোনো বড় সেনাদল কিংবা ছোট সেনাদলের আমীর নিযুক্ত করতেন, তখন বিশেষ করে তাঁকে আল্লাহর ভয় অবলম্বন এবং তাঁর সঙ্গী মুসলমানদের প্রতি সদাচারের উপদেশ দিতেন। অতঃপর বলতেন, যুদ্ধ করো আল্লাহর নামে, আল্লাহর রাস্তায়। কিতাল করো তাদের বিরুদ্ধে যারা আল্লাহর সঙ্গে কুফরী করেছে। যুদ্ধ করো, তবে (গনীমতের মালের) খিয়ানত করো না, চুক্তি ভঙ্গ করো না, শক্র পক্ষের অঙ্গ বিকৃতি করো না। শিশুদেরকে হত্যা করো না।

যখন তুমি মুশরিক শক্রর সম্মুখীন হবে, তখন তাকে তিনটি বিষয়ের প্রতি আহ্বান জানাবে। তারা এগুলোর মধ্য থেকে যেটাই গ্রহণ করবে, তুমি তাদের পক্ষ থেকে তা মেনে নিবে এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ থেকে বিরত থাকবে। প্রথমে তাদেরকে ইসলামের দিকে দাওয়াত দিবে। যদি তারা তোমার এই আহ্বানে সাড়া দেয়, তবে তুমি তাদের পক্ষ থেকে তা মেনে নিবে এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা থেকে বিরত থাকবে। এরপর তুমি তাদেরকে মুশরিকদের আবাসস্থল ত্যাগ করে মুহাজিরদের এলাকায় চলে যাওযার আহ্বান জানাবে এবং তাদের জানিয়ে দিবে যে, যদি তারা তা করে, তবে মুহাজিরদের জন্য যে সব লাভ-লোকসান ও দায়-দায়িত্ব রয়েছে, তা তাদের উপরও বর্তাবে। আর যদি তারা আবাসস্থল ত্যাগ করতে অস্বীকার করে, তবে তাদের জানিয়ে দেবে, তারা সাধারণ বেদুঈন মুসলমানদের মতো গণ্য হবে। তাদের উপর আল্লাহর সেই বিধান কার্যকর হবে, যা সাধারণ মুসলমানদের উপর কার্যকর হয় এবং তারা গনীমত ও ‘মালে ফাই’ থেকে কিছু পাবে না। অবশ্য মুসলমানদের সঙ্গে শামিল হয়ে যুদ্ধ করলে (তার অংশীদার হবে)।

আর যদি তারা ইসলাম গ্রহণ করতে অস্বীকার করে তবে তাদেরকে জিযিয়া প্রদানের আহ্বান করবে। যদি তারা তাতে সাড়া দেয়, তবে তুমি তাদের তা মেনে নিবে এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ থেকে বিরত থাকবে। আর যদি তারা এ দাবি না মানে, তবে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাও এবং তাদের বিরুদ্ধে কিতাল (শুরু) করো …।” –সহীহ মুসলিম: ১৭৩১

উক্ত আয়াত ও হাদীসে ব্যাপকভাবে সকল কাফেরের সঙ্গে কিতাল করার অনুমতি এবং নির্দেশ দেয়া হয়েছে, যতক্ষণ না তারা ইসলাম গ্রহণ করে কিংবা জিযিয়া প্রদান করে ইসলামী শাসনের বশ্যতা শিকার করে; চাই তারা কার্যত মুসলিমদের সঙ্গে যুদ্ধ করুক অথবা না করুক। হ্যাঁ, শরীয়তের বিভিন্ন দলীলের ভিত্তিতে ফুকাহায়ে কেরাম এই ব্যাপকতা থেকে কিছু শ্রেণিকে আলাদা করেছেন এবং তাদের ব্যতিক্রম বিধান বর্ণনা করেছেন। যেমন:

এক. নারী ও শিশু

নারী ও শিশু, এই দুই শ্রেণির জন্য হাদীসে ভিন্ন বিধান দেয়া হয়েছে এবং তারা কোনোভাবে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সক্রিয় না হলে, তাদের হত্যা করতে নিষেধ করা হয়েছে। সহীহ বুখারীতে এসেছে,

عن ابن عمر رضي الله عنهما قال  : وجدت امرأة مقتولة في بعض مغازي رسول الله صلى الله عليه و سلم فنهى رسول الله صلى الله عليه و سلم عن قتل النساء والصبيان. -صحيح البخاري، دار ابن كثير (3/ 1098)، الرقم: 2852

“ইবনে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত; তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো এক যুদ্ধে এক মহিলাকে নিহত অবস্থায় পাওয়া গেল। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলা ও শিশুদের হত্যা করতে নিষেধ করলেন।” -সহীহ বুখারী: ২৮৫২

আরেক হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,

اقْتُلُوا شُيُوخَ المُشْرِكِينَ، وَاسْتَحْيُوا شَرْخَهُمْ[2]. … حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ. -سنن الترمذي ت شاكر (4/ 145)، الرقم: 1583

“মুশরিকদের প্রাপ্ত বয়স্কদেরকে হত্যা কর এবং শিশুদেরকে না মেরে গোলাম বানাও।” –সুনানে তিরমিযী: ১৫৮৩

ফুকাহায়ে কেরাম বলেছেন, নারীদের হত্যা নাজায়েয হওয়ার কারণ হচ্ছে, তারা সৃষ্টিগতভাবেই কিতালের উপযোগী না।-শরহুস সিয়ারিল কাবীর, পৃ: ১৮৪ (আশশারিকাতুশ শারকিয়্যাহ); আলমাবসূত ১০/১১০ (দারুল মারিফা, বৈরুত)।

আর অপ্রাপ্ত বয়স্কদের হত্যা নিষেধ হওয়ার কারণ হচ্ছে, তারা মুকাল্লাফ তথা শরীয়তের বিধি-বিধানে আদিষ্ট না।-শারহুস সিয়ারিল কাবীর, পৃ: ১৪১৬; বাদায়িউস সানায়ি: ৭/১০১ (দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ)।

ফুকাহায়ে কেরাম আরও বলেছেন, নারীপ্রবণ খুনছা (হিজড়া)ও নারীদের মতো এবং পাগল যেহেতু শরীয়তের মুকাল্লাফ না, এজন্য পাগল শিশুদের মতো। সুতরাং স্বাভাবিক অবস্থায় হিজড়া ও পাগলকেও হত্যা করা যাবে না। -আলকাফী ফী ফিকহিল ইমাম আহমাদ, ইবনে কুদামা: ৪/১২৫ (দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ), আল-মাউসুআতুল ফিকহিয়্যাহ: ১৬/১৪৮ (ওযারাতুল আওকাফ, কুয়েত), শারহুস সিয়ারিল কাবীর, পৃ: ১৪১৬; বাদায়েউস সানায়ে: ৭/১০১ (দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ)।

দুই. যুদ্ধে অক্ষম

এছাড়া ফুকাহায়ে কেরাম বিভিন্ন দলীলের ভিত্তিতে এমন ব্যক্তিদেরও হত্যা করতে নিষেধ করেছেন, যারা শারীরিক ও মানসিক কোনোভাবেই যুদ্ধ করার সক্ষমতা রাখে না। যেমন এই পর্যায়ের অন্ধ, পঙ্গু, লেংড়া, বিপরীত দিক থেকে হাত-পা কাটা ও পক্ষাঘাতগ্রস্ত ইত্যাদি, যারা স্বাভাবিকভাবে না সশরীরে যুদ্ধে অংশ গ্রহণের যোগ্যতা রাখে, না শলা-পরামর্শ ও উৎসাহ-উদ্দীপনা যুগিয়ে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করতে পারে। তবে এই শ্রেণিকে হত্যা করা জুমহুর ফুকাহায়ে কেরামের দৃষ্টিতে নাজায়েয হলেও, শাফেয়ী মাযহাবে এই বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। এছাড়া কেউ কেউ এমন সন্ন্যাসী, কৃষক ও গোলামকেও হত্যা করতে নিষেধ করেছেন, যাদের চিন্তা-চেতনায়ও যুদ্ধের কোনো কল্পনা নেই এবং বলা যায়, আকীদাগত কারণে কিংবা অন্য কোনো কারণে মানসিকভাবে তারা যুদ্ধের উপযোগী নয় কিংবা যুদ্ধের সাহস ও হিম্মত রাখে না।

এমন কিছু ব্যতিক্রম বাদে অন্য সকল কাফেরকে হত্যা করা চার মাযহাবেই জায়েয। এদের হত্যা এজন্যই জায়েয যে, তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে যুদ্ধের সক্ষমতা রাখে।

