হালাল-হারাম:ফাতওয়া  নং  ৬১৪

বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের বিধান

প্রশ্ন: আমি একজন ব্যবসায়ী, বিবাহিত এবং একাধিক সন্তানের পিতা। বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনা শেষ করিনি, কিন্তু এখন জ্ঞান ও মেধা বাড়ানোর জন্য পড়তে চাচ্ছি। মালয়েশিয়া আমার জন্য উপযুক্ত মনে হচ্ছে, তবে সেখানে সহশিক্ষা এড়িয়ে লেখাপড়া করা একদমই সম্ভব না। আমার পূর্ণ ইচ্ছা, চোখের হেফাযত করব এবং ফ্রি-মিক্সিং এড়িয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাব। কোনোপ্রকার গুনাহে জড়াবো না।
আমি আখিরাতকে কম্প্রোমাইজ না করে আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে চাই এবং নিজের সব কিছু দ্বীনের ব্যয় করতে চাই।
এখন প্রশ্ন হলো—এভাবে দ্বীনের ক্ষতি না করে সতর্কভাবে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা কি জায়েয হবে?
-মুহাম্মাদ মাসুদ

উত্তর: আসলে দ্বীন ও ঈমান সবচেয়ে বড় সম্পদ। পৃথিবীর সবকিছুর বিনিময়ে হলেও তা নিরাপদ রাখা জরুরি এবং বুদ্ধিমানের কাজ। বর্তমান জেনারেল শিক্ষার ঝুঁকি মৌলিকভাবে দুই জায়গায়। ১. সহশিক্ষা ও বেহায়াপনা পরিবেশ। ২. সেক্যুলার সিলেবাস। দুটির কোনোটিতেই আমরা একজন মুমিনের ঈমান ঝুঁকিমুক্ত মনে করি না। তাছাড়া আপনি যে লক্ষ্যের কথা বলছেন, বড় ব্যবসায়ী হবেন, এটাও আরেকটা ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা। আজকাল পূর্ণ হালালের উপর অবিচল থেকে ছোট ব্যবসাও কঠিন। বড় ব্যবসা তো আরও কঠিন। তাই আমাদের পরামর্শ হলো, আপনি ঈমানের এতগুলো ঝুঁকি না নেয়াই আপনার জন্য নিরাপদ। ঈমান নিরাপদ রেখে পূর্ণ হালালের উপর থেকে যতটুকু দ্বীনের খেদমত আঞ্জাম দেওয়া সম্ভব, তা আল্লাহর নিকট ঈমানকে ঝুঁকিতে ফেলে অনেক বেশি খেদমত করার চেয়ে অধিক প্রিয়। এরপরও যদি আপনি একান্ত যেতেই চান, তাহলে আরব বিশ্বের যে ভার্সিটিগুলোতে সহশিক্ষা নেই এবং সিলেবাসও হয়তো কুফর শিরক মুক্ত, এমন কোনো ভার্সিটির সন্ধান পেলে সেদিকে যাওয়ার চিন্তা করতে পারেন।

আরও জানতে দেখুন:
ফাতওয়া নং ১৪১: সহশিক্ষার হুকুম কী?
ফাতওয়া নং ৩০৩: শরীয়ত সম্মতভাবে সর্বোচ্চ কত দিন স্ত্রী থেকে দূরে থাকা যাবে?
ফাতওয়া নং ৫৭৬: উচ্চশিক্ষার জন্য কাফের রাষ্ট্রে গমন এবং তাগুতের বিরুদ্ধে প্রোপাগাণ্ডার বিধান

আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (উফিয়া আনহু)
০৪-০৭-১৪৪৭ হি.
২৫-১২-২০২৫ ঈ.

Related Articles

Back to top button