জুমআফাতওয়া  নং  ৪৪৮

নিরাপত্তার স্বার্থে জুমআ বর্জনের বিধান

নিরাপত্তার স্বার্থে জুমআ বর্জনের বিধান

নিরাপত্তার স্বার্থে জুমআ বর্জনের বিধান

নিরাপত্তার স্বার্থে জুমআ বর্জনের বিধান

পিডিএফ ডাউনলোড করুন
ওয়ার্ড ডাউনলোড করুন

প্রশ্নঃ

কেউ যদি ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কিংবা জিহাদী কাজের নিরাপত্তার স্বার্থে জুমআ না পড়ে বাসায় জোহর পড়ে নেয় তাহলে তা কি সহীহ হবে?

-আবু উসামা

 

উত্তরঃ

بسم الله الرحمن الرحيم

حامدا ومصليا و مسلما

  কেউ জুমআর জামাতে গেলে যদি অন্যায়ভাবে গ্রেফতার হওয়ার কিংবা জান-মাল ঝুঁকিতে পড়ার আশংকা থাকে, তাহলে তার উপর জুমআ ওয়াজিব নয়। এই নিরাপত্তাহীনতা ব্যক্তিগত কারণে হোক বা জিহাদী কাজের কারণে হোক, উভয় অবস্থার বিধানই এক।

সুনানে আবু দাউদে এসেছে,

عن ابن عباس قال: قال رسولُ الله – صلى الله عليه وسلم -: “مَن سمعَ المُناديَ فلم يمنعْه من اتباعِه عُذر -قالوا: وما العُذرُ؟ قال: خوف أو مرضٌ- لم تُقبَل منه الصَّلاة التي صلَّى” .-سنن أبي داود ت الأرنؤوط (1/ 413)، باب التشديد في ترك الجماعة، الرقم: 551، ط. دار الرسالة العالمية

“ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি আযান শুনলো অতঃপর কোনো ওজর মসজিদে হাজির হতে প্রতিবন্ধক হলো না (তবুও মসজিদে না গিয়ে) যে নামাযটি সে পড়বে তা কবুল হবে না।’ লোকজন ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা কে জিজ্ঞাসা করলো, ওজর দ্বারা (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের) উদ্দেশ্য কি? তিনি উত্তর দেন, ভীতি কিংবা অসুস্থতা।” –সুনানে আবু দাউদ: ১/৪১৩, হাদীস নং ৫৫১

অর্থাৎ জান-মাল হুমকিতে পড়ার ভয় কিংবা অসুস্থতার ভয়।

عَنْ هَمَّامٍ ، قَالَ : سَمِعْتُ الْحَسَنَ وَسُئِلَ عَنِ الْخَائِفِ، عَلَيْهِ جُمُعَةٌ ؟ فَقَالَ : وَمَا خَوْفُهُ ؟ قَالَ : مِنَ السُّلْطَانِ ، قَالَ : إِنَّ لَهُ عُذْرًا. –المصنف لابن أبي شيبة: 4/165 رقم: 5573، 5574

“হাম্মাম রহিমাহুল্লাহ বলেন, আমি শুনেছি হাসান রহিমাহুল্লাহকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে, যে ব্যক্তি নিজের ব্যাপারে ভয় করে, তার উপর জুমআ ফরয কি না? তিনি জানতে চাইলেন ভয়টা কিসের? প্রশ্নকারী বললেন, শাসকের। তিনি বললেন, এটা জুমআয় না যাওয়ার ওজর হিসেবে গ্রহণযোগ্য।” -মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা: ৪/১৬৫, আসার নং ৫৫৭৩ ও ৫৫৭৪

হানাফি ফকীহ ইমাম ইবনুল হুমাম রহিমাহুল্লাহ (৮৬১ হি.) বলেন,

والمطر الشديد والاختفاء من السلطان الظالم مسقط. – فتح القدير: 2/62، ط. دار الفكر. وذكره عن الفتح في: البحر الرائق: 2/163، باب الجمعة، ط. دار الكتاب الإسلامي و فى الفتاوى الهندية (1/ 144)، ط. دار الفكر

“প্রবল বৃষ্টি এবং জালিম শাসকের ভয় জুমআ ফরয হওয়ার অন্তরায়।” –ফাতহুল কাদীর: ২/৬২

সুতরাং কেউ এমন পরিস্থিতির শিকার হলে তিনি জুমআয় না গিয়ে ঘরে নামায আদায় করতে পারবেন। এক্ষেত্রে তাকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো লক্ষ রাখতে হবে:

ক. ঘরে জুমআ পড়বেন না; বরং জুমআর পরিবর্তে জোহর পড়বেন।

খ. এলাকায় জুমআর জামাত শেষ হওয়ার পর জোহর পড়বেন; আগে নয়।

গ. আযান-ইকামত ছাড়া পড়বেন।

ঘ. জামাত না করে একা আদায় করবেন।

আরও দেখুন রদ্দুল মুহতার: ৩/৩৩, মুদ্রণ: দারুল মারেফা, বৈরুত; ফাতাওয়া দারুল উলূম দেওবন্দ: ৩/৩৭; ফাতাওয়া মাহমুদিয়া: ১২/৪৭১; আসইলাতু মিম্বারিত তাওহীদ, সুওয়াল নং ৪৮৯২

فقط، والله تعالى أعلم بالصواب.

আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (উফিয়া আনহু)

২০-০৭-১৪৪৫ হি.

০২-০২-২০২৪ ঈ.

আরও পড়ুনঃ জুমআর দিন সূরা কাহফ কখন পড়তে হয়?

Related Articles

Back to top button