ইমাম কাসানী রহিমাহুল্লাহ (৫৮৭ হি.) বলেন,

والأصل فيه أن كل من كان من أهل القتال يحل قتله، سواء قاتل أو لم يقاتل، وكل من لم يكن من أهل القتال لا يحل قتله إلا إذا قاتل حقيقة أو معنى بالرأي والطاعة والتحريض، وأشباه ذلك على ما ذكرنا، فيقتل القسيس والسياح الذي يخالط الناس، والذي يجن ويفيق، والأصم والأخرس، وأقطع اليد اليسرى، وأقطع إحدى الرجلين، وإن لم يقاتلوا؛ لأنهم من أهل القتال. -بدائع الصنائع في ترتيب الشرائع (7/ 101)

“এক্ষেত্রে মূলনীতি হল, যে কেউ যুদ্ধ করার উপযুক্ত, সে যুদ্ধ করুক অথবা না করুক, তাকে হত্যা করা জায়েয। আর যে যুদ্ধের উপযুক্ত নয়, তাকে হত্যা করা নাজায়েয। তবে অক্ষমদের কেউ যদি সরাসরি যুদ্ধে আসে অথবা বুদ্ধি-পরামর্শ দিয়ে কিংবা নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি হওয়ার কারণে কিংবা উৎসাহ প্রদানের মাধ্যমে এবং অনুরূপ যেকোনো উপায়ে পরোক্ষভাবে লড়াইয়ে অংশ নেয়, উল্লেখিত মূলনীতির আলোকে তাদেরও হত্যা করা জায়েয। সুতরাং মানুষের সাথে মেশে এমন পাদ্রি, সন্ন্যাসী এবং যে ব্যক্তি পাগল হয়ে যায় আবার জ্ঞান ফিরে পায় এবং বোবা ও বধির এবং যার বাম হাত ও এক পা কাটা, তাদেরকে হত্যা করা যাবে, যদিও তারা লড়াই না করে। কেননা তারা যুদ্ধ করার উপযুক্ত।” –বাদায়েউস সানায়ে: ৭/১০১

এমনকি যে ব্যক্তি অসুস্থতার কারণে ফিলহাল যুদ্ধের যোগ্যতা রাখে না, কিন্তু সুস্থ হলে যুদ্ধে সক্ষম হবে, তাদেরও হত্যা করা জায়েয।-ইবনে কুদামা রহিমাহুল্লাহ (৬২০ হি.) বলেন,

فصل: فأما المريض، فيقتل إذا كان ممن لو كان صحيحا قاتل لأنه بمنزلة الإجهاز على الجريح، إلا أن يكون مأيوسا من برئه فيكون بمنزلة الزمن، لا يقتل، لأنه لا يخاف منه أن يصير إلى حال يقاتل فيها. –المغني لابن قدامة (9/ 311-313)

“আর অসুস্থ ব্যক্তি যখন এমন হয় যে, সুস্থ হলে সে কিতাল করতে পারবে, তাকেও হত্যা করা হবে। কেননা এটা আহত ব্যক্তিকে হত্যা করার মতো। তবে তার সুস্থতার ব্যাপারে নিরাশ হলে, সে পক্ষাঘাতগ্রস্ত ব্যক্তির স্তরে হবে, তাকে হত্যা করা যাবে না। কারণ সে কিতাল করার মতো অবস্থায় উপনীত হবে, এমন কোনো শঙ্কা তার থেকে নেই।” –আল-মুগনী: ৯/৩১৩

নিম্নে আমরা চারো মাযহাবের ফুকাহায়ে কেরামের কিছু বক্তব্য তুলে ধরছি, যেখানে তাঁরা এমন ব্যক্তিদের তালিকা দিয়েছেন, যাদেরকে স্বাভাবিক অবস্থায় হত্যা করা নিষেধ। এই তালিকায় কোনো মাযহাবেই এমন ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, যারা যুদ্ধে জড়ায় না এবং যাদেরকে আজকাল হারবী রাষ্ট্রের নিরীহ নাগরিক বলে মুজাহিদদের বিরুদ্ধে প্রোপাগাণ্ডা ছাড়ানো হয়। বরং যারা যুদ্ধে জড়ায় না কিন্তু যুদ্ধের সক্ষমতা রাখে, তাদেরকেও হত্যা করা যাবে, একথা ফুকাহায়ে কেরাম স্পষ্ট করেই বলেছেন।

হানাফী মাযহাব

হিদায়া গ্রন্থকার মারগিনানি রহিমাহুল্লাহ (৫৯৩ হি.) বলেন,

“ولا يقتلوا امرأة ولا صبيا ولا شيخا فانيا ولا مقعدا ولا أعمى ” لأن المبيح للقتل عندنا هو الحراب ولا يتحقق منهم، ولهذا لا يقتل يابس الشق والمقطوع اليمنى والمقطوع يده ورجله من خلاف. والشافعي رحمه الله تعالى يخالفنا في الشيخ الفاني والمقعد والأعمى، لأن المبيح عنده الكفر. … ” الهداية في شرح بداية المبتدي (2/ 380)

“মুজাহিদগণ নারী, শিশু, অতিশয় বৃদ্ধ, পক্ষাঘাতগ্রস্ত ও অন্ধকে হত্যা করবে না। কেননা আমাদের মতে হত্যার কারণ হচ্ছে ‘হিরাব’[3] তথা কিতালের যোগ্যতা। আর তা এদের থেকে পাওয়া যায় না। এ কারণে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত, ডান হাত কাটা কিংবা বিপরীত দিক থেকে এক হাত এক পা কাটা, এমন ব্যক্তিকে হত্যা করা যাবে না। ইমাম শাফেয়ী রহিমাহুল্লাহ অতিশয় বৃদ্ধ, পক্ষাঘাতগ্রস্ত ও অন্ধ ব্যক্তির ক্ষেত্রে আমাদের (হানাফীদের) বিপরীত বলেন; কেননা তাঁর মতে হত্যার কারণ হচ্ছে, কুফর।” –হিদায়া: ২/৩৮০

ইমাম কাসানী রহিমাহুল্লাহ (৫৮৭ হি.) বলেন,

وأما بيان من يحل قتله من الكفرة ومن لا يحل، فنقول: الحال لا يخلو إما أن يكون حال القتال، أو حال ما بعد الفراغ من القتال، وهي ما بعد الأخذ والأسر. أما حال القتال فلا يحل فيها قتل امرأة ولا صبي، ولا شيخ فان، ولا مقعد ولا يابس الشق، ولا أعمى، ولا مقطوع اليد والرجل من خلاف، ولا مقطوع اليد اليمنى، ولا معتوه، ولا راهب في صومعة، ولا سائح في الجبال لا يخالط الناس، وقوم في دار أو كنيسة ترهبوا وطبق عليهم الباب.

أما المرأة والصبي، فلقول النبي – عليه الصلاة والسلام – «لا تقتلوا امرأة ولا وليدا». وروي أنه – عليه الصلاة والسلام – رأى في بعض غزواته امرأة مقتولة فأنكر ذلك وقال – عليه الصلاة والسلام -: «هاه ما أراها قاتلت، فلم قتلت؟ ونهى عن قتل النساء والصبيان». ولأن هؤلاء ليسوا من أهل القتال، فلا يقتلون. –بدائع الصنائع في ترتيب الشرائع (7/ 101)

“যেসব কাফেরকে হত্যা করা জায়েয এবং যাদের হত্যা করা জায়েয নয়, এ সম্পর্কে আমরা বলবো, এক্ষেত্রে দুটি অবস্থা। যুদ্ধরত অবস্থা এবং যুদ্ধ থেকে ফারেগ হওয়ার পর গ্রেফতার ও বন্দী করা অবস্থা। যুদ্ধ চলাকালে নারী, শিশু, অতিশয় বৃদ্ধ, বিকলাঙ্গ, পক্ষাঘাতগ্রস্ত, অন্ধ, বিপরীত দিক থেকে হাত ও পা কাটা, ডান হাত কাটা, মানসিক প্রতিবন্ধী, গির্জাবদ্ধ পাদ্রি ও পাহাড়ের সন্ন্যাসী, যারা মানুষের সাথে মেশে না এবং এমন মানুষজন, যারা ঘরে কিংবা গির্জায় বৈরাগ্য জীবন গ্রহণ করে নিয়েছে এবং দরজা বন্ধ করে রাখে, তাদেরকে হত্যা করা জায়েয নেই। নারী ও শিশুদের হত্যা নিষেধ হওয়ার কারণ হচ্ছে, নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াসসালামের বাণী: “তোমরা নারী এবং শিশুদের হত্যা করো না।” আরও বর্ণিত হয়েছে, নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াসসালাম কোনো এক যুদ্ধে একজন নিহত নারীকে দেখতে পেলেন। অতঃপর তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং ইরশাদ করেন: “আহ! সে তো লড়াই করে মনে হয় না। তাকে কেন হত্যা করা হলো? এরপর তিনি নারী ও শিশুদের হত্যা করতে নিষেধ করেন।” তাদের হত্যা নিষেধ হওয়ার আরেকটি কারণ হচ্ছে, তারা যুদ্ধের উপযুক্ত নয়, তাই তাদেরকে হত্যা করা যাবে না।” – বাদায়িউস সানায়ি: ৭/১০১

