তাযকিয়াফাতওয়া  নং  ৬৩৪

ঈমান বিধ্বংসী গুনাহ করার পর তওবার উপায় কী?

প্রশ্ন:

আমি আগে দ্বীন মেনে চলতাম। কিন্তু শয়তান ও নফসের প্ররোচনায় আল্লাহর রাসূল ﷺ, তাঁর পরিবার ও ইসলাম সম্পর্কে গোপনে এমন কিছু কথা বলে ফেলেছি, যার কারণে কারো ঈমান থাকে না। কিন্তু আমি এ অবস্থায় থাকতে চাই না। আমি আল্লাহর কাছে ফিরে এসে পূর্ণ মুসলিম হিসেবে জীবন কাটাতে চাই। শয়তান আমাকে বলে, তোর তাওবা কবুল হবে না, ইবাদত করে লাভ নেই। এতে খুব কষ্ট পাই। এখন আমার জানার বিষয় হল, আমার কী করণীয়? আল্লাহ কি আমার তাওবা কবুল করবেন? আমাকে সঠিক পথ দেখান।

-নাজমুস সাকিব

উত্তর:

আপনার মধ্যে যখন গুনাহের অপরাধবোধ এবং অনুশোচনা জাগ্রত হয়েছে, এটাই বড় বিষয়। সুতরাং শয়তানের প্রবঞ্চণা ও কুমন্ত্রণা এবং সকল সংশয় ঝেড়ে ফেলুন। শয়তানকে বলুন, আল্লাহ না করুন আমার কোনো গুনাহ যদি কুফর শিরকও হয়ে থাকে, তবুও সমস্যা নেই। কারণ আমার রব হচ্ছেন রাহমান ও রাহীম, তাউয়াব ও গাফফার। কেউ যদি গুনাহ করার পর অনুশোচনা নিয়ে খালেস দিলে তাওবা করে, আল্লাহ সঙ্গে সঙ্গে তাকে ক্ষমা করে দেন, চাই তা যত বড় গুনাহই হোক না কেন। এমনকি কুফর, শিরকের গুনাহও তাওবা করলে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন এবং এমনভাবে ক্ষমা করেন, যেন তার কোনো গুনাহই নেই। সুতরাং আপনি এখনি তওবা করুন এবং সকল ফরয ওয়াজিব আমলে এবং সাধ্য অনুযায়ী কিছু কিছু নফল আমলেও নিয়মিত হওয়ার চেষ্টা করুন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আপনার সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন এবং আপনার জন্য রহমতের দরজাগুলো উন্মুক্ত করে দিবেন ইনশাআল্লাহ।

আরো বিস্তারিত জানার জন্য নিম্নোক্ত ফতোয়াগুলো দেখুনঃ

ফাতওয়া নং ২৮৮: বারবার তাওবা ভঙ্গ করলে কি তাওবার রাস্তা একদম বন্ধ হয়ে যায়?

ফাতওয়া নং ৫২৩: কুফরী কাজ করে ফেললে করণীয়

ফাতওয়া নং ২১: বারবার হতে থাকা গুনাহ থেকে বাঁচার উপায় কি?

ফাতওয়া নং ২৬: তাসাওউফ এর প্রয়োজনীয়তা কতটুকু এবং আসল ও নকল কিভাবে পার্থক্য করব?

ফাতওয়া নং ৩৮৪: একাধিকবার সমকামিতার কবীরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তির করণীয় কী?

ফাতওয়া নং ১৫: ইসলামে আত্মহত্যা করার কোনো উপায় আছে?

 

আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (উফিয়া আনহু)

২৬-১০-১৪৪৭ হি.

১৫-০৪-২০২৬ ঈ.

Back to top button
অ+
অ-