ফাতওয়া  নং  ২২৯

সম্মানিত মাসসমূহে যুদ্ধ করার হুকুম কী?

সম্মানিত মাসসমূহে যুদ্ধ করার হুকুম কী?, fatwaa

পিডিএফ ডাউনলোড করুন

ওয়ার্ড ডাউনলোড করুন

 

সম্মানিত মাসসমূহে যুদ্ধ করার হুকুম কী?

 

প্রশ্ন:

আশহুরে হুরুম বা সম্মানিত মাসসমূহে যুদ্ধ করার হুকুম কী? দলীল প্রমাণসহ বিস্তারিত জানানোর জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।

প্রশ্নকারী: আব্দুল হক

 

উত্তর:

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله وحده والصلاة والسلام على من لا نبي بعده أما بعد

হ্যাঁ, বর্তমানে হারাম মাসসমূহে ক্বিতাল করা জায়িয। ইসলামের শুরু যুগে এই মাসগুলোতে ক্বিতালের উপর যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, তা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায়ই রহিত হয়ে যায়। বিষয়টি আমরা সংক্ষিপ্ত কিছু দলীল-প্রমাণসহ পেশ করার চেষ্টা করছি ইনশা-আল্লাহ। আল্লাহই একমাত্র তাওফীকদাতা।

জিলকদ, জিলহজ্ব, মুহাররাম ও রজব, এ চার মাস আশহুরে হুরুম তথা সম্মানিত মাস। আল্লাহ তা`আলা ইরশাদ করেন-

إِنَّ عِدَّةَ الشُّهُورِ عِنْدَ اللَّهِ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا فِي كِتَابِ اللَّهِ يَوْمَ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ مِنْهَا أَرْبَعَةٌ حُرُمٌ. التوبة: 36

“প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর কাছে মাসের সংখ্যা বারোটি, যা আল্লাহর কিতাব (অর্থাৎ লাওহে মাহফুজ) অনুযায়ী সেই দিন থেকে চালু আছে, যেদিন আল্লাহ আকাশমণ্ডল ও পৃথিবী সৃষ্টি করেন। এর মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত।” (সূরা তাওবা ৯ : ৩৬)

সহীহ বুখারী ও মুসলিমসহ হাদীসের বিভিন্ন কিতাবে আসে-

عن أبي بكرة  : عن النبي صلى الله عليه و سلم قال ( الزمان قد استدار كهيئته يوم خلق الله السماوات والأرض. السنة اثنا عشر شهرا منها أربعة حرم، ثلاثة متواليات ذو القعدة وذو الحجة والمحرم، ورجب مضر الذي بين جمادى وشعبان .). –صحيح البخاري (4/ 1599)، رقم الحديث: 4144، ط. دار ابن كثير ، اليمامة – بيروت

“আবু বাকরা (রা) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “আল্লাহ তায়ালা যেদিন আসমান জমীন সৃষ্টি করেন, সেদিন সময় যেরূপে আবর্তিত হচ্ছিল, আজ তা সেখানে ঘুরে এসেছে। বার মাসে এক বছর। এর মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত। তিনটি মাস পরপর; জুল-কা‘দাহ, জুল-হিজ্জাহ ও মুহাররাম। আরেকটি জুমাদা ও শাবান মাসের মধ্যবর্তী রজব।” (সহীহ বুখারী: ৪/১৫৯৯ হাদীস নং: ৪১৪৪)

জাহিলি জামানার মানুষ এ চার মাসকে সম্মান করত এবং তাতে সর্বপ্রকার ক্বিতাল ও যুদ্ধ-বিগ্রহ থেকে বিরত থাকত। ইসলামের শুরু জামানায় মুসলিমদেরকেও এই বিধান দিয়ে আয়াত নাজিল হয়।

আল্লাহ তা`আলা ইরশাদ করেন-

يَسْأَلُونَكَ عَنِ الشَّهْرِ الْحَرَامِ قِتَالٍ فِيهِ قُلْ قِتَالٌ فِيهِ كَبِيرٌ.

“লোকজন আপনাকে সম্মানিত মাসে ক্বিতাল করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। আপনি বলে দিন, এই মাসে ক্বিতাল করা অনেক বড় অন্যায়।” (সূরা বাকারা ২ : ২১৭)

ইমাম জাসসাস (র) (৩৭০ হি.) বলেন-

قد تضمنت هذه الآية تحريم القتال في الشهر الحرام … وقد كان أهل الجاهلية يعتقدون تحريم القتال في هذه الأشهر، فأعلمهم الله تعالى بقاء حظر القتال في الشهر الحرام. -أحكام القرآن للجصاص ط العلمية (1/ 389-)390

“এ আয়াতে সম্মানিত মাসসমূহে ক্বিতাল করাকে হারাম করা হয়। … জাহিলী যুগের লোকেরাও এ মাসগুলোতে ক্বিতাল করাকে হারাম গণ্য করত। তাই আল্লাহ তা`আলা সম্মানিত মাসসমূহে ক্বিতাল নিষিদ্ধ হওয়ার বিধান বহাল থাকার বিষয়টি তাদেরকে জানিয়ে দেন।” (আহকামুল কুরআন: ১/৩৮৯-৩৯০)