শামসুল আইম্মাহ সারাখসী রহিমাহুল্লাহ (৪৯০ হি.) বলেন,

قال: لا ينبغي أن يقتل النساء من أهل الحرب ولا الصبيان ولا المجانين ولا الشيخ الفاني.شرح السير الكبير (ص: 1415)

“হারবীদের নারী, শিশু, পাগল এবং অতিশয় বৃদ্ধদের হত্যা করা জায়েয নেই।” –শারহুস সিয়ারিল কাবীর, পৃ: ১৪১৫

মালেকী মাযহাব

শায়খ আহমাদ দারদির রহিমাহুল্লাহ (১২০১ হি.) ‘আশশারহুল কাবীর’-এ বলেন,

جَازَ قَتْلُهُمْ (إلَّا) سَبْعَةً (الْمَرْأَةَ) فَلَا تُقْتَلُ (إلَّا فِي مُقَاتَلَتِهَا) فَيَجُوزُ قَتْلُهَا إنْ قَتَلَتْ أَحَدًا أَوْ قَاتَلَتْ بِسِلَاحٍ كَالرِّجَالِ … (وَ) إلَّا (الصَّبِيَّ) الْمُطِيقَ لِلْقِتَالِ فَلَا يَجُوزُ قَتْلُهُ، وَيَجْرِي فِيهِ مَا فِي الْمَرْأَةِ مِنْ التَّفْصِيلِ. (وَ) إلَّا (الْمَعْتُوهَ) أَيْ ضَعِيفَ الْعَقْلِ فَالْمَجْنُونُ أَوْلَى (كَشَيْخٍ فَانٍ) لَا قُدْرَةَ لَهُ عَلَى الْقِتَالِ (وَزَمِنٍ) … أَيْ عَاجِزٍ (وَأَعْمَى) … (وَرَاهِبٍ مُنْعَزِلٍ) عَنْ أَهْلِ دِينِهِ (بِدَيْرٍ أَوْ صَوْمَعَةٍ)[4] لِأَنَّهُمْ صَارُوا كَالنِّسَاءِ حَالَ كَوْنِهِمْ (بِلَا رَأْيٍ) وَتَدْبِيرٍ. –الشرح الكبير للشيخ الدردير مع حاشية الدسوقي (2/ 176)

“সাত শ্রেণি ব্যতীত সকল কাফেরকে হত্যা করা জায়েয। নারীকে হত্যা করা যাবে না। হ্যাঁ, যুদ্ধে অংশ নিয়ে কাউকে হত্যা করলে অথবা অস্ত্র নিয়ে পুরুষদের মতো লড়াই করলে নারীকেও হত্যা করা যাবে। যুদ্ধে সক্ষম শিশুকে হত্যা করা যাবে না। নারীর ক্ষেত্রে বর্ণিত বিস্তারিত সকল বিধান শিশুর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। মানসিক প্রতিবন্ধী অর্থাৎ দুর্বল আকলের ব্যক্তিকে হত্যা করা যাবে না। সুতরাং পাগলের জন্য এবিধান আরও অধিকতর প্রযোজ্য। যুদ্ধে অক্ষম অতিশয় বৃদ্ধ, পক্ষাঘাতগ্রস্ত … অর্থাৎ অক্ষম ও অন্ধকে হত্যা করা যাবে না। একইভাবে স্বধর্মের মানুষজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গির্জা অথবা আশ্রমে বসবাসরত পাদ্রিকে হত্যা করা যাবে না। কেননা তারা যদি যুদ্ধে বুদ্ধিবৃত্তিক অংশ গ্রহণ থেকে বিরত থাকে, তাহলে তারা নারীদেরই মতো।”–আশশারহুল কাবীর: ২/১৭৬

দুসুকি রহিমাহুল্লাহ (১২৩০ হি.) ‘আশশারহুল কাবীর’-এর টীকায় লিখেন,

ثُمَّ إنَّ اقْتِصَارَ الْمُصَنِّفِ عَلَى اسْتِثْنَاءِ السَّبْعَةِ الْمَذْكُورَةِ يُفِيدُ قَتْلَ الْأُجَرَاءِ وَالْحَرَّاثِينَ وَأَرْبَابِ الصَّنَائِعِ مِنْهُمْ وَهُوَ قَوْلُ سَحْنُونٍ، وَهُوَ خِلَافُ الْمَشْهُورِ مِنْ أَنَّهُمْ لَا يُقْتَلُونَ بَلْ يُؤْسَرُونَ … وَالظَّاهِرُ أَنَّهُ خِلَافٌ لَفْظِيٌّ فِي حَالٍ، وَأَنَّ الْمَدَارَ عَلَى الْمَصْلَحَةِ بِنَظَرِ الْإِمَامِ. – حاشية الدسوقي على الشرح الكبير (2/ 177)

“লেখক রহিমাহুল্লাহ ব্যতিক্রম বিধানের আওতায় উক্ত সাত শ্রেণির উল্লেখ করেছেন। যা প্রমাণ করে, বেতনভুক্ত খাদেম, কৃষক এবং তাদের কারিগরদের হত্যা জায়েয। আর এটা সাহনুন রহিমাহুল্লাহ এর মত। এটা অপ্রসিদ্ধ মত। প্রসিদ্ধ মত হচ্ছে, তাদেরকে হত্যা করা হবে না, বরং বন্দী করা হবে। স্পষ্ট যে, একটা অবস্থায় এটা শাব্দিক মতপার্থক্য মাত্র। বস্তুত উক্ত বিধানের ভিত্তি হচ্ছে, ইমামুল মুসলিমীনের দৃষ্টিতে মাসলাহাতের উপর।” –হাশিয়া দুসুকী: ২/১৭৭

শাফেয়ী মাযহাব

খতীব শারবিনী রহিমাহুল্লাহ (৯৭৭ হি.) বলেন,

(ويحرم عليه قتل صبي ومجنون) ومن به رق (وامرأة وخنثى مشكل) للنهي عن قتل الصبيان والنساء في الصحيحين. وألحق المجنون بالصبي، والخنثى بالمرأة لاحتمال أنوثته. مغني المحتاج إلى معرفة معاني ألفاظ المنهاج (6/ 29)

“শিশু, পাগল, দাস, নারী এবং ‘খুনছা মুশকিল’ (এমন হিজড়া যার মাঝে নারীত্ব অথবা পুরুষত্ব কোনো দিকের অগ্রাধিকার নির্ণয় করা যায় না), এদেরকে হত্যা করা মুজাহিদের জন্য হারাম। কেননা সহীহাইনে শিশু এবং নারীদের হত্যার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। পাগলকে শিশুর বিধানভুক্ত করা হবে। আর হিজড়াকে নারীর বিধানভুক্ত করা হবে, তার মাঝে নারীত্বের সম্ভাবনা থাকার কারণে।” –মুগনিল মুহতাজ: ৬/২৯

হান্বলী মাযহাব

ইবনে কুদামা রহিমাহুল্লাহ (৬২০ হি.) বলেন,

فصل: ولا تقتل امرأة، ولا شيخ فان. وبذلك قال مالك، وأصحاب الرأي. وروي ذلك عن أبي بكر الصديق، ومجاهد. وروي عن ابن عباس في قوله تعالى: {ولا تعتدوا} [البقرة: 190] . يقول: لا تقتلوا النساء والصبيان والشيخ الكبير…..

