ফাতওয়া  নং  ১১৫

বৃদ্ধ মা-বাবা ও স্ত্রী-সন্তান রেখে অন্যত্র হিজরত করার কী হুকুম?

বৃদ্ধ মা-বাবা ও স্ত্রী-সন্তান রেখে অন্যত্র হিজরত করার কী হুকুম?

বৃদ্ধ মা-বাবা ও স্ত্রী-সন্তান রেখে অন্যত্র হিজরত করার কী হুকুম?

প্রশ্ন:

বৃদ্ধ মা-বাবা ও স্ত্রী-সন্তান রেখে নিজ দেশ ছেড়ে অন্যত্র হিজরত করা কি বৈধ হবে? আমি চলে গেলে তাঁদের ভরণপোষণের দায়িত্ব কার উপর বর্তাবে?

প্রশ্নকারী-মুহাম্মদ ফারহানুল হাসান

উত্তর:

হিজরত ফরজ হওয়ার দুটি ক্ষেত্র হতে পারে। বর্তমান অবস্থানে দ্বীন ও ইজ্জত আব্রু নিরাপদ না হলে, এগুলোর নিরাপত্তার জন্য নিরাপদ স্থানে হিজরত করা। দ্বিতীয়ত ফরজ জিহাদ আদায়ের জন্য জরুরি হলে হিজরত করা। আপনি সম্ভবত জিহাদের প্রয়োজনে হিজরত করার কথাই বলছেন। বাস্তবে যদি তাই হয়, তাহলে বলব-

প্রথম কথা হচ্ছে, জিহাদ বর্তমান বিশ্বের সর্বত্রই ফরজ। আপনি যে ভূমিতে হিজরত করতে চাচ্ছেন, সেখানে যেমন ফরজ, যে ভূমি থেকে হিজরত করতে চাচ্ছেন, সেখানেও ফরজ। সুতরাং স্বাভাবিক অবস্থায় জিহাদের জন্য হিজরত করার প্রয়োজনীয়তা নেই।

দ্বিতীয় কথা হচ্ছে, জিহাদ যেমন ফরজ, স্ত্রী সন্তানের দেখাশুনা করা এবং তাদের ভরণ পোষণের ব্যবস্থা করাও ফরয। তেমনি পিতা মাতা অক্ষম হলে তাদের খেদমত ও ভরণ পোষণের ব্যবস্থা করাও ফরজ। যতক্ষণ এ দুই ফরজের মাঝে সমন্বয় করা সম্ভব, ততক্ষণ কোনোটিই বাদ দেয়া যাবে না। জানা কথা, আমাদের দেশে এখনো জিহাদের দাওয়াত ও ই’দাদের স্তরের কাজ চলছে। সুতরাং আপনার উপর অন্য কারো ভরণ পোষণের দায়িত্ব থাকলে, আপনি হিজরত না করে দেশেই জিহাদের কাজ করতে থাকুন এবং পাশাপাশি অধীনস্থদের ভরণ পোষণের দায়িত্ব আঞ্জাম দিয়ে যান। অবশ্য যদি কোথাও জিহাদের বিশেষ কোনো কাজের জন্য সুনির্দিষ্টভাবে আপনারই প্রয়োজন পড়ে এবং আমীরের পক্ষ থেকে আপনাকে হিজরতের আদেশ করা হয়, তাহলে আপনার জন্য হিজরত করা জরুরি হয়ে পড়বে। তখন যদি আপনি তাদের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব পালন করতে না পারেন, তাহলে এ দায়িত্ব তাদের অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন ও অন্যান্য মুসলিমদের উপর বর্তাবে। তারা আঞ্জাম না দিলে বিশেষভাবে যে জিহাদি কাফেলা আপনাকে হিজরতে পাঠাচ্ছেন, বিষয়টি তারাই দেখবেন ইনশাআল্লাহ। এ বিষয়ে ৮৫ নং ফতোয়াটি দেখুন! লিংক: https://fatwaa.org/2020/07/31/1558/

 

আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (উফিয়া আনহু)

০৫-০৩-১৪৪২ হি.

২২-১০-২০২০ ইং