পিডিএফ ডাউনলোড করুন
ওয়ার্ড ডাউনলোড করুন
প্রশ্ন:
কাফেরদের হত্যার বিধান কী? কেন শায়খ উসামা বিন লাদেন রহিমাহুল্লাহ সকল আমেরিকান হত্যাযোগ্য বলেছিলেন? দলীলসহ জানানোর অনুরোধ রইল।
-শাহাদাত হোসেন
উত্তর:
بسم الله الرحمن الرحيم
কোনো কাফেরকে হত্যা করা বৈধ হওয়া, না হওয়ার শরঈ মানদণ্ড হলো, উক্ত কাফের হারবী কি হারবী নয়। আধুনিক বিশ্বের পরিভাষায় সামরিক বা বেসামরিক হওয়ার সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
হারবী হলো প্রত্যেক এমন কাফের, যাদের সাথে মুসলমানদের নিম্নোক্ত তিন ধরনের কোনোপ্রকার চুক্তি নেই:
এক. যিম্মা চুক্তি: এই চুক্তির অধীনে কাফেররা জিযিয়া পরিশোধ করে মুসলিম শাসনের বশ্যতা স্বীকারসহ বিভিন্ন শর্তসাপেক্ষে মুসলিম শাসনাধীন এলাকায় বসবাসের সুযোগ পায়, যেখানে তারা ব্যক্তিজীবনে অপ্রকাশ্যে এবং ঘরোয়া পরিসরে নিজ নিজ ধর্ম পালনেরও স্বাধীনতা পায়। এমন কাফেরদেরকে ذمي (যিম্মি) কাফের বলা হয়। এটি শরীয়তের দৃষ্টিতে স্থায়ী চুক্তি হিসেবে গণ্য হয় এবং যতক্ষণ তারা চুক্তি ভঙ্গের কোনো কারণ না ঘটায়, ততক্ষণ তাদের নিরাপত্তা দেয়া মুসলিমদের দায়িত্ব।
দুই. যুদ্ধবিরতি চুক্তি: যে কাফেরদের সঙ্গে মুসলিমদের যুদ্ধ বিরতি চুক্তি রয়েছে, এমন কাফেরদেরকে معاهد (মুআহিদ) বলা হয়। যতক্ষণ তারা চুক্তি রক্ষা করে, ততক্ষণ এই যুদ্ধ বিরতি চুক্তি রক্ষা করা মুসলিমদের দায়িত্ব। তবে মুসলিম কর্তৃপক্ষ যদি কোনো কারণে মুসলিমদের জন্য চুক্তি ভঙ্গ করা কল্যাণকর মনে করে, তাহলে আগে চুক্তি ভঙ্গের ঘোষণা দিয়ে তাদের সঙ্গেও যুদ্ধ করা যায়।
তিন. আমান বা নিরাপত্তা চুক্তি: মুসলিম ও কাফেরের মাঝে বিশেষ কোনো প্রয়োজনে সাময়িক যে নিরাপত্তা চুক্তি হয়। যেমন কোনো কাফের ব্যবসার প্রয়োজনে কিংবা তার কোনো আত্মীয়ের খোঁজ নেয়ার জন্য মুসলিমদের সঙ্গে নিরাপত্তার চুক্তি করে ৩ মাসের জন্য দারুল ইসলামে প্রবেশ করল। এমন কাফেরকে مستأمن (মুসতামিন) বলা হয়। তাকেও চুক্তির মেয়াদে চুক্তির শর্ত অনুপাতে নিরাপত্তা দেয়া মুসলিমদের দায়িত্ব। -বাদায়েউস সানায়ে: ৯/৩৬১, ৩৬৯, ৩৭২ (দারুল হাদীস); আল-মাউসুআতুল ফিকহিয়্যাহ: ৩৫/১৪, ৭/১০৩ (ওযারাতুল আওকাফ); আহকামু আহলিয যিম্মাহ: ২/৮৮২ (রামাদী লিন-নাশর)।
একইভাবে হারবিদের যারা শারীরিকভাবে যুদ্ধ করতে অক্ষম, তাদেরকেও হত্যা করা নিষেধ। এমনিভাবে পাগল, নারী ও নাবালেগ শিশুদেরও হত্যা করা নিষেধ। তবে এই চার শ্রেণি যদি কোনোভাবে যুদ্ধে সহযোগিতা করে, তাহলে তাদেরকেও হত্যা করা বৈধ। -শরহুস সিয়ারিল কাবীর: ৪/১৮৬ (ইলমিয়্যাহ); বাদায়েউস সানায়ে: ৯/৩৪৯ (দারুল হাদীস); রদ্দুল মুহতার: ৪/১৩২ (দারুল ফিকর)।