فصل: فأما المريض، فيقتل إذا كان ممن لو كان صحيحا قاتل لأنه بمنزلة الإجهاز على الجريح، إلا أن يكون مأيوسا من برئه فيكون بمنزلة الزمن، لا يقتل، لأنه لا يخاف منه أن يصير إلى حال يقاتل فيها…….–المغني لابن قدامة (9/ 311-313)

“কোনো নারী এবং অতিশয় বৃদ্ধকে হত্যা করা যাবে না। ইমাম মালেক রহিমাহুল্লাহ এবং আসহাবুর রায় এ কথা বলেছেন। আবু বকর সিদ্দীক রাযিয়াল্লাহু আনহু এবং মুজাহিদ রহিমাহুল্লাহ থেকেও এ কথা বর্ণিত। ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে আল্লাহর বাণী, “তোমরা সীমালঙ্ঘন করো না” এর তাফসীরে বর্ণিত, তিনি বলেন, “তোমরা নারী, শিশু এবং অতিশয় বৃদ্ধদের হত্যা করো না।” আর অসুস্থ ব্যক্তি যখন এমন হয় যে, সুস্থ হয়ে গেলে সে কিতাল করতে পারবে, তাকেও হত্যা করা হবে। এটা আহত ব্যক্তিকে হত্যার মতো। তবে তার সুস্থতার ব্যাপারে নিরাশ হলে, সে পক্ষাঘাতগ্রস্ত ব্যক্তির স্তরে হবে, তাকে হত্যা করা যাবে না। কারণ সে যুদ্ধ করার মতো অবস্থায় উপনীত হবে, এমন কোনো শঙ্কা তার থেকে নেই।……” –আল-মুগনী: ৯/৩১১-৩১৩

মারদাভী রহিমাহুল্লাহ (৮৮৫ হি.) বলেন,

ظاهر كلام المصنف: أنه يقتل غير من سماهم. وهو صحيح. وهو المذهب. وعليه. أكثر الأصحاب. وقدمه في الفروع وغيره. -الإنصاف للمرداوي (4/ 128)، الناشر: دار إحياء التراث العربي

“লেখকের বক্তব্যের স্পষ্ট দিক হচ্ছে, যাদের তালিকা দেয়া হয়েছে, তারা ব্যতীত বাকিদের হত্যা করা যাবে। এটাই বিশুদ্ধ মত। এটাই মাযহাব। এ মতের উপর মাযহাবের অধিকাংশ ইমামগণ। আলফুরু এবং অন্যান্য কিতাবে এ মতকে আগে আনা হয়েছে।” –আল-ইনসাফ: ৪/১২৮

উল্লেখ্য, উপর্যুক্ত (নারী-শিশু ও যুদ্ধে অক্ষম; এই) দুই শ্রেণিকে হত্যা নাজায়েয হওয়ার বিধানটি তখনই প্রযোজ্য, যখন তারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় থাকবে এবং তাদের হত্যা করার বিশেষ কোনো প্রয়োজন ও মাসলাহাত না থাকবে। পক্ষান্তরে:

ক. তাদের কেউ যদি যুদ্ধে অংশগ্রহণ, পরামর্শ ও উৎসাহ প্রদান কিংবা মুসলিমদের তথ্য ফাঁস করার মতো সামান্যতম কোনো সহযোগিতাও করে অথবা ইসলাম ও মুসলিমদের গালি দেয় কিংবা আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলকে কটূক্তি করে, তখন নারী-শিশু ও অক্ষমদেরও হত্যা করা জায়েয।

খ. একইভাবে এলাকা বিজয় কিংবা যুদ্ধের প্রয়োজনে যদি এমন ব্যাপক আক্রমণ অথবা অতর্কিত আক্রমণ চালানো আবশ্যক হয়ে পড়ে, যাতে নারী, শিশু ও অক্ষমদের আলাদা করা সম্ভব নয়, তখনও তাদের সকলকে হত্যা করা জায়েয। অনুরূপ কাফেররা যদি আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য নারী, শিশু ও অক্ষমদের মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এবং যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য তাদের হত্যা করা জরুরি হয়ে পড়ে, তখনও তাদের হত্যা করা যাবে।

সহীহ বুখারীতে এসেছে,

عن ابن عباس عن الصعب بن جثامة رضي الله عنهم قال: مر بي النبي صلى الله عليه و سلم بالأبواء أو بودان وسئل عن أهل الدار يبيتون من المشركين فيصاب من نسائهم وذراريهم. قال ( هم منهم ) . -صحيح البخاري، دار ابن كثير، (3/ 1097)، الرقم: 2850

“ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমার সূত্রে সাআব বিন জাসসামাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত; তিনি বলেন, আবওয়া কিংবা ওয়াদ্দান নামক স্থানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন রাতের আঁধারে মুশরিকদের ভূমিতে অতর্কিত আক্রমণের ফলে তাদের নারী শিশুরা যে মারা পড়ে, এবিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়। তিনি উত্তর দেন, “ওরা ওদেরই (অর্থাৎ বাপ-দাদা ও স্বামীদের) অন্তর্ভুক্ত”।” –সহীহ বুখারী: ২৮৫০

সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে,

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ الصَّعْبِ بْنِ جَثَّامَةَ أَنَّ النَّبِىَّ -صلى الله عليه وسلم- قِيلَ لَهُ لَوْ أَنَّ خَيْلاً أَغَارَتْ مِنَ اللَّيْلِ فَأَصَابَتْ مِنْ أَبْنَاءِ الْمُشْرِكِينَ؟ قَالَ « هُمْ مِنْ آبَائِهِمْ ». -صحيح مسلم للنيسابوري، دار الجيل ببيروت، (5/ 144)، الرقم: 4649

“ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমার সূত্রে সাআব বিন জাসসামাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হলো, রাতের আঁধারে কোনো ঘোড়সওয়ার বাহিনী যদি মুশরিকদের ভূমিতে অতর্কিত আক্রমণ করে, ফলে তাদের কিছু শিশু মারা যায় (তাহলে এর কী হুকুম)? তিনি উত্তর দেন, “ওরা ওদের বাপ-দাদাদের অন্তর্ভুক্ত”।” -সহীহ মুসলিম: ৪৬৪৯

হাদীসের ব্যাখ্যায় ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মা-যারি রহিমাহুল্লাহ (৫৩৬ হি.) বলেন,

المراد بقوله “هم منهم” أنّ أحكام الكفّار جارية عليهم في مثل هذا، والدّار دار كفر بكل من فيها منهم ومن ذراريهم. وإن اعتُرض هذا بالنّهي عن قتل النّساء والولدان قلنا: هذا وارد فيهم إذا لم يتميّزوا وقتلوا من غير قصد لقتلهم بل كان القصد قتل الكبار فوقعوا في الذّراري من غير عمد ولا معرفة، والأحاديث المتقدمة وردت فيهم إذا تميّزوا. –المعلم: 3/11

“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী ‘”ওরা ওদেরই অন্তর্ভুক্ত” দ্বারা উদ্দেশ্য, এক্ষেত্রে ওদের উপর (হত্যাযোগ্য) কাফেরদের বিধান বর্তাবে। কাফের এবং তাদের সন্তান-সন্ততি সকলকে নিয়েই দারুল কুফর। এখানে যদি আপত্তি করা হয় যে, অন্য হাদীসে নারী-শিশু হত্যায় নিষেধাজ্ঞা এসেছে, তাহলে বলবো, (নারী-শিশু হত্যার বৈধতা প্রদানকারী) এ হাদীসের প্রয়োগ ক্ষেত্র হচ্ছে, যখন তারা পৃথক ও আলাদা না থাকে এবং তাদেরকে টার্গেট বানিয়ে হত্যা না করা হয়; বরং উদ্দেশ্য থাকে যোদ্ধাদের হত্যা করা, কিন্তু অনিচ্ছায় কিংবা অজান্তে নারী ও শিশুরাও হত্যার শিকার হয়ে যায়। আর নিষেধাজ্ঞা সম্বলিত পূর্ববর্তী হাদীসগুলোর ক্ষেত্র হল, যখন নারী ও শিশুরা যোদ্ধাদের থেকে পৃথক ও আলাদা থাকে।” –আল-মুলিম: ৩/১১

মুফতী তাকী উসমানী হাফিযাহুল্লাহ বলেন,

وبه يؤخذ حكم قذف القنابل في زماننا، فإنه يجوز إذا لم يقصد بها النساء والصبيان بل أريد بها النكاية في العدو، فإن أصيب بها النساء والصبيان من غير قصد فلا بأس، والله أعلم. -تكملة فتح الملهم (5/26 ط. دار القلم)

“এখান থেকে বর্তমানে বোম্বিংয়ের হুকুম গ্রহণ করা যায়। এটা জায়েয, যখন নারী অথবা শিশুদেরকে উদ্দেশ্য করা না হবে। বরং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হবে শত্রুদের পরাস্ত করা। যদি অনিচ্ছাকৃত নারী ও শিশুরা আক্রান্ত হয়ে যায়, কোনো সমস্যা নেই। আল্লাহই ভালো জানেন।” -তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম: ৫/২৫