তবে এ বিধান ছিল ইক্বদামি জিহাদ তথা আক্রমণাত্নক জিহাদে কাফিরদের উপর আক্রমণ করার ক্ষেত্রে। কাফিররা আক্রমণ না করলে আগ বেড়ে হারাম মাসে যুদ্ধ শুরু করা নিষেধ ছিল। পক্ষান্তরে দিফায়ি জিহাদ তথা কাফিররা আক্রমণ করলে, প্রতিরোধ করা হারাম মাসসহ সর্বাবস্থায় ইসলামের শুরু থেকেই অনুমোদিত ছিল।

আল্লাহ তা`আলা ইরশাদ করেন-

الشَّهْرُ الْحَرَامُ بِالشَّهْرِ الْحَرَامِ وَالْحُرُمَاتُ قِصَاصٌ فَمَنِ اعْتَدَى عَلَيْكُمْ فَاعْتَدُوا عَلَيْهِ بِمِثْلِ مَا اعْتَدَى عَلَيْكُمْ

“হারাম মাসের বদল হারাম মাস, আর হারাম মাসেও বদলার বিধান প্রযোজ্য। সুতরাং কেউ যদি তোমাদের প্রতি জুলুম করে, তবে তোমরাও তার বদলা নাও, যেমন জুলুম সে তোমাদের প্রতি করেছে।” (সূরা বাকারা ২ : ১৯৪)

হাদীসে এসেছে-

عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: ” لَمْ يَكُنْ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَغْزُو فِي الشَّهْرِ الْحَرَامِ إِلَّا أَنْ يُغْزَى – أَوْ يُغْزَوْا – فَإِذَا حَضَرَ ذَاكَ، أَقَامَ حَتَّى يَنْسَلِخَ”. –مسند أحمد ط الرسالة (22/ 438) قال الهيثمي في مجمع الزوائد (9937): رواه أحمد، ورجاله رجال الصحيح. اهـ

“জাবির (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্মানিত মাসে যুদ্ধ করতেন না, তবে যদি (কাফিরদের পক্ষ থেকে) তাঁর উপর আক্রমণ করা হত (তাহলে তিনি প্রতিহত করতেন)। (অন্যথায়) সম্মানিত মাস এসে গেলে; তা অতিবাহিত হওয়া পর্যন্ত তিনি অপেক্ষা করতেন।” (মুসনাদে আহমদ: ২২/৪৩৮; মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ৯৯৩৭)

ইমাম জাসসাস (র) (৩৭০ হি.) বলেন-

روي عن الحسن أن مشركي العرب قالوا للنبي صلى الله عليه وسلم: أنهيت عن قتالنا في الشهر الحرام؟ قال: “نعم”. وأراد المشركون أن يغيروه في الشهر الحرام فيقاتلوه، فأنزل الله تعالى: {الشهر الحرام بالشهر الحرام والحرمات قصاص} يعني إن استحلوا منكم في الشهر الحرام شيئا فاستحلوا منهم مثله. …  فأفاد أنهم إذا قاتلوهم في الشهر الحرام فعليهم أن يقاتلوهم فيه، وإن لم يجز لهم أن يبتدئوهم بالقتال. –أحكام القرآن للجصاص ط العلمية (1/ 316-317(

“হাসান (বসরী) (র) থেকে বর্ণিত, আরবের মুশরিকরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করে, আপনাকে কি সম্মানিত মাসে আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে নিষেধ করা হয়? নবীজি বলেন, হ্যাঁ। মুশরিকরা সম্মানিত মাসে নবীজির উপর অতর্কিত হামলা করে তাঁর সঙ্গে যুদ্ধ করার ইচ্ছা করল। তখন আল্লাহ তা`আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেন- ‘সম্মানিত মাসের বদল সম্মানিত মাস, আর সম্মানিত মাসেও বদলার বিধান প্রযোজ্য’। অর্থাৎ যদি তারা সম্মানিত মাসে তোমাদের (জান-মাল থেকে) কোন কিছুকে বৈধ গণ্য করে, তবে তোমরাও তাদের থেকে অনুরূপ জিনিষকে বৈধ গণ্য কর। … এ আয়াত প্রমাণ করে, তারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে পবিত্র মাসে যুদ্ধ করলে, মুসলিমদের উপরও আবশ্যক, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা;যদিও মুসলিমদের জন্য এ মাসগুলোতে প্রথমে যুদ্ধ শুরু করা বৈধ নয়।” (আহকামুল কুরআন: ১/৩১৬-৩১৭)

যেমন হারাম শরীফে ক্বিতাল করা নিষেধ। কিন্তু কাফিররা আক্রমণ করলে, প্রতিরোধে ক্বিতাল সেখানেও জরুরি। আল্লাহ তা`আলা ইরশাদ করেন-

وَلَا تُقَاتِلُوهُمْ عِنْدَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ حَتَّى يُقَاتِلُوكُمْ فِيهِ فَإِنْ قَاتَلُوكُمْ فَاقْتُلُوهُمْ كَذَلِكَ جَزَاءُ الْكَافِرِين

“মসজিদে হারামের আশপাশে তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর না; যতক্ষণ না তারা সেখানে তোমাদের উপর আক্রমণ করে, তাহলে তোমরাও তাদের হত্যা কর। এটাই হচ্ছে কাফিরদের যথার্থ বিনিময়।” (সূরা বাকারা ২ : ১৯১)

ইমাম মানসুর বাহুতি হাম্বলি (র) (১০৫১ হি.) বলেন-

ويجوز القتال في الشهر الحرام دفعا إجماعا. – كشاف القناع عن متن الإقناع لمنصور البهوتى الحنبلى (المتوفى: 1051هـ) (3/ 37(

