পিডিএফ ডাউনলোড করুন
ওয়ার্ড ডাউনলোড করুন
প্রশ্ন:
আমি বর্তমানে নরওয়েতে বসবাস করছি। পড়াশোনার উদ্দেশ্যে এখানে এসেছিলাম। বর্তমানে আমার স্ত্রীও এখানে পড়াশোনা করছেন। আমাদের পরিকল্পনা ছিল, নরওয়ের Permanent Residency পাওয়ার পর কোনো মুসলিম দেশে চলে যাব।
বর্তমানে আমি একটি রেস্টুরেন্টে চাকরি করি, যেখানে মাঝে মাঝে আমাকে শুকরের মাংস রান্না করতে হয়। এছাড়া এখানে আযান শোনা যায় না এবং কাজের ব্যস্ততার কারণে অনেক সময় আমার ফরয নামাযও ছুটে যায়। কখনো কষ্ট করে এশার নামায আদায় করতে পারি।
এ অবস্থায় আমার মনে হচ্ছে, এই চাকরি ছেড়ে দিয়ে এমন কোনো চাকরি খোঁজা উচিত, যেখানে হারাম কাজে জড়িত থাকতে হবে না এবং নামাযও নিয়মিত আদায় করা সম্ভব হবে। কিন্তু নরওয়েতে অধিকাংশ ভালো চাকরির জন্য স্থানীয় ভাষা জানা প্রয়োজন, যা শিখতে অন্তত ৬ মাস থেকে ১ বছর সময় লাগতে পারে। অন্যদিকে, আমার পরিবারের জন্য প্রতি মাসে প্রায় দেড় লাখ টাকার মতো খরচ হয়।
তাই জানতে চাই, আমার করণীয় কী? আমি কি বর্তমান চাকরি চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিকল্প হালাল চাকরি খুঁজতে থাকব, নাকি অবিলম্বে চাকরিটি ছেড়ে দেওয়া উচিত?
এছাড়া, দ্বীন পালন কঠিন হয়ে যাওয়ার কারণে আমার মনে হচ্ছে, নরওয়ে ছেড়ে কোনো মুসলিম দেশে চলে যাওয়া উচিত কি না। এ ক্ষেত্রে কি Permanent Residency পাওয়ার আগেই বাংলাদেশে বা অন্য কোনো মুসলিম দেশে চলে আসা উত্তম হবে, নাকি Permanent Residency অর্জন করে পরে চলে আসা অধিক যুক্তিসঙ্গত হবে?
সার্বিকভাবে, আমার বর্তমান পরিস্থিতিতে শরীয়তের দৃষ্টিতে সবচেয়ে উত্তম ও দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত কী হতে পারে?
-মুহাম্মাদ কামরুল হাসান
উত্তর:
আপনার উচিত যত দ্রুত সম্ভব এই চাকরি ছেড়ে দেওয়া এবং কাফেরদের দেশ ছেড়ে মুসলিমদের কোনো দেশে বসবাস করা। একজন মুসলিমের জন্য শুকরের গোশত রান্না করার চাকরি জায়েয নয়। একইভাবে শরীয়ত অনুমোদিত কোনো প্রয়োজন ছাড়া কাফেরদের রাষ্ট্রের রেসিডেন্সি গ্রহণ করা বা সেখানে বসবাস করাও জায়েয নয়। হাদীসে এসেছে,
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
«أَنَا بَرِيءٌ مِنْ كُلِّ مُسْلِمٍ يُقِيمُ بَيْنَ أَظْهُرِ المُشْرِكِينَ». قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَلِمَ؟ قَالَ: «لَا تَرَاءَى نَارَاهُمَا». -سنن الترمذي ت شاكر: 1604؛ وكذا في المعجم الكبير للطبراني: 3836، وقال الهيثمي: مجمع الزوائد (5/ 253): رواه الطبراني ورجاله ثقات.
“যে সমস্ত মুসলিম মুশরিকদের মাঝে বসবাস করে আমি তাদের ব্যপারে দায়মুক্ত। সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ্! কেন? তিনি বললেন, (মুশরিক আর মুসলমানদের একস্থানে বসবাস করতে নেই) তারা একে অপর হতে এরূপ দূরত্বে বাস করবে যাতে পরস্পরের আগুন দৃষ্টিগোচর না হয়।” –তিরমিযী: ১৬০৪
অন্যত্র ইরশাদ করেন:
«لَا تُسَاكِنُوا الْمُشْرِكِينَ، وَلَا تُجَامِعُوهُمْ، فَمَنْ سَاكَنَهُمْ أَوْ جَامَعَهُمْ فَلَيْسَ مِنَّا». -المستدرك على الصحيحين للحاكم: 2627، قال الحاكم: هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ عَلَى شَرْطِ الْبُخَارِيِّ، وَلَمْ يُخَرِّجَاهُ، ووافقه الذهبي.
“তোমরা মুশরিকদের সাথে বসবাস করবে না এবং তাদের সাথে সমবেতও হবে না। যে ব্যক্তি তাদের সাথে বসবাস করবে বা তাদের সাথে সমবেত হবে সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।” –মুসতাদরাকে হাকেম: ২৬২৭
-ফাতাওয়াল লাজনাতিদ দাইমাহ: ১২/১৩৭-১৩৮; ফাতাওয়া বায়্যিনাত: ৩/৩৭৭-৩৭৮; ফিকহী মাকালাত (তাকী উসমানী): ১/২৩৩-২৩৭
আরও দেখুন: ফাতওয়া নং ৫৭৬: উচ্চশিক্ষার জন্য কাফের রাষ্ট্রে গমন
আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (উফিয়া আনহু)
২৮-১২-১৪৪৭ হি.
১৫-০৬-১৪৪৭ হি.