নন-মাহরামের কমেন্টে রিয়েক্ট বা রিপ্লাইয়ের হুকুম
পিডিএফ ডাউনলোড করুন
ওয়ার্ড ডাউনলোড করুন
প্রশ্ন:
বর্তমানে অনেক মুজাহিদ ও দ্বীনের দাঈ ফেসবুক ব্যবহার করেন। তাঁদের কেউ কেউ নন-মাহরাম নারীদের নিজেদের আইডিতে বন্ধুরূপে যুক্ত করেন, তাঁদের পোস্টে বা কমেন্টে লাভ রিয়েক্ট দেন এবং কখনো কখনো তাদের অপ্রয়োজনীয় কমেন্টেরও রিপ্লাই করেন। শরীয়তের দৃষ্টিতে তাঁদের জন্য এসব কাজ কতটুকু জায়েয? যদি জায়েয না হয়, তাহলে তাঁদের অভিভাবক ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা এ বিষয়ে কঠোরভাবে নির্দেশনা দেন না কেন?
দাঈরা তো উম্মাহর রাহবার, দ্বীনের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের জন্য আদর্শ। তাঁরা যদি প্রকাশ্যে এমন আচরণ করেন, তাহলে সাধারণ মানুষ তাঁদের থেকে কী শিক্ষা নেবে? তাঁদের এমন আচরণ কি সমাজের জন্য ভুল বার্তা দেয় না?
-আব্দুল আহাদ
উত্তর:
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
আপনি যে বিষয়গুলোর কথা বললেন, এগুলো একজন সাধারণ মুসলিমের জন্যই গুনাহের কাজ। যা কখনো কখনো অনেক বড় ভয়ঙ্কর গুনাহ ও বিপদের পথে টেনে নেয়। বাস্তবেই যদি কোনো মুজাহিদ কিংবা দ্বীনের দাঈ এসব কাজে জড়িয়ে থাকেন, তাহলে তা আরো বড় আপত্তির বিষয়। কোনো মুজাহিদ ও দাঈর আমলের অবস্থা যদি এতই করুণ হয়, জিহাদ ও দাওয়াতের পথে তার সফলতার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়। তার উচিত নিজের সংশোধনের প্রতি পূর্ণ দৃষ্টি দেয়া। আল্লাহ না করুন এমন আশঙ্কাও উড়িয়ে দেয়া যায় না যে, এই গুনাহের কারণেই হয়তো আল্লাহ কাউকে সত্যের এই পথ থেকে সরিয়ে দেবেন। সুতরাং দ্বীনে হক ও জিহাদের পথে অবিচল থাকার জন্য অবিলম্বে এসব কর্মকাণ্ড থেকে তওবা করে ফিরে আসা জরুরি।
আমাদের এই লেখা যাদের নজরে পড়বে, তিনি যদি একজন সাধারণ মুসলিমও হন, তার কাছেও প্রত্যাশা থাকবে, তিনি যেন উম্মাহর কল্যাণে নিজের পরিচিত ভাইদের এবিষয়ে সতর্ক করেন। আর তিনি যদি কোনো দ্বীনি জামাত বা মাজমুআর আমীর হন, তাহলে অধীনস্থদের সতর্ক করা তো তার ফরয দায়িত্বেরই অন্তর্ভুক্ত। আশা করি আমরা সকলেই যার যার জায়গা থেকে যামানার এরকম আরো অসংখ্য নীরব ফিতনা ও ঈমান বিধ্বংসী ব্যাধীগুলো সম্পর্কে সচেতনতার পরিচয় দিব ইনশাআল্লাহ।
فقط، والله تعالى أعلم بالصواب
আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (উফিয়া আনহু)
২৫-০৩-১৪৪৮ হি.
০৮-০৯-২০২৬ ঈ.