“সম্মানিত মাসসমূহে প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ করা সর্বসম্মতিক্রমে জায়িয।” (কাশশাফুল কিনা’: ৩/৩৭)

[আরও দেখুন: আলফুরু’, ইবনুল মুফলিহ (৭৬৩ হি.) ১১/১৩৬ ]

ইসলামের শুরুতে হারাম মাসের ব্যাপারে শরীয়তের এ বিধানই ছিল যে, কাফিররা আক্রমণ করলে প্রতিহত করবে, অন্যথায় মুসলিমরা অগ্রসর হয়ে আক্রমণ করবে না। পরবর্তীতে সূরা তাওবার নিম্নোক্ত আয়াতসহ ক্বিতালের শর্তমুক্ত নির্দেশ সম্বলিত এরকম অন্যান্য আয়াত ও হাদীসের মাধ্যমে এ হুকুম রহিত হয়ে যায় এবং হারাম মাসেও মুসলিমদেরকে ইক্বদামি তথা আক্রমণাত্মক যুদ্ধের অনুমতি দেয়া হয়।

আল্লাহ তা`আলা ইরশাদ করেন-

فَإِذَا انْسَلَخَ الْأَشْهُرُ الْحُرُمُ فَاقْتُلُوا الْمُشْرِكِينَ حَيْثُ وَجَدْتُمُوهُمْ وَخُذُوهُمْ وَاحْصُرُوهُمْ وَاقْعُدُوا لَهُمْ كُلَّ مَرْصَدٍ فَإِنْ تَابُوا وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ فَخَلُّوا سَبِيلَهُمْ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ.

“অতঃপর যখন নিষিদ্ধ মাসগুলো অতিবাহিত হয়ে যাবে, তোমরা মুশরিকদেরকে যখন যেখানে পাও, হত্যা কর[1]  এবং তাদেরকে পাকড়াও কর, তাদেরকে অবরোধ কর এবং তাদের জন্য প্রতিটি ঘাঁটিতে ওঁৎ পেতে  থাক। তবে তারা যদি তাওবা করে মুসলমান হয়ে যায় এবং সালাত কায়িম করে, যাকাত দেয়, তাহলে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ বড় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (সূরা তাওবা ৯ : ৫)

উল্লেখ্য, এ আয়াতে ‘নিষিদ্ধ মাসগুলো’ দ্বারা আমাদের আলোচ্য সম্মানিত চার মাস (জিলকদ, জিলহজ্ব, মুহাররম ও রজব) উদ্দেশ্য নয়; বরং সূরা তাওবা নাজিল হওয়ার পর, যেসব মুশরিকের সঙ্গে মুসলিমদের চার মাসের কম মেয়াদের বা অনির্দিষ্ট মেয়াদের চুক্তি ছিল, তাদেরকে যে চার মাস অবকাশ দেয়া হয়, সে চার মাস উদ্দেশ্য।[2]

এ চার মাস অতিবাহিত হওয়ার পর আল্লাহ তা`আলা ব্যাপকভাবে কাফিরদের বিরুদ্ধে ক্বিতালের আদেশ দেন। এর মাধ্যমে হারাম মাসসমূহে ক্বিতালের নিষেধাজ্ঞা রহিত হয়ে যায়।

ইমাম জাসসাস(র) (৩৭০ হি.) বলেন-

وقد كان القتال محظورا في الشهر الحرام بقوله: {يسألونك عن الشهر الحرام قتال فيه قل قتال فيه كبير وصد} [البقرة: 217] ، ثم نسخ بقوله {فإذا انسلخ الأشهر الحرم فاقتلوا المشركين حيث وجدتموهم} [التوبة: 5]. -أحكام القرآن للجصاص ط العلمية (1/ 313(

“প্রথমদিকে হারাম মাসসমূহে যুদ্ধ করা নিষিদ্ধ ছিল, আল্লাহ তা`আলার এই বাণীর কারণে, যেখানে আল্লাহ বলেন- “লোকে আপনাকে সম্মানিত মাস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, তাতে যুদ্ধ করা কেমন? আপনি বলে দিন তাতে যুদ্ধ করা মহাপাপ …’’ [সূরা বাকারা ২ : ২১৭]। পরবর্তীতে এ বিধান আল্লাহ তা`আলার বাণী- “অতঃপর যখন নিষিদ্ধ মাসগুলো অতিবাহিত হয়ে যাবে, তোমরা মুশরিকদেরকে যখন যেখানে পাও, হত্যা কর” দ্বারা রহিত হয়ে যায়।” (আহকামুল কুরআন: ১/৩১৩)

তিনি আরও বলেন-

وروى سليمان بن يسار وسعيد بن المسيب [قال الراقم: كذا فى جميع نسخ الشاملة والنسخة التي بين يدي، ولعل الصواب “وروي عن سليمان الخ”، كما في شرح مشكل الآثار للطحاوي (12\387، ط. الرسالة): أن القتال جائز في الشهر الحرام وهو قول فقهاء الأمصار. والأول منسوخ بقوله: {فاقتلوا المشركين حيث وجدتموهم} [التوبة: 5] وقوله: {قاتلوا الذين لا يؤمنون بالله ولا باليوم الآخر} [التوبة: 29] الآية; لأنها نزلت بعد حظر القتال في الشهر الحرام. -أحكام القرآن للجصاص ط العلمية (1/ 390(