এছাড়া হারবীদের সকল পুরুষকে হত্যা করা বৈধ, তারা যুদ্ধে যুক্ত হোক বা না হোক, সামরিক ব্যক্তি হোক বা সাধারণ নাগরিক হোক। -শরহে মুখতাসারিত তাহাবী: ৭/৫০ (দারুল বাশাইরিল ইসলামিয়া); শরহুস সিয়ারিল কাবীর: ৫/৮০ (ইলমিয়্যাহ); বাদায়েউস সানায়ে: ৯/৩৪৯ (দারুল হাদীস)।
অবশ্য যুদ্ধকৌশল হিসেবে সার্বিক পরিস্থিতির আলোকে বেসামরিক লোকদের হত্যা করা থেকে বিরত থাকা কাম্য কি না? অথবা কাকে হত্যা করা ভালো হবে আর কাকে হত্যা না করা ভালো হবে, সেটা সমর বিশেষজ্ঞ মুজাহিদ উমারা ও উলামাগণ নির্ধারণ করবেন। এক্ষেত্রে অন্যদের দায়িত্ব তাঁদের অনুসরণ করা। বৈধ হলেই হত্যা করতে হবে এমনটা জরুরি নয়। জরুরি হচ্ছে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ নিশ্চিত করা। -শরহুস সিয়ারিল কাবীর: ৫/৮১ (ইলমিয়্যাহ)।
বলা বাহুল্য আমেরিকা দীর্ঘকাল থেকে সমগ্র বিশ্বে মুসলিমদের গণহত্যা, শিশু ও নারী হত্যা, ভূমি ও দেশ দখল এবং সম্পদ লুণ্ঠনের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্র ও সামরিক বাহিনী শ্রেণি পেশা নির্বিশেষ সকল নাগরিকের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সমর্থন ও অংশ গ্রহণে এসব অন্যায় কর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। অন্তত ট্যাক্স দিয়ে হলেও প্রত্যেক নাগরিক এতে অংশ নিচ্ছে। একারণেই শায়খ উসামা রহিমাহুল্লাহ প্রত্যেক আমেরিকানকে হত্যা করার কথা বলেছিলেন। এটি শায়খের একক কোনো বক্তব্য ছিল না; বরং ৬ জন আলেমের সম্মিলিত ফতোয়া ছিল। আমরা নিম্নে তাঁদের পূর্ণ ফতোয়াটি বাংলা অনুবাদসহ তুলে ধরছি।
الحمد لله منزل الكتاب، ومجري السحاب، وهازم الأحزاب، والقائل في محكم كتابه: ﴿فَإِذَا انْسَلَخَ الأَشْهُرُ الْحُرُمُ فَاقْتُلُوا الْمُشْرِكِينَ حَيْثُ وَجَدْتُمُوهُمْ وَخُذُوهُمْ وَاحْصُرُوهُمْ وَاقْعُدُوا لَهُمْ كُلَّ مَرْصَدٍ﴾. والصلاة والسلام على نبينا محمد بن عبد الله القائل: بُعِثْتُ بِالسَّيْفِ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ حَتَّى يُعْبَدَ اللهُ وَحْدَهُ، وَجُعِلَ رِزْقِي تَحْتَ رُمْحِي، وَجُعِلَ الذُّلُّ وَالصَّغَارُ عَلَى مَنْ خَالَفَ أَمْرِي.
أما بعد: فمنذ أن دحى الله جزيرة العرب، وخلق فيها صحراءها وحفها ببحارها، لم تدهمها غاشية كهذه الجحافل الصليبية التي انتشرت فيها كالجَراد، تزحم أرضها وتاكل ثروتها وتبيد خضراءها. كل ذلك في وقت تداعت فيه على المسلمين الأمم كما تداعى الأكلة إلى قصعتها. ولم تشهد حدثاً يماثل هذه الحرب العالمية الشاملة بين الإسلام وبين التحالف الصليبي. ويلزمنا حين عظم الخطب وقل الناصر أن نقف وإياكم على مكنون الأحداث الجارية، كما يجب أن نتفق جميعاً على فصل القضاء فيها.