হিদায়া গ্রন্থকার মারগিনানি রহিমাহুল্লাহ (৫৯৩ হি.) বলেন,

“ولا يقتلوا امرأة ولا صبيا ولا شيخا فانيا ولا مقعدا ولا أعمى… ” إلا أن يكون أحد هؤلاء ممن له رأي في الحرب أو تكون المرأة ملكة ” لتعدي ضررها إلى العباد. وكذا يقتل من قاتل من هؤلاء دفعا لشره ولأن القتال مبيح حقيقة. ” ولا يقتلوا مجنونا ” لأنه غير مخاطب إلا أن يقاتل فيقتل دفعا لشره.  –الهداية في شرح بداية المبتدي (2/ 380)

“মুজাহিদগণ নারী, শিশু, অতিশয় বৃদ্ধ, পক্ষাঘাতগ্রস্ত ও অন্ধকে হত্যা করবে না। তবে এদের কেউ যদি যুদ্ধ বিষয়ে মতামত প্রদানের যোগ্য হয়, কিংবা মহিলা যদি রাষ্ট্রপ্রধান হয়, তাহলে আল্লাহর বান্দারা তাদের অনিষ্টের শিকার হওয়ার সম্ভাবনা থাকায়- তাদেরও হত্যা করা যাবে। এমনিভাবে এদের যারা প্রত্যক্ষ যুদ্ধ করবে, অনিষ্ট প্রতিহত করণার্থে তাদেরও হত্যা করা যাবে। অধিকন্তু যুদ্ধে লিপ্ত হওয়াই তো মূলত হত্যার বৈধতা প্রদায়ক। পাগলকে হত্যা করবে না। কেননা সে আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো বিধানে আদিষ্ট নয়। অবশ্য যুদ্ধে শরীক হলে, অনিষ্ট প্রতিহত করণার্থে তাকেও হত্যা করা হবে।” –আল-হিদায়া: ২/৩৮০

ইবনুল হুমাম রহিমাহুল্লাহ (৮৬১ হি.) বলেন,

(ولا بأس برميهم وإن كان فيهم مسلم أسير أو تاجر) بل ولو تترسوا بأسارى المسلمين وصبيانهم … كرميهم مع العلم بوجود أولادهم ونسائهم فإنه يجوز إجماعا مع العلم بوجود من لا يحل قتله فيهم واحتمال قتله. –فتح القدير للكمال ابن الهمام (5/ 447)

“কাফেরদের মাঝে মুসলমান বন্দী অথবা ব্যবসায়ী থাকলেও তাদেরকে তীর নিক্ষেপ করতে সমস্যা নেই। যদিও তারা মুসলমানদের বন্দী এবং শিশুদের ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে। যেমনিভাবে কাফেরদের সন্তান এবং মহিলাদের উপস্থিতি জেনেও তাদেরকে তীর নিক্ষেপ করা জায়েয, তেমনি যাদের হত্যা করা নাজায়েয, তাদের উপস্থিতি জেনেও এবং তাদের হত্যা হওয়ার সম্ভাবনা সত্ত্বেও এটা সকলের ঐকমত্যে জায়েয।” –ফাতহুল কাদীর: ৫/৪৪৭

কাসানী রহিমাহুল্লাহ (৫৮৭ হি.) বলেন,

أما حال القتال فلا يحل فيها قتل امرأة ولا صبي، ولا شيخ فان ….

ولو قاتل واحد منهم قتل، وكذا لو حرض على القتال، أو دل على عورات المسلمين، أو كان الكفرة ينتفعون برأيه، أو كان مطاعا- وإن كان امرأة أو صغيرا؛ لوجود القتال من حيث المعنى. وقد روي «أن ربيعة بن رفيع السلمي – رضي الله عنه – أدرك دريد بن الصمة يوم حنين، فقتله وهو شيخ كبير كالقفة، لا ينفع إلا برأيه، فبلغ ذلك رسول الله – صلى الله عليه وسلم – ولم ينكر عليه».

والأصل فيه أن كل من كان من أهل القتال يحل قتله، سواء قاتل أو لم يقاتل، وكل من لم يكن من أهل القتال لا يحل قتله إلا إذا قاتل حقيقة أو معنى بالرأي والطاعة والتحريض، وأشباه ذلك على ما ذكرنا، فيقتل القسيس والسياح الذي يخالط الناس، والذي يجن ويفيق، والأصم والأخرس، وأقطع اليد اليسرى، وأقطع إحدى الرجلين، وإن لم يقاتلوا؛ لأنهم من أهل القتال. -بدائع الصنائع في ترتيب الشرائع (7/ 101)

“যুদ্ধ চলাকালে নারী, শিশু এবং অতিশয় বৃদ্ধকে হত্যা করা জায়েয নেই।…..

তবে এদের কেউ যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করলে তাকে হত্যা করা যাবে। এমনিভাবে যদি তাদের কেউ যুদ্ধে উৎসাহ দেয়, মুসলমানদের বিপক্ষে গোয়েন্দাগিরি করে, কাফেররা তার মতামত দ্বারা লাভবান হয় অথবা সে নেতৃস্থানীয় হয়- হোক সে নারী অথবা শিশু- তাহলে পরোক্ষভাবে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করার কারণে তাকেও হত্যা করা হবে।

এক বর্ণনায় এসেছে, হযরত রবিআ ইবনে রাফি আসসুলামী রাযিয়াল্লাহু আনহু হুনাইন যুদ্ধের দিন দুরাইদ ইবনে সিম্মাহকে বাগে পেয়ে হত্যা করেন। অথচ তখন সে ছিল ক্ষীণকায় ও অতিশয় বৃদ্ধ। তার বুদ্ধি-পরামর্শ ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে তার দ্বারা উপকৃত হওয়ার পথ তাদের ছিল না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এ খবর পৌঁছলে তিনি কোনো আপত্তি করেননি। এক্ষেত্রে মূলনীতি হল, যে কেউ যুদ্ধ করার উপযুক্ত, সে যুদ্ধ করুক কিংবা না করুক- তাকে হত্যা করা জায়েয। আর যে যুদ্ধের উপযুক্ত নয়, তাকে হত্যা করা নাজায়েয। তবে যদি সে সরাসরি যুদ্ধে আসে অথবা বুদ্ধি-পরামর্শ দিয়ে, কিংবা নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি হওয়ার কারণে কিংবা উৎসাহ প্রদানের মাধ্যমে বা অনুরূপ যেকোনো উপায়ে পরোক্ষভাবে লড়াইয়ে অংশ নেয়, উল্লেখিত মূলনীতির আলোকে তাদের হত্যা করা জায়েয। সুতরাং মানুষের সাথে মেশে এমন পাদ্রি ও সন্ন্যাসী এবং যে ব্যক্তি পাগল হয়ে যায় আবার জ্ঞান ফিরে পায় এবং বোবা ও বধির এবং যার বাম হাত ও দুই পায়ের এক পা কাটা- তাদেরকে হত্যা করা যাবে, যদিও তারা লড়াই না করে; কেননা তারা যুদ্ধ করতে সক্ষম।” –বাদায়েউস সানায়ে: ৭/১০১

শামসুল আইম্মাহ সারাখসী রহিমাহুল্লাহ (৪৯০ হি.) বলেন,

قال: لا ينبغي أن يقتل النساء من أهل الحرب ولا الصبيان ولا المجانين ولا الشيخ الفاني … فإن قاتل واحد من هؤلاء فلا بأس بقتله؛ لأنهم باشروا السبب الذي به وجب قتالهم، وإذا كان يباح قتل من له بنية صالحة للمحاربة يتوهم القتال منه، فلأن يباح قتل من وجد منه حقيقة القتال كان أولى. … فإن أعانت المرأة المقاتلين فلا بأس بقتلها. هكذا نقل عن الحسن، وعن عبد الرحمن بن أبي عمرة، قال: مر رسول الله – صلى الله عليه وآله وسلم – على امرأة مقتولة فأنكر قتلها، وقال: من قتلها؟ فقال رجل: أنا يا رسول الله أردفتها خلفي فأرادت قتلي فقتلتها، فأمر بها رسول الله – صلى الله عليه وآله وسلم -، فدفنت» . وكذلك إن كانت تعلن شتم رسول الله – صلى الله عليه وآله وسلم -، فلا بأس بقتلها، لحديث أبي إسحاق الهمداني قال: «جاء رجل إلى رسول الله – صلى الله عليه وآله وسلم – وقال: إني سمعت امرأة من يهود وهي تشتمك، والله يا رسول الله إنها لمحسنة إلي فقتلتها فأهدر النبي – صلى الله عليه وآله وسلم -، دمها». –شرح السير الكبير (ص: 1415)