“সুলাইমান বিন ইয়াসার ও সাইদ বিন মুসাইয়িব থেকে বর্ণিত, সম্মানিত মাসে যুদ্ধ করা জায়িয। এটাই সকল এলাকার ফকিহদের মত। আর পূর্বোক্ত বিধানটি আল্লাহ তা`আলার বাণী- “তোমরা মুশরিকদেরকে যখন যেখানে পাও, হত্যা কর” [সূরা তাওবা: ৫] এবং “তোমরা যুদ্ধ কর তাদের বিরুদ্ধে, যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি বিশ্বাস রাখে না” [সূরা তাওবা: ২৯] দ্বারা রহিত হয়েছে। কারণ এ আয়াতগুলো সম্মানিত মাসসমূহে যুদ্ধ নিষিদ্ধ হওয়ার পর অবতীর্ণ হয়।” (আহকামুল কুরআন: ১/৩৯০)

ইমাম তাহাবি (র) (৩২১ হি.) বলেন-

أن ذلك الحكم منسوخ بما نزل في سورة براءة …  وحل القتال في الزمان كله. -شرح مشكل الآثار (12/388- 389(

“এ বিধান সূরা তাওবার আয়াত দ্বারা রহিত হয়েছে … এবং যেকোন সময় যুদ্ধ করা বৈধ হয়েছে।” (শরহু মুশিকিলির আসার: ১২/৩৮৮-৩৮৯)

ইবন কাসীর (র) (৭৭৪ হি.) বলেন-

وذهب الجمهور إلى أن ذلك منسوخ وأنه يجوز ابتداء القتال في الأشهر الحرم، واحتجوا بقوله تعالى: فإذا انسلخ الأشهر الحرم فاقتلوا المشركين حيث وجدتموهم [التوبة: 5] والمراد أشهر التسيير الأربعة، قالوا: فلم يستثن شهرا حراما من غيره، وقد حكى الإمام أبو جعفر الإجماع على أن الله قد أحل قتال أهل الشرك في الأشهر الحرم وغيرها من شهور السنة. -تفسير ابن كثير ط العلمية (3/ 7(

“জুমহুরের মতে, উক্ত আয়াতটি রহিত হয়েছে এবং হারাম মাসসমূহে ‘ইক্বদামি’ তথা আক্রমণাত্মক ক্বিতাল বৈধ। তারা এ বিষয়ে আল্লাহ তা`আলার এ আয়াত দিয়ে দলীল দেন- “অতঃপর যখন নিষিদ্ধ মাসগুলো অতিবাহিত হবে, তোমরা মুশরিকদেরকে যখন যেখানে পাও, হত্যা কর।” [সূরা তাওবা: ৫]। এখানে  হারাম মাস বলতে তাদের (মক্কা ছেড়ে অন্যত্র) চলে যাওয়ার জন্য বেঁধে দেয়া চারমাস উদ্দেশ্য। তাই হারাম মাসগুলোকে অন্য মাসসমূহ থেকে (ক্বিতালের বৈধতার ক্ষেত্রে) পৃথক করা হয়নি। ইমাম আবু জাফর তাবারী (র) হারাম মাসসহ পুরো বছরের সব মাসে মুশরিকদের বিরূদ্ধে ক্বিতাল বৈধ হওয়ার ব্যপারে ‘ইজমা’ বর্ণনা করেন।” (তাফসীরে ইবন কাসীর: ৩/৭)

ইমাম রাযী (র) বলেন-

وسئل سعيد بن المسيب هل يصلح للمسلمين أن يقاتلوا الكفار في الشهر الحرام؟ قال نعم. قال أبو عبيد: والناس بالثغور اليوم جميعا على هذا القول يرون الغزو مباحا في الشهور كلها، ولم أر أحدا من علماء الشام والعراق ينكره عليهم، كذلك أحسب قول أهل الحجاز.

والحجة في إباحته قوله تعالى: فاقتلوا المشركين حيث وجدتموهم [التوبة: 5] وهذه الآية ناسخة لتحريم القتال في الشهر الحرام. -تفسير الرازي = مفاتيح الغيب أو التفسير الكبير (6/ 388(

“সাঈদ বিন মুসাইয়িব (র) কে প্রশ্ন করা হয়, হারাম মাসসমূহে মুসলিমদের জন্য কাফিরদের সঙ্গে যুদ্ধ করা কি সমীচীন? তিনি বলেন, হ্যাঁ। আবু উবাইদ (র) বলেন- এখন সীমান্তের সবাই এ মতের উপরই `আমাল করে। তারা সব মাসেই যু্দ্ধ করা বৈধ মনে করে। শাম ও ইরাকের কোন আলিমকে তাদের উপর আপত্তি করতে দেখিনি। আমি মনে করি, হিজাযের আলিমদের মতও এটাই হবে।

এটা বৈধ হওয়ার দলীল হল, আল্লাহ তা`আলার বাণী- “তোমরা মুশরিকদেরকে যখন যেখানে পাও, হত্যা কর।“ [সূরা তাওবা: ৫]। এ আয়াত হারাম মাসসমূহে যুদ্ধ নিষিদ্ধ হওয়াকে রহিত করে দেয়।” (তাফসীরে রাযী: ৬/৩৮৮)

ইমাম সারাখসী (র) বলেন-

ذكر عن سليمان بن يسار أنه سئل: هل يصلح للمسلم أن يقاتل الكفار في الأشهر الحرم؟ قال: نعم. وبه نأخذ. -شرح السير الكبير (ص: 93(

“(ইমাম মুহাম্মদ র) সুলাইমান বিন ইয়াসার থেকে বর্ণনা করেন, তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, হারাম মাসসমূহে মুসলিমদের জন্য কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা কি সমীচীন? তিনি বলেন, হ্যাঁ। (ইমাম মুহাম্মদ (র) বলেন,) আমরা এ মতটিই গ্রহণ করি।’’ (শরহুস সিয়ারিল কাবীর, ‍পৃ: ৯৩)

فقط، والله تعالى أعلم بالصواب

আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (উফিয়া আনহু)

০৩-০৬-১৪৪৩ হি.