أمتنا المسلمة:
لا أحد يجادل اليوم في حقائق ثلاث تواترت عليها الشواهد، وأطبق عليها المنصفون. ونحن نذكرها ليتذكر من تذكر، وليهلك من هلك عن بينة، ويحيا من حي عن بينة. وهي:
أولاً: منذ ما يربو على سبع سنين وأمريكا تحتل أراضي الإسلام في أقدس بقاعها؛ جزيرة العرب، فتنهب خيراتها، وتملي على حكامها، وتذل أهلها، وترعب جيرانها، وتجعل من قواعدها في الجزيرة رأس حربة تقاتل بها شعوب الإسلام المجاورة. وإذا كان في الماضي من جادل في حقيقة هذا الاحتلال، فقد أطبق على الاعتراف به أهل الجزيرة جميعاً. ولا أدل عليه من تمادي الأمريكيين في العدوان ضد شعب العراق انطلاقاً من الجزيرة، رغم أن حكامها جميعاً يرفضون استخدام أراضيهم لذلك، ولكنهم مغلوبون.
ثانياً: رغم الدمار الكبير الذي حل بالشعب العراقي على يد التحالف الصليبي، ورغم العدد الفظيع من القتلى الذي جاوز المليون، رغم كل ذلك يحاول الأمريكان مرة أخرى معاودة هذه المجازر المروعة، وكأنهم لم يكتفوا بالحصار الطويل بعد الحرب العنيفة، ولا بالتمزيق والتدمير. فها هم يأتون اليوم ليبيدوا بقية هذا الشعب، وليذلوا جيرانه من المسلمين.
ثالثاً: وإذا كانت أهداف الأمريكيين من هذه الحروب دينية واقتصادية، فإنها كذلك تأتي لخدمة دويلة اليهود، ولصرف النظر عن احتلالها لبيت المقدس وقتلها للمسلمين فيه. ولا أدل على ذلك من حرصهم على تدمير العراق؛ أقوى الدول العربية المجاورة، وسعيهم لتمزيق دول المنطقة جميعاً كالعراق والسعودية ومصر والسودان إلى دويلات ورقية، تضمن بفرقتها وضعفها بقاء إسرائيل، واستمرار الاحتلال الصليبي الغاشم لأرض الجزيرة.
أمتنا المسلمة:
إن كل تلك الجرائم والبوائق هي من الأمريكين إعلان صريح للحرب على الله ورسوله وعلى المسلمين. وقد أجمع العلماء سلفاً وخلفاً عبر جميع العصور الإسلامية، على أن الجهاد فرض عين إذا دهم العدو بلاد المسلمين. وممن نقل ذلك الإمام ابن قدامة في “المغني”، والإمام الكاساني في “البدائع”، والإمام القرطبي في “تفسيره”، وشيخ الإسلام في “اختياراته”، حيث قال: “أما قتال الدفع فهو أشد أنواع دفع الصائل عن الحرمة والدين، وهو واجب إجماعاً. فالعدو الصائل الذي يفسد الدين والدنيا لا شيء أوجب بعد الإيمان من دفعه”.
ونحن بناء على ذلك، وامتثالاً لأمر الله نفتي جميع المسلمين بالحكم التالي:
إن حكم قتل الأمريكيين وحلفائهم مدنيين وعسكريين، وقتالهم فرض عين على كل مسلم أمكنه ذلك في كل بلد تيسر فيه، وذلك حتى يتحرر المسجد الأقصى والمسجد الحرام من قبضتهم، وحتى تخرج جيوشهم عن كل أرض الإسلام مفلولة الحد، كسيرة الجناح، عاجزة عن تهديد أي مسلم، امتثالاً لقوله تعالى: ﴿وَقَاتِلُوا الْمُشْرِكِينَ كَافَّةً كَمَا يُقَاتِلُونَكُمْ كَافَّةً﴾. وقوله تعالى: ﴿وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّىٰ لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ كُلُّهُ لِلَّهِ﴾. وقوله تعالى: ﴿وَمَا لَكُمْ لَا تُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَالْمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ وَالْوِلْدَانِ الَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا أَخْرِجْنَا مِنْ هَٰذِهِ الْقَرْيَةِ الظَّالِمِ أَهْلُهَا وَاجْعَلْ لَنَا مِنْ لَدُنْكَ وَلِيًّا وَاجْعَلْ لَنَا مِنْ لَدُنْكَ نَصِيرًا﴾.
