প্রশ্ন: পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত কোনো নামাযী ও পর্দানশীন মেয়েকে বিয়ে করার শরঈ বিধান কী?
-মুহাম্মদ আবীর
উত্তর: নামায পড়া এবং পর্দা করা দ্বীনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু আজকাল জেনারেল লাইনে পড়ুয়া একজন মেয়ের মধ্যে শুধু এই দুটি বিষয় থাকলেই যে সে দ্বীনদার হবে, তা জরুরি নয়। কারণ দ্বীনের ক্ষেত্রে এগুলোর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, একজন মুমিনের ঈমান-আকীদা। সেক্যুলারিজমের এ যুগে অনেকেই সেক্যুলার চিন্তাচেতনা কিংবা মডারেট চিন্তাচেতনাকে দ্বীনদারির পরিপন্থী মনে করে না। এ কারণে তারা সেক্যুলার বস্তুবাদী জেনারেল শিক্ষাকে তাদের দ্বীনের জন্য সাংঘর্ষিক মনে করে না। বস্তুত সেক্যুলার কিংবা মডারেট চিন্তা লালন করে নামায ও পর্দা করলেও তাকে দ্বীনদার বলা যায় না। তাই বিয়ের জন্য পাত্রী নির্বাচনে প্রথমে দেখার বিষয় তার ঈমান-আকীদা কতটুকু সঠিক। দ্বিতীয় দেখার বিষয় তার আমল আখলাক কতটা উন্নত। দুটির সমষ্টিগত বিচারে যদি একজন পাত্রী দ্বীনদার হয় এবং বর্তমান সেক্যুলার সহশিক্ষার অপরাধ থেকে তওবা করে দ্বীনের পথে আগাবার পণ করে, তাহলে তাকে দ্বীনদার বিবেচনা করে বিয়ে করতে সমস্যা নেই। বরং অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় জাহেলিয়াত দেখার পর দ্বীনের পথে আসা এ বোনগুলো দ্বীনের প্রতি অধিক যত্মশীল ও আগ্রহী হয়। হাদীসে দ্বীনদার পাত্রীকে অগ্রাধিকার দেয়ার নির্দেশ করা হয়েছে।
আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত,
عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ” تُنْكَحُ المَرْأَةُ لِأَرْبَعٍ: لِمَالِهَا وَلِحَسَبِهَا وَجَمَالِهَا وَلِدِينِهَا، فَاظْفَرْ بِذَاتِ الدِّينِ، تَرِبَتْ يَدَاكَ “. -صحيح البخاري (5090)
“আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, চারটি গুণ দেখে নারীকে বিয়ে করা হয়—তার সম্পদ, তার বংশমর্যাদা, তার রূপ-সৌন্দর্য ও তার দ্বীনদারি। তুমি দ্বীনদার পাত্রী গ্রহণ করো, তাহলে তুমি সফলকাম হবে।” -সহীহ বুখারী: ৫০৯০
আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (উফিয়া আনহু)
২৯-০৬-১৪৪৭ হি.
২১-১২-২০২৫ ঈ.