০৭-০১-২০২২ ঈ.

[1] وقد يستدل على نسخ الحرمة في الأشهر الحرم بقوله تعالى { اقتلوا المشركين حيث وجدتموهم } وهو بناء على التجوز بلفظ حيث في الزمان ، ولا شك أنه كثر في الاستعمال.( -فتح القدير، ج: 5، ص: 442، ط دار الفكر

{فاقتلوا المشركين حيث وجدتموهم} في أي مكان وزمان. – تفسير السعدي = تيسير الكريم الرحمن (ص: 329

[2]  المراد بقوله تعالى: {فإذا انسلخ الأشهر الحرم} [التوبة: 5] مضي مدة العهد الذي كان لبعضهم، لا بيان حرمة القتال في الأشهر الحرم. -شرح السير الكبير (ص: 93(

والمراد أشهر التسيير الأربعة. -تفسير ابن كثير ط العلمية (3/ (7

কিতাব ও রিসালাহ

  • আন্তঃধর্মীয় সংলাপ সম্প্রীতির নামে ইসলাম ধ্বংসের ষড়যন্ত্রআন্তঃধর্মীয় সংলাপ সম্প্রীতির নামে ইসলাম ধ্বংসের ষড়যন্ত্র

    আমাদের কথা

    Fatwaa.org একটি শিক্ষা ও গবেষণামূলক ওয়েবসাইট, যার উদ্দেশ্য কুরআন-সুন্নাহর আলোকে, সময়ের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন বিষয়ে ইসলামের সঠিক শিক্ষা তুলে ধরা। ইসলামের এ ক্রান্তিলগ্নে ইফরাত-তাফরীত তথা প্রান্তিকতামুক্ত পূর্ণাঙ্গ দ্বীন, উম্মাহর সামনে তুলে ধরা এবং কুরআন-সুন্নাহর আলোকে ইসলাম সম্পর্কে বিভিন্ন সংশয় ও প্রশ্নের উত্তর দেয়া। বিশেষভাবে এমন বিষয়গুলো এখানে প্রাধান্য দেয়া হয়, যেগুলোর ক্ষেত্রে দ্বীনের প্রকৃত শিক্ষা আজ চেপে রাখা হয়েছে! দ্বীনের যে মাজলুম বিষয়গুলো আজ তাহরীফ ও বিকৃতির শিকার! প্রতিটি ক্ষেত্রে কুরআন-সুন্নাহ ও সালফে-সালেহিনের অবস্থানের আলোকে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা তুলে ধরতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

    আমরা বিশ্বাস করি, শরীয়তের প্রধান দলীল ও উৎসমূল কোরআন, সুন্নাহ, ইজমা, কিয়াস। Fatwaa.org এর আলোচনাগুলোতে ফিকহের ইজতেহাদী বিষয়ে আমভাবে ফিকহে হানাফির অনুসরণ করা হয়। তবে ক্ষেত্রবিশেষে শরয়ী দলীলের আলোকে অন্য কোনো মত অগ্রগণ্য প্রমাণিত হলে, ফিকহ-ফতোয়ার উসূলের আলোকে ভিন্নমতও গ্রহণ করা হয়।

    সাইটটির সঙ্গে যুক্ত আছেন, আলিম ও তালিবুল ইলমের সমন্বয়ে গঠিত, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ’র অনুসারী একটি তায়েফা, যাঁরা ইলমে দ্বীন অন্বেষণ ও দ্বীনি দাওয়াহ’র কাজে নিয়োজিত। এ সাইটে আমরা ঐ লেখাগুলোই প্রকাশ করি, যা উম্মাহর জন্য উপকারী এবং কুরআন সুন্নাহর মানদণ্ডে উত্তীর্ণ। যাঁদের লেখা এখানে প্রকাশিত হয়, তাঁদের ভিন্ন কোনো লেখার দায়ভার আমাদের উপর বর্তাবে না। আমরা সর্বদা চেষ্টা করি, কুরআন সুন্নাহর সঠিক দলীলের উপর ভিত্তি করে লেখার। তবে নিজেদের অজান্তে কোনো ভুল হয়ে গেলে তা শুধরে নিতে আমরা সদা প্রস্তুত। তাই গঠনমূলক ও দলীলভিত্তিক যে কোনো সমালোচনা ও পর্যালোচনাকে আমরা স্বাগত জানাই।
    আমাদের সাথে যোগাযোগের ঠিকানা – ask@fatwaa.org


  • জিহাদ কখন ফরজে আইন হয়?জিহাদ কখন ফরজে আইন হয়?