“হারবীদের নারী, শিশু, পাগল এবং অতিশয় বৃদ্ধদের হত্যা করা জায়েয নেই। যদি তাদের কেউ লড়াই করে, তাহলে তাকে হত্যা করতে সমস্যা নেই। কেননা তারা সরাসরি এমন কাজে লিপ্ত হয়েছে যার কারণে তাদের সাথে কিতাল ফরয হয়ে যায়। আর যার যুদ্ধের যোগ্যতা আছে, তার যুদ্ধে অংশ গ্রহণের সম্ভাবনার ভিত্তিতেই যখন তাকে হত্যা করা জায়েয, তখন যে কার্যত যুদ্ধে লিপ্ত, তাকে হত্যা করা তো আরও আগেই জায়েয। যদি কোনো নারী যোদ্ধাদেরকে সাহায্য করে তাকেও হত্যা করতে সমস্যা নেই। এমনটি বর্ণিত হয়েছে হাসান বসরী রহিমাহুল্লাহ থেকে। আবদুর রহমান ইবনে আবু উমরাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক নিহত মহিলার পাশ দিয়ে অতিক্রম কালে তার হত্যায় আপত্তি করলেন এবং বললেন, কে তাকে হত্যা করেছে? এক ব্যক্তি বললো, আমি ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি তাকে আমার পেছনে আরোহণ করিয়েছিলাম। তখন সে আমাকে হত্যার ইচ্ছা করলে আমি তাকে হত্যা করি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম (কোনো আপত্তি না করে) তাকে দাফনের আদেশ দিলেন। তদ্রূপ কেউ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রকাশ্যে গালি দিলে তাকেও হত্যা করতে সমস্যা নেই। আবু ইসহাক হামদানী রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসেন এবং বলেন, আমি এক ইহুদী মহিলাকে আপনাকে গালি দিতে শুনেছি। আল্লাহর কসম! ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার প্রতি তার অনুগ্রহ ছিল। তবুও আমি তাকে হত্যা করেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার রক্ত মূল্যহীন সাব্যস্ত করলেন।” –শরহুস সিয়ারিল কাবীর: ১৪১৫

সারাখসী রহিমাহুল্লাহ. (৪৯০ হি.) আরও বলেন,

ولا بأس بإرساله الماء إلى مدينة أهل الحرب وإحراقهم بالنار ورميهم بالمنجنيق وإن كان فيهم أطفال أو ناس من المسلمين أسرى أو تجار … يجوز لنا أن نفعل ذلك بهم وإن كان فيهم نساؤهم وصبيانهم وكما لا يحل قتل المسلم لا يحل قتل نسائهم وصبيانهم ثم لا يمتنع ذلك لمكان نسائهم وصبيانهم فكذلك لمكان المسلم. … وقد روينا «أن النبي – صلى الله عليه وسلم – نصب المنجنيق على الطائف وأمر أسامة بن زيد – رضي الله عنه – بأن يحرق. وحرق حصن عوف بن مالك» وكذلك إن تترسوا بأطفال المسلمين فلا بأس بالرمي إليهم وإن كان الرامي يعلم أنه يصيب المسلم … إلا أن على المسلم الرامي أن يقصد به الحربي؛ لأنه لو قدر على التمييز بين الحربي والمسلم فعلا كان ذلك مستحقا عليه فإذا عجز عن ذلك كان عليه أن يميز بقصده. -المبسوط للسرخسي (10/ 64)

“হারবীদের শহরে পানি ছেড়ে দিতে, তাদেরকে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিতে এবং মিনজানিক (ক্ষেপণাস্ত্র বিশেষ) দিয়ে অস্ত্র নিক্ষেপ করতে কোনো সমস্যা নেই, যদিও তাদের মাঝে শিশু কিংবা মুসলমানদের বন্দী অথবা ব্যবসায়ীরা থাকে। তাদের সাথে এমন আচরণ আমাদের জন্য জায়েয, যদিও তাদের মাঝে তাদের নারী এবং শিশুরা থাকে। মুসলিমদেরকে যেমন হত্যা করা জায়েয নেই, তাদের নারী ও শিশুদেরকেও হত্যা করা জায়েয নেই। কিন্তু তাই বলে তাদের নারী ও শিশুদের অবস্থানের জন্য তাদের উপর আক্রমণ নিষেধ নয়। তদ্রূপ মুসলমানদের অবস্থানের কারণেও আক্রমণ নিষেধ নয়। বর্ণিত হয়েছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তায়েফে মিনজানিক স্থাপন করেছিলেন। উসামা বিন যায়দকে জ্বালিয়ে দেয়ার আদেশ করেছিলেন। আউফ ইবনে মালেকের কিল্লা জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন। তদ্রূপ যদি কাফেররা মুসলমানদের শিশুদের ঢাল বানায়, তাদের দিকেও তীর নিক্ষেপ করতে সমস্যা নেই। যদিও নিক্ষেপকারী জানেন যে, তা মুসলমানকে আক্রান্ত করবে। তবে মুসলিম নিক্ষেপকারীর জন্য জরুরি হচ্ছে, সে হারবীকে উদ্দেশ্য করবে। কেননা সে হারবী এবং মুসলিমের মাঝে পার্থক্য করতে সক্ষম হলে, তা করা তার জন্য জরুরি ছিল। যখন তা করতে অক্ষম, উদ্দেশ্যের দ্বারা পার্থক্য করবে।” –আল-মাবসূত: ১০/৭৫

ইবনে কুদামা রহিমাহুল্লাহ (৬২০ হি.) বলেন,

… فصل: ومن قاتل ممن ذكرنا جميعهم، جاز قتله؛ لأن النبي – صلى الله عليه وسلم – «قتل يوم قريظة امرأة ألقت رحى على محمود بن سلمة».  ومن كان من هؤلاء الرجال المذكورين ذا رأي يعين به في الحرب، جاز قتله «؛ لأن دريد بن الصمة قتل يوم حنين، وهو شيخ لا قتال فيه، وكانوا خرجوا به معهم، يتيمنون به، ويستعينون برأيه، فلم ينكر النبي – صلى الله عليه وسلم – قتله.». ولأن الرأي من أعظم المعونة في الحرب.

مسألة: قال: (ومن قاتل من هؤلاء أو النساء أو المشايخ أو الرهبان في المعركة قتل) لا نعلم فيه خلافا. وبهذا قال الأوزاعي والثوري والليث والشافعي وأبو ثور وأصحاب الرأي، وقد جاء عن ابن عباس قال: «مر النبي – صلى الله عليه وسلم – بامرأة مقتولة يوم الخندق فقال: من قتل هذه؟ قال رجل: أنا يا رسول الله قال: ولم؟ قال: نازعتني قائم سيفي قال: فسكت». «ولأن النبي – صلى الله عليه وسلم – وقف على امرأة مقتولة، فقال: ما بالها قتلت، وهي لا تقاتل» . وهذا يدل على أنه إنما نهى عن قتل المرأة إذا لم تقاتل، ولأن هؤلاء إنما لم يقتلوا لأنهم في العادة لا يقاتلون.

فصل: فأما المريض، فيقتل إذا كان ممن لو كان صحيحا قاتل لأنه بمنزلة الإجهاز على الجريح، إلا أن يكون مأيوسا من برئه فيكون بمنزلة الزمن، لا يقتل، لأنه لا يخاف منه أن يصير إلى حال يقاتل فيها. –المغني لابن قدامة (9/ 311-313)

