ফাতওয়া  নং  ৫৩

মাস্টারবেশন বা হস্তমৈথুনের হুকুম কী?

মাস্টারবেশন বা হস্তমৈথুনের হুকুম কী?

মাস্টারবেশন বা হস্তমৈথুনের হুকুম কী?

 

প্রশ্ন:

আমার পরিচিত এক ভাই স্ত্রীর সাথে বনিবনা না হওয়ায় তাঁকে তালাক দিয়ে এখন একা থাকেন। এখন তিনি মাঝে মধ্যেই মাস্টারবেশন (হস্তমৈথুন) করেন। এ ব্যাপারে শরীয়তের নির্দেশনা কী? তাঁর ওপর শরীয়তের কী বিধান আপতিত হবে?

নাম- আকাশ

উত্তর:

بسم الله الرحمن الرحيم

মাস্টারবেশন তথা হস্তমৈথুন করা হারাম এবং মারাত্মক গুনাহের কাজ। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,

وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ (5) إِلَّا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ فَإِنَّهُمْ غَيْرُ مَلُومِينَ (6) فَمَنِ ابْتَغَى وَرَاءَ ذَلِكَ فَأُولَئِكَ هُمُ الْعَادُونَ. (سورة المؤمنون: 5-7(

“আর (ওই সকল মুমিনই সফল) যারা নিজেদের যৌনাঙ্গ হেফাজত করে। নিজেদের স্ত্রী বা মালিকানাভুক্ত দাসী ব্যতীত (তা ব্যবহার করে না)। এক্ষেত্রে (স্ত্রী ও দাসীর ক্ষেত্রে) অবশ্যই তারা নিন্দিত নয়। যারা এর বাইরে কিছু কামনা করবে (অর্থাৎ স্ত্রী ও দাসী ছাড়া ভিন্ন উপায়ে চাহিদা মেটাবে) তারাই সীমালঙ্ঘনকারী।” -সূরা মুমিনুন (২৩) : ৫-৭

আয়াতের তাফসীরে ইমাম ইবনে কাসীর রাহিমাহুল্লাহ (৭৭৪ হি.) লিখেন,

وقد استدل الإمام الشافعي رحمه الله ومن وافقه على تحريم الاستمناء باليد بهذه الآية الكريمة اهـ. (تفسير ابن كثير: 5/404، دار الكتب العلمية(

“ইমাম শাফেয়ি এবং যারা তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন, তাঁরা সবাই এ আয়াত দিয়ে হস্তমৈথুন হারাম হওয়ার পক্ষে দলিল দিয়েছেন।” -তাফসিরে ইবনে কাসীর: ৫/৪০৪

প্রসিদ্ধ হানাফী ফকিহ; ইমাম আবুল বারাকাত নাসাফী রাহিমাহুল্লাহ উক্ত আয়াতের তাফসীরে (৭১০ হি.) বলেন,

وهذه الآية تدل على حرمة المتعة ووطء الذكران والبهائم والاستمناء بالكف اهـ. -تفسير مدارك التنزيل: 3/539، دار الكلم الطيب، بيروت

“উল্লেখিত আয়াতটি নিকাহে মুতআ’ (অর্থের বিনিময়ে সাময়িক বিয়ে), সমকাম, পশুকাম এবং হস্তমৈথুন হারাম হওয়ার প্রমাণ বহন করে।” -তাফসীরে মাদারিকুত তানযীল: ৩/৫৩৯

তাছাড়া বিষয়টি চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতেও স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ক্ষতিকর। সুতরাং এমন নাজাযেয ও স্বাস্থ্যবিনাসী কাজ থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। তা থেকে বাঁচার জন্য সামর্থ্য থাকলে পুনরায় বিয়ে করে নেয়া জরুরি। সামর্থ্য না থাকলে বেশি বেশি রোযা রাখতে থাকবে। সামর্থ্য অর্জনের চেষ্টা করবে, তাকওয়া অবলম্বন করবে এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

يا معشر الشباب، من استطاع الباءة  فليتزوج، فإنه أغض للبصر وأحصن للفرج، ومن لم يستطع فعليه بالصوم فإنه له وجاء -صحيح البخاري: 5066

“হে যুবক সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যার বিয়ের সামর্থ্য রয়েছে, সে যেন বিয়ে করে ফেলে। কেননা, তা তার দৃষ্টি অবনত রাখতে ও লজ্জাস্থানকে হেফাজত করতে সর্বাধিক সহায়ক। আর যে বিবাহের সামর্থ্য রাখে না, সে যেন রোজা রাখতে থাকে। কারণ তা যৌন উত্তেজনা প্রশমনকারী।” -সহিহ বুখারী: ৫০৬৬

অপর হাদিসে এসেছে,

ثلاثة كلهم حق على الله عز وجل عونه: المجاهد في سبيل الله، والناكح الذي يريد العفاف، والمكاتب الذي يريد الأداء. –سنن النسائي: 3120

“তিন ব্যক্তিকে সাহায্য করা আল্লাহ তায়ালা নিজের ওপর অবধারিত করে রেখেছেন। (১) আল্লাহর রাস্তার মুজাহিদ, (২) যে ব্যক্তি গুনাহ থেকে বাঁচার জন্য বিয়ে করে এবং (৩) যে ‘মুকাতাব’ (আযাদী চুক্তিতে আবদ্ধ গোলাম তার) চুক্তির বিনিময় আদায় করতে চায়। -সুনানে নাসায়ী, ৩১২০

আরও দেখুন, রদ্দুল মুহতার: ২/৩৯৯; ৪/২৭, দারুল ফিকর, বৈরুত

উল্লেখ্য, বিয়ের সামর্থ্য আছে কি না, তা আমাদের সমাজের মাপকাঠিতে বিচার করলে হবে না। আমাদের সমাজে এমন অনেক কিছুকেই বিয়ের পূর্বশর্ত মনে করা হয়, যেগুলো শরীয়তে গ্রহণযোগ্য নয়। সুতরাং যাদের এজাতীয় সমস্যা আছে, তাদের জন্য জরুরি, তিনি আসলেই শরীয়তের বিচারে বিয়ের সামর্থ্য রাখেন কি না, বিজ্ঞ কোনো আলেমের শরণাপন্ন হয়ে তা জেনে দ্রুত বিয়ে করে ফেলা। অযথা বিয়ে বিলম্বিত না করা।

فقط. والله اعلم بالصواب

আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (গুফিরা লাহু)

২০-১১-৪১ হি.

১২-০৭-২০ ইং