জিহাদ-কিতাল:ফাতওয়া  নং  ৩৫৮

কিতালের জন্য কি পিতা-মাতার অনুমতি জরুরি?

কিতালের জন্য কি পিতা-মাতার অনুমতি জরুরি?

কিতালের জন্য কি পিতা-মাতার অনুমতি জরুরি?

পিডিএফ ডাউনলোড করুন

ওয়ার্ড ডাউনলোড করুন

প্রশ্নঃ

কিছু লোককে বলতে শুনি, কিতালে যাওয়ার জন্য নাকি পিতা-মাতার অনুমতি নিতে হয়। আসলেই কি বিষয়টি এমন? পিতা-মাতার অনুমতি ছাড়া কি কিতাল করা যায় না?

-হাম্মাদ, মোমেনশাহী

উত্তরঃ

কিতাল ফরযে আইন হলে পিতা-মাতার অনুমতি নিতে হয় না; বরং তখন পিতা-মাতা নিষেধ করলেও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কিতাল করা জরুরি।

ইমাম বুরহানুদ্দীন বুখারী রহিমাহুল্লাহ (৬১৬ হি.) বলেন,

قال محمد رحمه الله: إذا جاء النفير، فقيل لأهل مدينة أو مصر قريب من العدو، وقد جاء العدو يريدون أنفسكم وذراريكم وأموالكم، فلا بأس بأن يخرج الرجل بغير إذن والديه، وإن نهياه فلا بأس بأن يعصيهما إذا كان ممن يقدر على الجهاد، وقد ذكرنا هذا، وليس للوالدين أن ينهيا الولد عن الخروج في هذه الحالة؛ لأن القتال في هذه الحالة فرض عين، وليس لهما أن ينهيا الولد عما هو فرض عين. -المحيط البرهاني في الفقه النعماني (8/112-113  ط. إدارة القرآن، كراتشي)

“ইমাম মুহাম্মদ রহিমাহুল্লাহ বলেন, যখন নাফীরে আম হবে অর্থাৎ শত্রুদের নিকটবর্তী কোনো জনপদের অধিবাসীদের জানানো হবে, তোমাদের জান-মাল, সহায়-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর জন্য শত্রুরা চলে এসেছে; তখন পিতা-মাতার অনুমতি ব্যতীত যুদ্ধে বের হতে কোনও অসুবিধা নেই। পিতা-মাতা যেতে বারণ করলে যুদ্ধ করার সক্ষমতা থাকলে তাদের অবাধ্য হতেও দোষ নেই। এটা আমরা আগেই উল্লেখ করেছি। এমন পরিস্থিতিতে পিতা-মাতার জন্য সন্তানকে যুদ্ধে যেতে বারণ করার অনুমতি নেই। কারণ, এই অবস্থায় জিহাদ ফরযে আইন। ফরযে আইন কাজ থেকে সন্তানকে বারণ করার অধিকার পিতা-মাতার নেই।”–আলমুহিতুল বুরহানি: ৮/১১২ (ইদারাতুল কুরআন, করাচি)

আরও দেখুন, তাফসীরুল কুরতুবী: ৮/১৫১ (দারুল কুতুবিল মিসরিয়্যাহ); ফাতহুল বারী: ৬/১৪০ (দারুল ফিকর); শারহুস সিয়ারিল কাবীর, পৃ: ৯৯ (আশ-শারিকাতুশ শারকিয়্যাহ); আল-ফাতাওয়াত তাতারখানিয়া: ৭/৯; রদ্দুল মুহতার: ৪/১২৭ (দারুল ফিকর)

এ বিষয়ে আরও জানতে দেখুন;

ফাতওয়া: 105- মা-বাবার অনুমতি ছাড়া কি জিহাদে যাওয়া যাবে?

তবে পিতা-মাতা যদি অক্ষম হন এবং একমাত্র আপনার উপর নির্ভরশীল হন, তাদের দেখাশোনা ও ভরণ পোষণের বিকল্প কোনও ব্যবস্থা না থাকে, তখন তাদের দেখাশোনা ও ভরণ পোষণ করাও আপনার উপর ফরযে আইন। এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে সার্বিক পরিস্থিতি জানিয়ে কোনও বিজ্ঞ মুফতী সাহেব থেকে মাসআলা জেনে নিবেন ইনশাআল্লাহ।

আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (উফিয়া আনহু)

০৫-০৭-১৪৪৪ হি.

২৮-০১-২০২৩ ঈ.

Related Articles

Back to top button