أمتنا المسلمة:
إننا باسم الله ندعو كل مسلم يؤمن بالله، ويرغب في ثوابه إلى امتثال أمر الله بقتل الأمريكان ونهب أموالهم في أي مكان وجدهم فيه، وفي كل وقت أمكنه ذلك. كما ندعو علماء المسلمين العاملين، وقادتهم المخلصين، وشبابهم وجنودهم المؤمنين، إلى شن الغارة على جنود إبليس الأمريكين ومن تحالف معهم من أعوان الشيطان، وأن يشردوا بهم من خلفهم لعلهم يذكرون.
﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اسْتَجِيبُوا لِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ إِذَا دَعَاكُمْ لِمَا يُحْيِيكُمْ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ يَحُولُ بَيْنَ الْمَرْءِ وَقَلْبِهِ وَأَنَّهُ إِلَيْهِ تُحْشَرُونَ﴾. ﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا مَا لَكُمْ إِذَا قِيلَ لَكُمُ انْفِرُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ اثَّاقَلْتُمْ إِلَى الْأَرْضِ أَرَضِيتُمْ بِالْحَيَاةِ الدُّنْيَا مِنَ الْآخِرَةِ فَمَا مَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا فِي الْآخِرَةِ إِلَّا قَلِيلٌ إِلَّا تَنْفِرُوا يُعَذِّبْكُمْ عَذَابًا أَلِيمًا وَيَسْتَبْدِلْ قَوْمًا غَيْرَكُمْ وَلَا تَضُرُّوهُ شَيْئًا وَاللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ﴾. ﴿وَلَا تَهِنُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَنْتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ﴾.
وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
الموقعون:
١- الشيخ أسامة بن محمد بن لادن.
٢- الدكتور أيمن الظواهري (أمير جماعة الجهاد بمصر).
٣- الشيخ أبو ياسر رفاعي طه، ممثلاً عن (الجماعة الإسلامية بمصر).
٤- مولانا مير حمزة، سكرتير جمعية علماء الإسلام.
٥- الشيخ فضل الرحمن خليل، أمير حركة الأنصار بباكستان.
٦- الشيخ عبد السلام محمد، أمير حركة الجهاد ببنجلاديش.
انتهى من “شذرات من تاريخ القاعدة” (ص: 206 – 209)، ط. 1443هـــ/ 2021م
“সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি কিতাব অবতীর্ণকারী, মেঘমালা প্রবাহকারী, (কাফের) বাহিনীকে পরাস্তকারী এবং যিনি তাঁর সুস্পষ্ট কিতাবে বলেছেন, ‘যখন পবিত্র মাসগুলো অতিবাহিত হবে, তখন মুশরিকদেরকে যেখানেই পাও হত্যা করো, বন্দী করো, অবরোধ করো এবং প্রত্যেক জায়গায় তাদের জন্য ওঁৎ পেতে বসে থাকো।” এবং আমাদের নবী মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি সালাত ও সালাম, যিনি বলেছেন, ‘কিয়ামতের পূর্বে আমাকে তরবারি সহকারে প্রেরণ করা হয়েছে, যাতে একমাত্র আল্লাহরই ইবাদত করা হয় এবং আমার জীবিকা আমার বর্শার নিচে রাখা হয়েছে। আর যে আমার আদেশ অমান্য করবে, তার জন্য অপমান ও লাঞ্ছনা নির্ধারিত করা হয়েছে।’