“আমরা যাদের আলোচনা করেছি, তাদের কেউ যদি লড়াই করে, তাকে হত্যা করা জায়েয। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরায়যার দিন এমন এক মহিলাকে হত্যা করছেন, যে একটি চাক্কি মাহমুদ ইবনে সালামা রাযিয়াল্লাহু আনহুর উপর ছুঁড়ে মেরেছিল। উল্লেখিত পুরুষদের মধ্য থেকে যে এমন মেধাবী যে, তার মেধা দ্বারা যুদ্ধক্ষেত্রে সাহায্য পাওয়া যায়, তাকেও হত্যা করা জায়েয। কেননা দুরাইদ ইবনে সিম্মাহকে হুনাইনের দিন হত্যা করা হয়েছিল। সে এমন বৃদ্ধ ছিল, যার মধ্যে যুদ্ধের সক্ষমতা ছিল না। কাফেররা তাকে সাথে নিয়ে যুদ্ধে বের হয়েছিল। তারা তার দ্বারা কল্যাণের আশা করতো এবং তার মতামত থেকে সাহায্য গ্রহণ করতো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হত্যায় আপত্তি করেননি। কারণ যুদ্ধক্ষেত্রে শলা-পরামর্শ অন্যতম বড় সাহায্য। যুদ্ধক্ষেত্রে এসকল পুরুষ, নারী, বৃদ্ধ অথবা সন্ন্যাসীদের মধ্যে যে কেউ অংশ নেবে তাকেই হত্যা করা যাবে। এ ব্যাপারে কোনো মতভেদ আমাদের জানা নেই। আওযায়ী, সাওরী, লাইস, শাফেয়ী, আবু সাওর রহিমাহুমুল্লাহ এবং আসহাবুর রায় সকলেই এ কথা বলেছেন। ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খন্দকের দিন এক নিহত নারীর পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন। জিজ্ঞেস করলেন, “তাকে কে হত্যা করেছে?” এক ব্যক্তি বললো, “ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি।” তিনি বললেন, “কেন?” ওই ব্যক্তি বললো, “মহিলা আমার তরবারির বাঁট নিয়ে টনাটানি করছিল।” তিনি বলেন, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুপ থাকলেন। (আরেকটি দলীল হল), নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন এক নিহত মহিলার কাছে দাঁড়ালেন, আর বললেন, “তাকে কেন হত্যা করা হল? সে তো যুদ্ধ করতো না।” এটা এ কথার প্রমাণ যে, নারীকে হত্যা করতে নিষেধ করা হয়েছে, যখন সে লড়াই না করবে। এই সকল ব্যক্তিকে হত্যা না করার কারণ হচ্ছে, তারা সাধারণত যুদ্ধ করে না। আর অসুস্থ ব্যক্তি যখন এমন হয় যে, সুস্থ হয়ে গেলে সে কিতাল করতে পারবে, তাকেও হত্যা করা হবে। এটা আহত ব্যক্তিকে হত্যার মতো। তবে তার সুস্থতার ব্যাপারে নিরাশ হলে, সে পক্ষাঘাতগ্রস্ত ব্যক্তির স্তরে হবে এবং তাকে হত্যা করা যাবে না। কারণ সে লড়াই করার মতো অবস্থায় উপনীত হবে, এমন শঙ্কা তার থেকে নেই।” –আল-মুগনী: ৭/৩১১-৩১৩

তিনি আরও বলেন,

فصل: ولو وقفت امرأة في صف الكفار أو على حصنهم، فشتمت المسلمين، أو تكشفت لهم، جاز رميها قصدا؛ لما روى سعيد: حدثنا حماد بن زيد، عن أيوب، عن عكرمة، قال: «لما حاصر رسول الله – صلى الله عليه وسلم – أهل الطائف أشرفت امرأة، فكشفت عن قبلها، فقال: ها دونكم فارموها. فرماها رجل من المسلمين، فما أخطأ ذلك منها» . ويجوز النظر إلى فرجها للحاجة إلى رميها؛ لأن ذلك من ضرورة رميها.

وكذلك يجوز رميها إذا كانت تلتقط لهم السهام، أو تسقيهم، أوتحرضهم على القتال؛ لأنها في حكم المقاتل. وهكذا الحكم في الصبي والشيخ وسائر من منع من قتله منهم. -المغني لابن قدامة (9/ 288)

“যদি কোনো নারী কাফেরদের কাতারে অবস্থান করে অথবা তাদের কেল্লায়, অতঃপর সে মুসলমানদের গালি দেয় কিংবা তাদের সামনে (সতর) খুলে দেয়, তাকে উদ্দেশ্য করে তীর নিক্ষেপ করা জায়েয। …ইকরিমা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তায়েফবাসীকে অবরোধ করলেন, এক মহিলা উপরে উঠে লজ্জাস্থান খুলে দিলো। তিনি বললেন, এদিকে! একে নিক্ষেপ করো। অতঃপর মুসলমানদের একজন তাকে তীর নিক্ষেপ করলেন, যা লক্ষ্য ভুল করেনি। তীর নিক্ষেপের প্রয়োজনে তার লজ্জাস্থানের দিকে তাকানো জায়েয। কেননা এটা জরুরতের অন্তর্ভুক্ত। তদ্রূপ মহিলা যদি যোদ্ধাদেরকে তীর কুড়িয়ে দেয় অথবা তাদেরকে পানি পান করায় অথবা তাদেরকে যুদ্ধের প্রতি উৎসাহ প্রদান করে, তাকেও তীর নিক্ষেপ করা জায়েয। কেননা সে যোদ্ধার হুকুমে। একই বিধান শিশু, বৃদ্ধ এবং যাদেরকে হত্যা নিষেধ এমন সকলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।” –আল-মুগনী: ৯/২৮৮

আরও উল্লেখ্য, নারী, শিশু ও অক্ষম; যাদের হত্যা করা স্বাভাবিক অবস্থায় নিষেধ, তাদেরকে দারুল হারবে ছেড়ে আসবে না, বরং সক্ষম হলে বন্দী করে দারুল ইসলামে নিয়ে আসবে। যাতে গোলাম বাঁদি অথবা যিম্মি বানানো যায় কিংবা বন্দী বিনিময় বা মুক্তিপণ আদায় করা যায়। অবশ্য বন্দী করে আনার মতো অবস্থা না থাকলে কিংবা ছেড়ে আসার মধ্যে মাসলাহাত মনে করলে ছেড়েও আসতে পারবে।

দুসুকি রহিমাহুল্লাহ (১২৩০ হি.) বলেন,

وَأَمَّا غَيْرُهُمَا مِنْ الْمَعْتُوهِ وَالشَّيْخِ الْفَانِي وَالزَّمِنِ وَالْأَعْمَى فَإِنَّهُمْ وَإِنْ حَرُمَ قَتْلُهُمْ يَجُوزُ أَسْرُهُمْ، وَيَجُوزُ تَرْكُهُمْ مِنْ غَيْرِ قَتْلٍ وَمِنْ غَيْرِ أَسْرٍ. – حاشية الدسوقي على الشرح الكبير (2/ 177)

“আর নারী ও শিশু ব্যতীত মানসিক প্রতিবন্ধী, অতিশয় বৃদ্ধ, পক্ষাঘাতগ্রস্ত, অন্ধ এদেরকে হত্যা করা হারাম হলেও বন্দী করা জায়েয। হত্যা এবং বন্দী করা ব্যতীত ছেড়ে দেয়াও জায়েয।” –হাশিয়া দুসুকী: ২/১৭৭

হাসকাফি রহিমাহুল্লাহ (১০৮৮ হি.) বলেন,

ثم لا يتركونهم في دار الحرب، بل يحملونهم تكثيرا للفئ، وتمامه في السراج. –الدر المختار شرح تنوير الأبصار وجامع البحار (ص: 330)

“(যাদের হত্যা করা জায়েয নেই) তাদের দারুল হারবে ছেড়ে আসবে না, বরং বহন করে (দারুল ইসলামে) নিয়ে আসবে, যাতে মুসলিমদের গনীমত বৃদ্ধি পায়।” -আদদুররুল মুখতার ৩৩০

ইবনে আবিদিন শামী রহিমাহুল্লাহ (১২৫২ হি.) বলেন,

(قوله ثم لا يتركونهم إلخ) أي ينبغي أن لا يتركوا من ذكر ممن لا يقتل بل يحملونهم إلى دار الإسلام إذا كان بالمسلمين قوة على ذلك لما ذكر ولئلا يولد لهم فيكون في تركهم عون على المسلمين، وكذلك الصبيان يبلغون فيقاتلون، وأما الشيخ الفاني الذي لا يقاتل ولا يلقح ولا رأي له، فإن شاءوا تركوه إذ لا نفع فيه للكفار أو حملوه ليفادي به أسرى المسلمين على قول من يرى المفاداة وعلى القول الآخر لا فائدة في حمله، ومثله العجوز التي لا تلد منح عن السراج ملخصا.  الدر المختار وحاشية ابن عابدين (رد المحتار) (4/ 132)