    আমাদের কথা

    Fatwaa.org একটি শিক্ষা ও গবেষণামূলক ওয়েবসাইট, যার উদ্দেশ্য কুরআন-সুন্নাহর আলোকে, সময়ের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন বিষয়ে ইসলামের সঠিক শিক্ষা তুলে ধরা। ইসলামের এ ক্রান্তিলগ্নে ইফরাত-তাফরীত তথা প্রান্তিকতামুক্ত পূর্ণাঙ্গ দ্বীন, উম্মাহর সামনে তুলে ধরা এবং কুরআন-সুন্নাহর আলোকে ইসলাম সম্পর্কে বিভিন্ন সংশয় ও প্রশ্নের উত্তর দেয়া। বিশেষভাবে এমন বিষয়গুলো এখানে প্রাধান্য দেয়া হয়, যেগুলোর ক্ষেত্রে দ্বীনের প্রকৃত শিক্ষা আজ চেপে রাখা হয়েছে! দ্বীনের যে মাজলুম বিষয়গুলো আজ তাহরীফ ও বিকৃতির শিকার! প্রতিটি ক্ষেত্রে কুরআন-সুন্নাহ ও সালফে-সালেহিনের অবস্থানের আলোকে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা তুলে ধরতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

    আমরা বিশ্বাস করি, শরীয়তের প্রধান দলীল ও উৎসমূল কোরআন, সুন্নাহ, ইজমা, কিয়াস। Fatwaa.org এর আলোচনাগুলোতে ফিকহের ইজতেহাদী বিষয়ে আমভাবে ফিকহে হানাফির অনুসরণ করা হয়। তবে ক্ষেত্রবিশেষে শরয়ী দলীলের আলোকে অন্য কোনো মত অগ্রগণ্য প্রমাণিত হলে, ফিকহ-ফতোয়ার উসূলের আলোকে ভিন্নমতও গ্রহণ করা হয়।

    সাইটটির সঙ্গে যুক্ত আছেন, আলিম ও তালিবুল ইলমের সমন্বয়ে গঠিত, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ’র অনুসারী একটি তায়েফা, যাঁরা ইলমে দ্বীন অন্বেষণ ও দ্বীনি দাওয়াহ’র কাজে নিয়োজিত। এ সাইটে আমরা ঐ লেখাগুলোই প্রকাশ করি, যা উম্মাহর জন্য উপকারী এবং কুরআন সুন্নাহর মানদণ্ডে উত্তীর্ণ। যাঁদের লেখা এখানে প্রকাশিত হয়, তাঁদের ভিন্ন কোনো লেখার দায়ভার আমাদের উপর বর্তাবে না। আমরা সর্বদা চেষ্টা করি, কুরআন সুন্নাহর সঠিক দলীলের উপর ভিত্তি করে লেখার। তবে নিজেদের অজান্তে কোনো ভুল হয়ে গেলে তা শুধরে নিতে আমরা সদা প্রস্তুত। তাই গঠনমূলক ও দলীলভিত্তিক যে কোনো সমালোচনা ও পর্যালোচনাকে আমরা স্বাগত জানাই।
    আমাদের সাথে যোগাযোগের ঠিকানা – ask@fatwaa.org


  • তাকফিরের ব্যাপারে সীমালংঘন : কারণ ও প্রতিকার fatwaaতাকফিরের ব্যাপারে সীমালংঘন : কারণ ও প্রতিকার

    আমাদের কথা

    Fatwaa.org একটি শিক্ষা ও গবেষণামূলক ওয়েবসাইট, যার উদ্দেশ্য কুরআন-সুন্নাহর আলোকে, সময়ের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন বিষয়ে ইসলামের সঠিক শিক্ষা তুলে ধরা। ইসলামের এ ক্রান্তিলগ্নে ইফরাত-তাফরীত তথা প্রান্তিকতামুক্ত পূর্ণাঙ্গ দ্বীন, উম্মাহর সামনে তুলে ধরা এবং কুরআন-সুন্নাহর আলোকে ইসলাম সম্পর্কে বিভিন্ন সংশয় ও প্রশ্নের উত্তর দেয়া। বিশেষভাবে এমন বিষয়গুলো এখানে প্রাধান্য দেয়া হয়, যেগুলোর ক্ষেত্রে দ্বীনের প্রকৃত শিক্ষা আজ চেপে রাখা হয়েছে! দ্বীনের যে মাজলুম বিষয়গুলো আজ তাহরীফ ও বিকৃতির শিকার! প্রতিটি ক্ষেত্রে কুরআন-সুন্নাহ ও সালফে-সালেহিনের অবস্থানের আলোকে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা তুলে ধরতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

    আমরা বিশ্বাস করি, শরীয়তের প্রধান দলীল ও উৎসমূল কোরআন, সুন্নাহ, ইজমা, কিয়াস। Fatwaa.org এর আলোচনাগুলোতে ফিকহের ইজতেহাদী বিষয়ে আমভাবে ফিকহে হানাফির অনুসরণ করা হয়। তবে ক্ষেত্রবিশেষে শরয়ী দলীলের আলোকে অন্য কোনো মত অগ্রগণ্য প্রমাণিত হলে, ফিকহ-ফতোয়ার উসূলের আলোকে ভিন্নমতও গ্রহণ করা হয়।