হামদ ও সালাতের পর: আল্লাহ যখন থেকে আরব উপদ্বীপকে বিস্তৃত করেছেন, এর বুকে মরুভূমি সৃষ্টি করেছেন এবং একে সমুদ্র দ্বারা পরিবেষ্টিত করেছেন, তখন থেকে উক্ত ভূমি কখনোই এভাবে বিপর্যস্ত হয়নি যেভাবে এই ক্রুসেডার বাহিনী দ্বারা হয়েছে। যারা পঙ্গপালের মতো এর মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। উক্ত ভূমির আনাচে-কানাচে ঝেঁকে বসেছে, এর সম্পদ গ্রাস করছে এবং এর সবুজ প্রকৃতি ধ্বংস করছে। এসবই ঘটেছে এমন এক সময়, যখন কাফের সম্প্রদায়গুলো মুসলিমদের উপর আক্রমণ করার জন্য একে-অপরকে ডাকাডাকি করছে, যেমনটি খাবারের পাত্রে বসার জন্য ডাকাডাকি করা হয়। ইসলাম ও ক্রুসেড জোটের মধ্যে সংঘটিত এই বৈশ্বিক যুদ্ধের মতো ভয়ঙ্কর কোনো ঘটনা উক্ত ভূমি এর আগে দেখেনি। পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ, সাহায্যকারী নিতান্তই নগণ্য। এই পরিস্থিতিতে আমাদের জন্য আবশ্যক হচ্ছে, চলমান ঘটনাপ্রবাহের অন্তর্নিহিত বিষয়গুলো অনুধাবন করা এবং সকলে এর সমাধানে একমত হওয়া।
হে মুসলিম উম্মাহ!
আজ এই তিনটি ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে কারো বিতর্ক নেই, যে ঘটনাগুলোর সাক্ষ্য অগণিত এবং নিরপেক্ষ ব্যক্তিরা এতে একমত। আমরা ঘটনাগুলো উল্লেখ করছি, যাতে যে উপদেশ গ্রহণ করার সে উপদেশ গ্রহণ করে; যে ধ্বংস হওয়ার সে সুস্পষ্ট প্রমাণ দেখেই ধ্বংস হয় আর যে বেঁচে থাকার সে সুস্পষ্ট প্রমাণ দেখেই বেঁচে থাকে। ঘটনাগুলো হলো:
প্রথমত, সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে আমেরিকা ইসলামের পবিত্রতম ভূমি আরব উপদ্বীপ দখল করে এর সম্পদ লুণ্ঠন করছে, শাসকদেরকে কানপড়া দিচ্ছে, জনগণকে অপমানিত করছে, প্রতিবেশী দেশগুলাকে আতঙ্কিত করছে এবং আরব উপদ্বীপে তার ঘাঁটিগুলোকে প্রতিবেশী মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যুদ্ধের অগ্রভাগে রূপান্তরিত করেছে। অতীতে কেউ এই দখলদারিত্বের বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও, বর্তমানে আরব উপদ্বীপের সকল জনগণ সর্বসম্মতভাবে তা স্বীকার করে নিয়েছে। আরব উপদ্বীপ থেকে ইরাকি জনগণের বিরুদ্ধে আমেরিকানদের অব্যাহত আগ্রাসন উক্ত বিষয়ের সবচেয়ে স্পষ্ট প্রমাণ। যদিও আরব উপদ্বীপের সকল শাসক তাদের ভূমি এই উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে অস্বীকার করছে, কিন্তু তারা এখানে পরাজিত।
দ্বিতীয়ত, ক্রুসেডার জোট কর্তৃক ইরাকি জনগণের উপর ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো এবং (এর প্রেক্ষিতে) ভয়াবহ মৃত্যুর সংখ্যা, যা মিলিয়ন ছাড়িয়েছে—এসব কিছু সত্ত্বেও আমেরিকানরা আবার এই ভয়াবহ গণহত্যার পুনরাবৃত্তি করার চেষ্টা করছে। যেন এ নৃশংস যুদ্ধের পরবর্তী দীর্ঘ অবরোধ এবং এর ফলে সৃষ্ট ধ্বংসযজ্ঞ তাদের জন্য যথেষ্ট হয়নি। এখন তারা অবশিষ্ট ইরাকি জনগণকে নিশ্চিহ্ন করতে এবং প্রতিবেশী মুসলিমদের লাঞ্ছিত করতে পুনরায় আসছে।
তৃতীয়ত, এই যুদ্ধগুলিতে আমেরিকানদের উদ্দেশ্য ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক হলেও, তা ইহুদী রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা এবং বাইতুল মুকাদ্দাস দখল ও সেখানে মুসলিমদের হত্যাযজ্ঞ থেকে বিশ্ববাসীর মনোযোগ সরানোর কাজ দিচ্ছে। প্রতিবেশী আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্র ইরাককে ধ্বংস করার জন্য তাদের তীব্র লালসা এবং ইরাক, সৌদি আরব, মিসর ও সুদানের মতো এই অঞ্চলের সব দেশকে কিছু দুর্বল ও কাগুজে রাষ্ট্রে বিভক্ত করার প্রচেষ্টা—উক্ত বিষয়ের বড় প্রমাণ। আরব রাষ্ট্রগুলোর এই বিভাজন ও দুর্বলতা ইসরাঈলের টিকে থাকা এবং আরব উপদ্বীপে ক্রুসেডারদের নৃশংস দখলদারিত্বের ধারাবাহিকতাকে নিশ্চিত করে।
হে মুসলিম উম্মাহ!
