প্রশ্ন:
যদি কেউ ভুলে কিংবা নফসের কারণে সাদাকার টাকা খরচ করে ফেলে, তাহলে কী করতে হবে? এর কাফফারা কীভাবে আদায় হবে? আর যদি সেটা কোনো দ্বীনি সংগঠনের জন্য নির্ধারিত টাকা হয়, তখন কী হুকুম?
-জুলাইবিব
উত্তর:
بسم الله الرحمن الرحيم
সাদাকার টাকা যার হাতে আসবে, তার হাতে তা আমানত। তা যেভাবে আসে, সেভাবেই হেফাযত করা জরুরি। দায়িত্বশীলদের অনুমতি এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠন কিংবা প্রতিষ্ঠানের নীতির বাইরে কোনো প্রকার তাসাররুফ করা জায়েয নয়। করলে তা খেয়ানতের অন্তর্ভুক্ত হবে। খেয়ানত অনেক বড় গুনাহ। কুরআনে কারীমে এসেছে,
يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَخُونُوا اللَّهَ وَالرَّسُولَ وَتَخُونُوا أَمَانَاتِكُمْ وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ –سورة الأنفال: 27
“হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে খেয়াতনত করো না এবং জেনে–বুঝে নিজেদের আমানতের খেয়ানত করো না।” –সূরা আনফাল ০৮:২৭
খেয়ানতকে হাদীসে মুনাফিকের আলামত বলা হয়েছে। ইরশাদ হচ্ছে,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «آيَةُ المُنَافِقِ ثَلاَثٌ: إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ، وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ، وَإِذَا اؤْتُمِنَ خَانَ» –رواه البخاري (33) ومسلم (59)
“আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মুনাফিকের আলামত তিনটি: যখন কথা বলে, মিথ্যা বলে; ওয়াদা করলে, তা রক্ষা করে না, আর তার কাছে আমানত রাখা হলে, সে তাতে খেয়ানত করে।” –সহীহ বুখারী: ৩৩; সহীহ মুসলিম: ৫৯
খেয়ানতকারীর পক্ষে কথা বলতেও কুরআনে কারীমে নিষেধ করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে,
إِنَّا أَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ لِتَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ بِمَا أَرَاكَ اللَّهُ وَلَا تَكُنْ لِلْخَائِنِينَ خَصِيمًا (105) وَاسْتَغْفِرِ اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ غَفُورًا رَحِيمًا (106) وَلَا تُجَادِلْ عَنِ الَّذِينَ يَخْتَانُونَ أَنْفُسَهُمْ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ مَنْ كَانَ خَوَّانًا أَثِيمًا –سورة النساء: 105 – 107
“নিশ্চয়ই আমি আপনার প্রতি সত্যসহ কিতাব নাযিল করেছি, যাতে আল্লাহ আপনাকে যা শিখিয়েছেন, তার আলোকে আপনি মানুষের মধ্যে বিচার করেন। আর আপনি খেয়ানতকারীদের পক্ষাবলম্বনকারী হবেন না। আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। আর যারা নিজেদের সাথেই খেয়ানত করে, তাদের পক্ষে বিতর্ক করবেন না। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতিশয় খেয়ানতকারী গুনাহগার ব্যক্তিকে পছন্দ করেন না।” –সূরা নিসা ০৪: ১০৫-১০৭
কোনো ব্যক্তির সম্পদের খেয়ানত অপেক্ষা সমগ্র উম্মাহর কিংবা দ্বীনি কোনো ফাণ্ডের খেয়ানত আরো বেশি ভয়াবহ। হাদীসে এসেছে,
عَنْ خَوْلَةَ الأَنْصَارِيَّةِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، قَالَتْ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: «إِنَّ رِجَالًا يَتَخَوَّضُونَ فِي مَالِ اللَّهِ بِغَيْرِ حَقٍّ، فَلَهُمُ النَّارُ يَوْمَ القِيَامَةِ» –رواه البخاري (3118)
“খাওলা রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি—কিছু মানুষ অন্যায়ভাবে আল্লাহর সম্পদে হস্তক্ষেপ করে; কিয়ামতের দিনে তাদের জন্য জাহান্নাম অবধারিত।” –সহীহ বুখারী: ৩১১৮
সুতরাং কেউ এমন কাজ করে থাকলে তার দায়িত্ব অবিলম্বে তওবা করা এবং উক্ত আমানত ফাণ্ডে ফেরত দেয়া। গুনাহের কাফফারা হিসেবে কিছু নফল সাদাকা, নফল নামায কিংবা অন্য কোনো ইবাদতও করা যেতে পারে।
-সূরা হূদ ১১:১১৪; জামে তিরমিযী: ১৯৮৭; আল-মাওসুআতুল ফিকহিয়্যাহ: ৩৮/২১৩; রদ্দুল মুহতার: ১/২৯৮ (দারুল ফিকর)
আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (উফিয়া আনহু)
২০-১০-১৪৪৭ হি.
০৯-০৪-২০২৬ ঈ.