“যে সকল পুরুষকে হত্যা করা যায় না, তাদেরকে দারুল হারবে ছেড়ে না আসা উত্তম। বরং তাদেরকে দারুল ইসলামে উঠিয়ে নিয়ে আসবে, যখন মুসলমানদের তা করার শক্তি থাকবে। … যাতে তাদের জন্য সন্তান জন্ম দিতে না পারে। এভাবে তাদের ছেড়ে আসলে মুসলমানদের বিপক্ষে তাদেরকে সাহায্য করা হবে। অনুরূপ বাচ্চারা বড় হয়ে লড়াই করবে। আর অতিশয় বৃদ্ধ, যে লড়াই করতে পারে না, সন্তান জন্ম দেয়ার সক্ষমতা নেই এবং পরামর্শ দেয়ার শক্তিও নেই, তাকে চাইলে রেখে আসতে পারে। কেননা তার মধ্যে কাফেরদের কোনো উপকার নেই। অথবা তাকে নিয়ে আসবে মুসলমানদের বন্দী বিনিময়ের জন্য। যাদের মতে বন্দী বিনিময় জায়েয তাদের মতানুযায়ী। আর অন্য মতানুযায়ী তাদেরকে নিয়ে আসার মধ্যে কোনো লাভ নেই। অনুরূপ বিধান সন্তান জন্ম দানে অক্ষম বৃদ্ধা নারীর ক্ষেত্রেও।” –রদ্দুল মুহতার: ৪/১৩২

এই হল মূল মাসআলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ। এবার আমরা ইসরাইলের সাধারণ নাগরিকদের বিষয়টি খোলাসা করার চেষ্টা করবো সংক্ষেপে।

ইসরাইল এমন একটা রাষ্ট্র, যেখানে কোনো সাধারণ নাগরিকের স্থান নেই। সামান্য কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া নারী পুরুষ নির্বিশেষে ইসরাইলের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা এবং নারীদের জন্য অন্তত দুই বছর ও পুরুষদের জন্য অন্তত দুই বছর আট মাস সেনাবাহিনীতে চাকরি করা বাধ্যতামূলক। সুতরাং সেখানে সাধারণ নাগরিক বলতে কেউ নেই; সকলেই কার্যত যুদ্ধে যুক্ত। শুধু যুদ্ধেই যুক্ত নয়; বরং মুসলিমদেরকে তাদের বাড়ি থেকে বিতাড়িত করে সেই বাড়ির দখলদার। যেখানে শুধু যুদ্ধের সক্ষমতা থাকলেই শরীয়ত তাকে যোদ্ধা গণ্য করে এবং তার হত্যাকে বৈধ সাব্যস্ত করে, সেখানে এমন দখলদারদের হত্যা নিয়ে ন্যূনতম সংশয়েরও সুযোগ নেই; বরং ইসরাইলের সকলের সঙ্গে কিতাল করা ওয়াজিব এবং শুধু শিশু (শরীয়তের দৃষ্টিতে অপ্রাপ্ত বয়স্ক) ব্যতীত নারী-পুরুষ, যুবক-বৃদ্ধ নির্বিশেষে যুদ্ধে সক্ষম ও অক্ষম সকলকে হত্যা করা বৈধ। অতর্কিত আক্রমণ কিংবা যুদ্ধের স্বার্থে এমন ব্যাপক আক্রমণের প্রয়োজন মনে করলে শিশুদের হত্যাও বৈধ, যেসব আক্রমণে শিশুদের আলাদা করার সুযোগ থাকে না। এই বিধান শুধু ইসরাইল নয়, যেকোনো কাফের হারবী রাষ্ট্রের মুহারিবদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

فقط، والله تعالى أعلم بالصواب

আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (উফিয়া আনহু)

১৭-০৪-১৪৪৫ হি.

০১-১১-২০২৩ ঈ.

[1] উল্লেখ্য, এটা দারুল হারবের সংজ্ঞা নয়; বরং দারুল হারবের এক প্রকারের বিবরণ। যেহেতু আমাদের আলোচনা এই প্রকার দারুল হারবের নাগরিক সম্পর্কে, এজন্য এখানে এতটুকুই আলোচনা করা হল। পক্ষান্তরে যেসব সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম রাষ্ট্র কাফের কিংবা মুরতাদদের দখলদারিত্ব ও কুফরী আইন প্রতিষ্ঠার কারণে দারুল হারবে রূপান্তরিত হয়, সেগুলোর বিধান এখানে আলোচনা করা হয়নি।

[2] الميسر في شرح مصابيح السنة للتوربشتي (3/ 903): وذكر أبو عبيد القاسم بن سلام في تأويله وجهين: أحدهما: أنه أراد بالشيوخ الرجال المسان أهل النجدة والبأس ولم يرد الهرمى، وأراد بالشرخ الصغار الذين لم يدركوا، فصار تأويله: اقتلوا البالغين، واستبقوا الصبيان. اهـ

النهاية في غريب الحديث والأثر (2/ 456): (شَرَخَ) (هـ) فِيهِ «اقتُلُوا شُيُوخَ المُشْركين واستحْيُوا شَرْخَهُمْ» أَرَادَ بِالشُّيُوخِ الرِّجَال المَسانَّ أهلَ الجَلَد والقُوَّة عَلَى الْقِتَالِ، وَلَمْ يُرِد الهَرْمَى. والشَّرْخُ: الصِّغَارُ الَّذِينَ لَمْ يُدْرِكوا. اهـ

شرح السير الكبير (ص: 1417): والذي روي «أن النبي – صلى الله عليه وآله وسلم – قال: اقتلوا شيوخ المشركين واستحيوا شرخهم» ، فالمراد بالشيوخ البالغون وبالشرخ الصبيان، والمراد بالاستحياء الاسترقاق. قال الله تعالى: {ويستحيون نساءكم} [البقرة: 49]. اهـ

[3]  উল্লেখ্য এখানে ‘হিরাব’ শব্দ থেকে কেউ কেউ বিভ্রান্ত হয়েছেন। তারা ভেবেছেন হিরাব অর্থ কার্যত যুদ্ধ করা। এটি ভুল। বস্তুত এখানে ‘হিরাব’ দ্বারা উদ্দেশ্য ‘মুহারিব বিল-কুওয়াহ’ তথা যুদ্ধের যোগ্যতা রাখা; ‘মুহারিব বিল-ফেল’ তথা কার্যত যুদ্ধ করা জরুরি নয়। ‘মুহারিব বিল-কুওয়াহ’ই হানাফীদের দৃষ্টিতে কাফের হত্যা বৈধ হওয়ার ইল্লত তথা কারণ। পক্ষান্তরে শাফেয়ীদের দৃষ্টিতে কুফরই কাফেরের হত্যা বৈধ হওয়ার কারণ। ইবনুল হুমাম রহিমাহুল্লাহ বিষয়টি ফাতহুল কাদীরে স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি বলেন,

فقد علل القتل بالمقاتلة في قوله «ما كانت هذه تقاتل» فثبت ما قلنا من أنه معلول بالحرابة فلزم قتل ما كان مظنة له، بخلاف ما ليس إياه. -فتح القدير للكمال ابن الهمام (5/ 453)

“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী «ما كانت هذه تقاتل» “এ তো লড়াই করতো না।” এখানে হত্যার ‘ইল্লত’ সাব্যস্ত করা হয়েছে ‘কিতাল’কে। অতএব আমাদের বক্তব্য প্রমাণিত হল যে, হত্যার বৈধতা কিতালের ইল্লত নির্ভর। সুতরাং কিতালের সম্ভাব্য সব কিছুই হত্যা বৈধ হওয়া জরুরি। পক্ষান্তরে যা এমন সম্ভাবনা রাখে না, তার বিধান ভিন্ন।” –ফাতহুল কাদীর: ৫/৪৫৩

একটু আগে উদ্ধৃত ইমাম কাসানী রহিমাহুল্লাহ এর বক্তব্যে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে এসেছে,

والأصل فيه أن كل من كان من أهل القتال يحل قتله، سواء قاتل أو لم يقاتل. –بدائع الصنائع في ترتيب الشرائع (7/ 101)

“এক্ষেত্রে মূলনীতি হল, যে কেউ যুদ্ধ করার উপযুক্ত, সে যুদ্ধ করুক কিংবা না করুক- তাকে হত্যা করা জায়েয।” –বাদায়িউস সানায়ি: ৭/১০১

[4] وَأَمَّا رُهْبَانُ الْكَنَائِسِ الْمُخَالِطُونَ لَهُمْ فَإِنَّهُمْ يُقْتَلُونَ. –حاشية الدسوقي على الشرح الكبير (2/ 176)

“পক্ষান্তরে যারা মানুষজনের সাথে মেশে, গির্জার এমন সন্ন্যাসীদের হত্যা করা যাবে।” –হাশিয়া দুসুকী: ২/১৭৬

আরও পড়ুনঃপিতা-মাতা জিহাদী সংগঠনে অংশগ্রহণে বাধা দিলে করণীয়

Related Articles

Back to top button