    সাইটটির সঙ্গে যুক্ত আছেন, আলিম ও তালিবুল ইলমের সমন্বয়ে গঠিত, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ’র অনুসারী একটি তায়েফা, যাঁরা ইলমে দ্বীন অন্বেষণ ও দ্বীনি দাওয়াহ’র কাজে নিয়োজিত। এ সাইটে আমরা ঐ লেখাগুলোই প্রকাশ করি, যা উম্মাহর জন্য উপকারী এবং কুরআন সুন্নাহর মানদণ্ডে উত্তীর্ণ। যাঁদের লেখা এখানে প্রকাশিত হয়, তাঁদের ভিন্ন কোনো লেখার দায়ভার আমাদের উপর বর্তাবে না। আমরা সর্বদা চেষ্টা করি, কুরআন সুন্নাহর সঠিক দলীলের উপর ভিত্তি করে লেখার। তবে নিজেদের অজান্তে কোনো ভুল হয়ে গেলে তা শুধরে নিতে আমরা সদা প্রস্তুত। তাই গঠনমূলক ও দলীলভিত্তিক যে কোনো সমালোচনা ও পর্যালোচনাকে আমরা স্বাগত জানাই।
    আমাদের সাথে যোগাযোগের ঠিকানা – ask@fatwaa.org


  • ইমাম মাহদির আগমন : সংশয় ও বাস্তবতাইমাম মাহদির আগমন : সংশয় ও বাস্তবতা

    আমাদের কথা

    Fatwaa.org একটি শিক্ষা ও গবেষণামূলক ওয়েবসাইট, যার উদ্দেশ্য কুরআন-সুন্নাহর আলোকে, সময়ের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন বিষয়ে ইসলামের সঠিক শিক্ষা তুলে ধরা। ইসলামের এ ক্রান্তিলগ্নে ইফরাত-তাফরীত তথা প্রান্তিকতামুক্ত পূর্ণাঙ্গ দ্বীন, উম্মাহর সামনে তুলে ধরা এবং কুরআন-সুন্নাহর আলোকে ইসলাম সম্পর্কে বিভিন্ন সংশয় ও প্রশ্নের উত্তর দেয়া। বিশেষভাবে এমন বিষয়গুলো এখানে প্রাধান্য দেয়া হয়, যেগুলোর ক্ষেত্রে দ্বীনের প্রকৃত শিক্ষা আজ চেপে রাখা হয়েছে! দ্বীনের যে মাজলুম বিষয়গুলো আজ তাহরীফ ও বিকৃতির শিকার! প্রতিটি ক্ষেত্রে কুরআন-সুন্নাহ ও সালফে-সালেহিনের অবস্থানের আলোকে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা তুলে ধরতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

    আমরা বিশ্বাস করি, শরীয়তের প্রধান দলীল ও উৎসমূল কোরআন, সুন্নাহ, ইজমা, কিয়াস। Fatwaa.org এর আলোচনাগুলোতে ফিকহের ইজতেহাদী বিষয়ে আমভাবে ফিকহে হানাফির অনুসরণ করা হয়। তবে ক্ষেত্রবিশেষে শরয়ী দলীলের আলোকে অন্য কোনো মত অগ্রগণ্য প্রমাণিত হলে, ফিকহ-ফতোয়ার উসূলের আলোকে ভিন্নমতও গ্রহণ করা হয়।

    সাইটটির সঙ্গে যুক্ত আছেন, আলিম ও তালিবুল ইলমের সমন্বয়ে গঠিত, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ’র অনুসারী একটি তায়েফা, যাঁরা ইলমে দ্বীন অন্বেষণ ও দ্বীনি দাওয়াহ’র কাজে নিয়োজিত। এ সাইটে আমরা ঐ লেখাগুলোই প্রকাশ করি, যা উম্মাহর জন্য উপকারী এবং কুরআন সুন্নাহর মানদণ্ডে উত্তীর্ণ। যাঁদের লেখা এখানে প্রকাশিত হয়, তাঁদের ভিন্ন কোনো লেখার দায়ভার আমাদের উপর বর্তাবে না। আমরা সর্বদা চেষ্টা করি, কুরআন সুন্নাহর সঠিক দলীলের উপর ভিত্তি করে লেখার। তবে নিজেদের অজান্তে কোনো ভুল হয়ে গেলে তা শুধরে নিতে আমরা সদা প্রস্তুত। তাই গঠনমূলক ও দলীলভিত্তিক যে কোনো সমালোচনা ও পর্যালোচনাকে আমরা স্বাগত জানাই।
    আমাদের সাথে যোগাযোগের ঠিকানা – ask@fatwaa.org


  • ফাতওয়াপ্রার্থীর আদব-নির্দেশিকাফাতওয়াপ্রার্থীর আদব-নির্দেশিকা

    আমাদের কথা

    Fatwaa.org একটি শিক্ষা ও গবেষণামূলক ওয়েবসাইট, যার উদ্দেশ্য কুরআন-সুন্নাহর আলোকে, সময়ের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন বিষয়ে ইসলামের সঠিক শিক্ষা তুলে ধরা। ইসলামের এ ক্রান্তিলগ্নে ইফরাত-তাফরীত তথা প্রান্তিকতামুক্ত পূর্ণাঙ্গ দ্বীন, উম্মাহর সামনে তুলে ধরা এবং কুরআন-সুন্নাহর আলোকে ইসলাম সম্পর্কে বিভিন্ন সংশয় ও প্রশ্নের উত্তর দেয়া। বিশেষভাবে এমন বিষয়গুলো এখানে প্রাধান্য দেয়া হয়, যেগুলোর ক্ষেত্রে দ্বীনের প্রকৃত শিক্ষা আজ চেপে রাখা হয়েছে! দ্বীনের যে মাজলুম বিষয়গুলো আজ তাহরীফ ও বিকৃতির শিকার! প্রতিটি ক্ষেত্রে কুরআন-সুন্নাহ ও সালফে-সালেহিনের অবস্থানের আলোকে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা তুলে ধরতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