আমেরিকানদের দ্বারা সংঘটিত এই সমস্ত অপরাধ ও নৃশংসতা হলো আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে একটি সুস্পষ্ট যুদ্ধ ঘোষণা। ইসলামের সকল যুগের সালাফ-খালাফ উলামায়ে কেরাম এ ব্যাপারে একমত যে, যখন শত্রু মুসলিম ভূমিতে আক্রমণ করে, তখন জিহাদ ফরযে আইন হয়ে যায়। এ ব্যাপারে ইমাম ইবনে কুদামাহ রহিমাহুল্লাহ আল-মুগনীতে, ইমাম কাসানী রহিমাহুল্লাহ বাদায়েয়ে, ইমাম কুরতুবী রহিমাহুল্লাহ তাঁর তাফসীর গ্রন্থে এবং ইবনে তাইমিয়া রহিমাহুল্লাহ তাঁর ইখতিয়ারাতে ইজমা নকল করেছেন। ইবনে তাইমিয়া রহিমাহুল্লাহ বলেন, ‘প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ হচ্ছে, মুসলমানদের দ্বীন ও সম্মানের ওপর আক্রমণকারীকে প্রতিরোধ করার সবচেয়ে গুরুতপূর্ণ স্তর, যা সর্বসম্মতিক্রমে ফরয। যে আগ্রাসী শক্তি মুসলমানদের দ্বীন-দুনিয়া ধ্বংস করে, ঈমানের পর তাকে প্রতিরোধের চেয়ে গুরুতর ফরয দ্বিতীয় আরেকটি নেই।’
অতএব, আল্লাহর আদেশের আনুগত্যে আমরা সকল মুসলমানকে নিম্নোক্ত বিধান সম্বলিত ফতোয়া দিচ্ছি:
সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলিমের উপর সম্ভবপর প্রতিটি দেশে আমেরিকান এবং তাদের মিত্রদেরকে হত্যা করা; হোক তারা সামরিক বা বেসামরিক এবং তাদের সাথে যুদ্ধ করা ফরযে আইন; যতক্ষণ না মসজিদে আকসা ও মসজিদে হারাম তাদের দখল থেকে মুক্ত হয় এবং তাদের সেনাবাহিনী সকল মুসলিম দেশ থেকে ভোঁতা হয়ে, ডানা ভেঙ্গে এবং কোনো মুসলিমকে হুমকি দিতে অক্ষম হয়ে বিতাড়িত হয়। আর তা আল্লাহর এই বাণীর অনুকরণে—‘মুশরিকদের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে যুদ্ধ করো, যেমন তারা তোমাদের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে যুদ্ধ করে।’ এবং তাঁর এ বাণী: ‘তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে থাকো; যতক্ষণ না ফিতনা দূরীভূত হয় এবং সর্বত্রই একমাত্র আল্লাহর দ্বীন বিজয়ী হয়।’ এবং তাঁর এ বাণী: ‘তোমাদের কী হলো যে, তোমরা আল্লাহর পথে এবং সে সকল অসহায় পুরুষ, নারী ও শিশুদের (উদ্ধার করার) পথে যুদ্ধ করছ না; যারা বলছে, হে আমাদের রব! আমাদেরকে এ জালিম অধিবাসীর জনপদ থেকে বের করে নিন। আর আপনার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য একজন অভিভাবক বানিয়ে দিন এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য সাহায্যকারী নির্ধারণ করে দিন।’
হে মুসলিম উম্মাহ!
