পিডিএফ ডাউনলোড করুন
ওয়ার্ড ডাউনলোড করুন
প্রশ্ন:
বর্তমান তাগুতি আদালতে তাগুতি আইনে কি ওকালতি করা যাবে? যদি করা যায় তাহলে কতটুকু পর্যন্ত বৈধ হবে?
-মারুফুল ইসলাম
উত্তর:
بسم الله الرحمن الرحيم
মানবরচিত আইনে বিচারপ্রার্থী হতে উলামায়ে কেরামের অনেকে সর্বাবস্থায়ই নিষেধ করেছেন। কিছু ক্ষেত্রে কুফর এবং কিছু ক্ষেত্রে নাজায়েয বলেছেন। কারণ এর মাধ্যমে প্রচলিত তাগুতি শাসন ও বিচার ব্যবস্থা শক্তিশালী হয়, যা অন্যায় কাজে সহযোগিতার শামিল। মুসলিমদের দায়িত্ব সর্বাত্মক শক্তি ব্যয় করে এই ব্যবস্থা ধ্বংস করা। সুতরাং কোনোভাবেই এতে অংশ গ্রহণ করার সুযোগ নেই। -ফাতাওয়া রশীদীয়া: ২/৪২৯; ফী জিলালি সূরা আত-তাওবাহ: ১/১৭৪; মুনতাদাল আসইলা, প্রশ্ন নং: ৭০২৯।
কিন্তু জুমহুর (অধিকাংশ) উলমায়ে কেরাম বিশেষ ক্ষেত্রে কিছু শর্ত সাপেক্ষে তা জায়েয বলেছেন। তাঁরা মনে করেন, বর্তমানে মানবরচিত আইনের আওতায় যে তীব্র মাত্রায় মুসলিম সমাজে জুলুম ও অন্যায়-অনাচার চলছে, ক্ষেত্রবিশেষে উক্ত বিচার ব্যবস্থার শরণাপন্ন হওয়ার মাধ্যমে কিছুটা হলেও তা কমিয়ে আনার সুযোগ সৃষ্টি হয়। সুযোগ সামর্থ্য থাকলে জুলুমের মাত্রা যথাসম্ভব কমিয়ে আনার চেষ্টা করাও আমাদের দায়িত্ব। আমরা মনে করি, দলীল প্রমাণের আলোকে জুমহুরের মতটিই অগ্রগণ্য।
বিশেষ ক্ষেত্রটি হচ্ছে, যখন শরীয়ত সম্মত বিচারের কোনো ব্যবস্থা না থাকবে এবং কুফরী বিচার ব্যবস্থার শরণাপন্ন না হয়ে জুলুম থেকে নিস্তার পাওয়ার কিংবা ন্যায্য হক আদায়ের বিকল্প কোনো অবকাশ না থাকবে, তখন কিছু শর্তসাপেক্ষে মানবরচিত আইনে বিচারপ্রার্থী হওয়ার অবকাশ আছে। শর্তগুলো হচ্ছে:
০১. একথার উপর পূর্ণ বিশ্বাস রাখা যে, শরীয়াহ আইনই একমাত্র ইনসাফ ও ন্যায়ানুগ আইন। অন্য কোনো আইন শরীয়াহ আইনের সমমর্যাদা পাবার যোগ্যতা রাখে না এবং ন্যায় ও ইনসাফের জামিন হতে পারে না। এও বিশ্বাস রাখা যে, অনন্যোপায় হওয়ার মতো ওজর ব্যতীত এই আইনের কাছে বিচারপ্রার্থী হওয়া কোনো মুসলিমের জন্য জায়েয নয়; বরং সন্তষ্টচিত্তে বিচারপ্রার্থী হওয়া কুফর। এই আকীদা পোষণ করে জুলুমের মাত্রা কমানো ও ন্যায্য হক আদায়ের উদ্দেশ্যে মানবরচিত আইনের শরণাপন্ন হওয়া যাবে।
০২. অন্যের উপর জুলুম না করা এবং শরীয়াহ পরিপন্থী কোনো রায়ের আবেদন না করা। শরীয়াহ পরিপন্থী রায় হলে তা বাস্তবায়ন না করা। যেমন আমি ঋণ পরিশোধে সক্ষম দেনাদারের বিরুদ্ধে আমার দেয়া ঋণ ফিরে পাওয়ার জন্য মামলা করলাম। কিন্তু আদালত আমার জন্য বিগত দিনের সুদসহ ঋণ ফেরতের ফায়সালা করল। এক্ষেত্রে আমি শুধু আমার ঋণ ফেরত নিতে পারব, সুদ নয়। কারণ তা অন্যের উপর জুলুম এবং শরীয়তের দৃষ্টিতে নাজায়েয।
০৩. আমার জন্য যদি এমন কোনো হকের ফায়সালা করা হয়, যা শরীয়তের দৃষ্টিতে আমার প্রাপ্য নয়, তাহলে তা প্রকৃত হকদারকে ফিরিয়ে দেয়া। যেমন আমি এমন কোনো হকের জন্য মামলা করলাম, যাতে আমার সঙ্গে আরেকজন শরীক আছে। আদালত পুরোটাই আমাকে দিয়ে দিল। এক্ষেত্রে শরীকের অংশ তাকে ফেরত দিতে হবে।
উপর্যুক্ত শর্ত সাপেক্ষে মানবরচিত আইনের কাছে যেমন বিচারপ্রার্থী হওয়া নাজায়েয নয়, তেমনি এমন ক্ষেত্রে বাদী বা বিবাদীর পক্ষে ওকালতি করাও নাজায়েয নয়। ওকালতি যখন জায়েয, তখন তার পারিশ্রমিকও হালাল। পক্ষান্তরে অন্যায় ও জুলুমের পক্ষে ওকালতি করা নাজায়েয। এজন্য যে কোনো মামলার দায়িত্ব নেয়ার পূর্বে সত্যাসত্য যাচাই করে মামলা গ্রহণ করা জরুরি। একই সঙ্গে কোনো মামলায় শরীয়তের বিধান কি, শরীয়তের দৃষ্টিতে কোনটা ন্যায় এবং কোনটা অন্যায়, তাও একজন উকীলের জন্য জানা জরুরি। অন্যথায় তার জন্য ন্যায়ের পক্ষে এবং অন্যায়ের বিপক্ষে অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। ন্যায় অন্যায় নির্ণয়ে রাষ্ট্রীয় তাগুতি আইন ও বিধানকে মানদণ্ড বানানো শরীয়তে গ্রহণযোগ্য নয়।–ফাতাওয়া বানুরী টাউন (অনলাইন), ফতোয়া নং: ১৪৪২০৩২০১৩৫৭; -ফাতাওয়ায়ে হক্কানিয়া: ৬/৩৬২।
বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন,
ফাতওয়া নং ৪২৬: ওকালতি পেশায় যুক্ত হওয়ার বিধান
ফাতওয়া নং ১৯৩: নিরপরাধ কোনো মুসলিমকে মুক্ত করার জন্য তাগুতের কোর্টে কেইস লড়ার হুকুম কী?
ফাতওয়া নং ২৩৫: বর্তমান তাগুতি আদালতে বিচার চাওয়া যাবে কি?
ফাতওয়া নং ৩৫৭: তাগুতের আদালতে বিচারপ্রার্থী হওয়ার বিধান
فقط، والله تعالى أعلم بالصواب
আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (উফিয়া আনহু)
২৫-০৩-১৪৪৮ হি.
০৮-০৯-২০২৬ ঈ.