    আমরা বিশ্বাস করি, শরীয়তের প্রধান দলীল ও উৎসমূল কোরআন, সুন্নাহ, ইজমা, কিয়াস। Fatwaa.org এর আলোচনাগুলোতে ফিকহের ইজতেহাদী বিষয়ে আমভাবে ফিকহে হানাফির অনুসরণ করা হয়। তবে ক্ষেত্রবিশেষে শরয়ী দলীলের আলোকে অন্য কোনো মত অগ্রগণ্য প্রমাণিত হলে, ফিকহ-ফতোয়ার উসূলের আলোকে ভিন্নমতও গ্রহণ করা হয়।

    সাইটটির সঙ্গে যুক্ত আছেন, আলিম ও তালিবুল ইলমের সমন্বয়ে গঠিত, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ’র অনুসারী একটি তায়েফা, যাঁরা ইলমে দ্বীন অন্বেষণ ও দ্বীনি দাওয়াহ’র কাজে নিয়োজিত। এ সাইটে আমরা ঐ লেখাগুলোই প্রকাশ করি, যা উম্মাহর জন্য উপকারী এবং কুরআন সুন্নাহর মানদণ্ডে উত্তীর্ণ। যাঁদের লেখা এখানে প্রকাশিত হয়, তাঁদের ভিন্ন কোনো লেখার দায়ভার আমাদের উপর বর্তাবে না। আমরা সর্বদা চেষ্টা করি, কুরআন সুন্নাহর সঠিক দলীলের উপর ভিত্তি করে লেখার। তবে নিজেদের অজান্তে কোনো ভুল হয়ে গেলে তা শুধরে নিতে আমরা সদা প্রস্তুত। তাই গঠনমূলক ও দলীলভিত্তিক যে কোনো সমালোচনা ও পর্যালোচনাকে আমরা স্বাগত জানাই।
    আমাদের সাথে যোগাযোগের ঠিকানা – ask@fatwaa.org


  • বাংলাদেশের জিহাদ সমর্থক ভাইদের জন্য অনলাইন দাওয়াতের কিছু নির্দেশনাবাংলাদেশের জিহাদ সমর্থক ভাইদের জন্য অনলাইন দাওয়াতের কিছু নির্দেশনা

    আমাদের কথা

    Fatwaa.org একটি শিক্ষা ও গবেষণামূলক ওয়েবসাইট, যার উদ্দেশ্য কুরআন-সুন্নাহর আলোকে, সময়ের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন বিষয়ে ইসলামের সঠিক শিক্ষা তুলে ধরা। ইসলামের এ ক্রান্তিলগ্নে ইফরাত-তাফরীত তথা প্রান্তিকতামুক্ত পূর্ণাঙ্গ দ্বীন, উম্মাহর সামনে তুলে ধরা এবং কুরআন-সুন্নাহর আলোকে ইসলাম সম্পর্কে বিভিন্ন সংশয় ও প্রশ্নের উত্তর দেয়া। বিশেষভাবে এমন বিষয়গুলো এখানে প্রাধান্য দেয়া হয়, যেগুলোর ক্ষেত্রে দ্বীনের প্রকৃত শিক্ষা আজ চেপে রাখা হয়েছে! দ্বীনের যে মাজলুম বিষয়গুলো আজ তাহরীফ ও বিকৃতির শিকার! প্রতিটি ক্ষেত্রে কুরআন-সুন্নাহ ও সালফে-সালেহিনের অবস্থানের আলোকে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা তুলে ধরতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

    আমরা বিশ্বাস করি, শরীয়তের প্রধান দলীল ও উৎসমূল কোরআন, সুন্নাহ, ইজমা, কিয়াস। Fatwaa.org এর আলোচনাগুলোতে ফিকহের ইজতেহাদী বিষয়ে আমভাবে ফিকহে হানাফির অনুসরণ করা হয়। তবে ক্ষেত্রবিশেষে শরয়ী দলীলের আলোকে অন্য কোনো মত অগ্রগণ্য প্রমাণিত হলে, ফিকহ-ফতোয়ার উসূলের আলোকে ভিন্নমতও গ্রহণ করা হয়।

    সাইটটির সঙ্গে যুক্ত আছেন, আলিম ও তালিবুল ইলমের সমন্বয়ে গঠিত, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ’র অনুসারী একটি তায়েফা, যাঁরা ইলমে দ্বীন অন্বেষণ ও দ্বীনি দাওয়াহ’র কাজে নিয়োজিত। এ সাইটে আমরা ঐ লেখাগুলোই প্রকাশ করি, যা উম্মাহর জন্য উপকারী এবং কুরআন সুন্নাহর মানদণ্ডে উত্তীর্ণ। যাঁদের লেখা এখানে প্রকাশিত হয়, তাঁদের ভিন্ন কোনো লেখার দায়ভার আমাদের উপর বর্তাবে না। আমরা সর্বদা চেষ্টা করি, কুরআন সুন্নাহর সঠিক দলীলের উপর ভিত্তি করে লেখার। তবে নিজেদের অজান্তে কোনো ভুল হয়ে গেলে তা শুধরে নিতে আমরা সদা প্রস্তুত। তাই গঠনমূলক ও দলীলভিত্তিক যে কোনো সমালোচনা ও পর্যালোচনাকে আমরা স্বাগত জানাই।
    আমাদের সাথে যোগাযোগের ঠিকানা – ask@fatwaa.org