আমরা আল্লাহর নামে প্রত্যেক মুসলিমকে আহ্বান করছি, যে আল্লাহর উপর ঈমান এনেছে এবং তাঁর সাওয়াবের আশা করে, সে যেন আমেরিকানদের যেখানেই পাবে, যখনই সম্ভব হবে, হত্যা করে এবং তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার ব্যাপারে আল্লাহর আদেশ পালন করে। তদ্রূপ আমরা উলামায়ে ইসলাম, মুসলিমদের মুখলিস নেতৃবৃন্ধ এবং মুসলিম যুবক ও সেনাবাহিনীগুলোকে আহ্বান করছি, তারা যেন শয়তানের বাহিনী আমেরিকান ও তাদের মিত্রদের উপর আক্রমণ চালায় এবং (তাদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার মাধ্যমে) তাদের পেছনে অবস্থানকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়, যাতে তারা শিক্ষা গ্রহণ করে।
‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের ডাকে সাড়া দাও, যখন রাসূল তোমাদেরকে এমন বিষয়ের দিকে আহ্বান করেন, যা তোমাদেরকে জীবন দান করে। জেনে রেখ, আল্লাহ মানুষ ও তার অন্তরের মধ্যে প্রতিবন্ধক হয়ে যান। আর তাঁরই কাছে তোমরা সমবেত হবে।’
‘হে মুমিনগণ! তোমাদের কী হলো, যখন তোমাদেরকে আল্লাহর পথে অভিযানে বের হতে বলা হয়, তোমরা পৃথিবীকে আঁকড়ে ধরে (পেছনে পড়ে) থাকো? তোমরা কি আখিরাতের পরিবর্তে দুনিয়ার জীবন নিয়েই সন্তুষ্ট হয়ে গেছ? কিন্তু আখিরাতের বিপরীতে দুনিয়ার জীবনের ভোগ-বিলাস অতি সামান্য। যদি তোমরা অভিযানে বের না হও, তবে আল্লাহ তোমাদেরকে যন্ত্রণাময় শাস্তি দিবেন এবং তোমাদের পরিবর্তে অন্য এক জাতি নিয়ে আসবেন। আর তোমরা তাঁর কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। আল্লাহ সবকিছুর উপর ক্ষমতাশীল।’
‘(হে মুসলিমগণ!) তোমরা হীনবল হয়ো না এবং চিন্তিত হয়ো না। তোমরা যদি প্রকৃত মুমিন হতে পারো, তাহলে তোমরাই বিজয়ী হবে।’
আমাদের শেষ প্রার্থনা এই যে, সমস্ত প্রশংসা রব্বুল আলামীন মহান আল্লাহ তাআলার।
স্বাক্ষরকারীগণ:
১. শায়খ উসামা বিন মুহাম্মদ বিন লাদেন।
২. ড. আইমান আয-যাওয়াহিরী; জামাআতুল জিহাদ মিসরের আমীর।
৩. শায়খ আবু ইয়াসির রিফায়ী তাহা; জামাআতে ইসলামী মিসরের প্রতিনিধি।
৪. মাওলানা মীর হামজা; জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সেক্রেটারি।
৫. শায়খ ফযলুর রহমান খলিল; হারাকাতুল আনসার পাকিস্তানের আমীর।
৬. শায়খ আব্দুল সালাম মুহাম্মদ; হারাকাতুল জিহাদ বাংলাদেশের আমীর।”
–শাযারাত মিন তারিখিল কায়েদাহ: পৃ: ২০৬–২০৯ (১৪৪৩ হি.)
আরো বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন:
ফাতওয়া নং ১৩৮: কাফের নারী ও শিশুদের হত্যা করা কি সর্বাবস্থায়ই নিষিদ্ধ?
ফাতওয়া নং ৪৫৬: যুদ্ধরত কাফের রাষ্ট্রের বেসামরিক নাগরিকদের হত্যার বিধান
فقط، والله تعالى أعلم بالصواب
আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (উফিয়া আনহু)
০২-০৪-১৪৪৮ হি.
১৪-০৯-২০২৬ ঈ.