জায়েজ-নাজায়েজফাতওয়া  নং  ৬৭১

ইসলাম বিদ্বেষী প্রতিষ্ঠানে চাকরির বিধান

পিডিএফ ডাউনলোড করুন
ওয়ার্ড ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন:

কাফেরের অধীনে চাকরি করার হুকুম কী? একইভাবে ইসলাম বিদ্বেষী বা ইসলামের ক্ষতিসাধনে জড়িত (হরবি কাফের) প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার হুকুম কী? বিশেষত বাংলাদেশে পরিচালিত ভারতীয় মালিকানাধীন বা ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের অঙ্গপ্রতিষ্ঠানে চাকরি করার হুকুম কী?

-আহমাদ

উত্তর:

بسم الله الرحمن الرحيم

একজন মুমিনের জন্য কোনো কাফেরের অধীনে কাজ করার ক্ষেত্রে দুটি শর্ত রয়েছে।

শর্ত দুটি নিম্নরূপ:

১. কাজটি সত্তাগতভাবে জায়েয হতে হবে। যেমন মুমিনের জন্য কাউকে মদ সরবরাহ করা নাজায়েয। সুতরাং কোনো কাফেরের অধীনেও মুমিনের জন্য এই কাজ করা জায়েয নয়।

২. কাজটি একজন ঈমানদারের ইজ্জত সম্মান পরিপন্থী না হতে হবে। যেমন কোনো কাফেরের খাদেম বা সেবক হয়ে কাজ করা মুমিনের জন্য নাজায়েয। কারণ এই কাজ একজন মুমিনের জন্য অসম্মানজনক।

শর্ত দুটি পাওয়া গেলে কাফেরের অধীনে কাজ করা জায়েয এবং পারিশ্রমিকও হালাল। তবে সর্বাবস্থায় একজন মুমিনের জন্য কাফের অপেক্ষা কোনো মুমিনের অধীনে কাজ করাই উত্তম ও নিরাপদ।

পক্ষান্তরে কাফের যদি এমন কোনো হারবি হয়, যারা ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে কাজ করে, মুসলিমদের রাষ্ট্রে আধিপত্য বিস্তার এবং মুসলিমদের নিয়ন্ত্রণ ও শোষণের অংশ হিসেবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে, যেমনটি বর্তমান বাংলাদেশে ভারত করছে, তাহলে এমন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা জায়েয নয়। কারণ এখানে প্রথম শর্তটি অনুপস্থিত। তাদের একাজটি সত্তাগতভাবেই জায়েয নয়।

বলা বাহুল্য, বাংলাদেশের কট্টর সেক্যুলার মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলোও ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে কাজ করে এবং আমাদের জানা মতে এসব প্রতিষ্ঠানে একজন মুসলিম তার ঈমান ও সম্মান নিয়ে কাজ করতে পারে না। সেখানে যখন তখন নামায, রোযা, দাড়ি, টুপিসহ ইসলামের বিভিন্ন শাআয়ের ও বিধি-বিধান নিয়ে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য ও ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠান নামে মুসলমানদের হলেও একই কারণে এগুলোতেও চাকরি করা জায়েয নয়।

আরও জানার জন্য দেখুন: ফাতওয়া নং ০৪: নাজায়েয কাজে সাহায্য করা এবং চুক্তির মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে চাকরি ছাড়ার বিধান

فقط، والله تعالى أعلم بالصواب

আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (উফিয়া আনহু)

২৫-০৩-১৪৪৮ হি.

০৮-০৯-২০২৬ ঈ.

Related Articles

Back to top button
অ+
অ-