পিডিএফ ডাউনলোড করুন
ওয়ার্ড ডাউনলোড করুন
প্রশ্ন:
ফরযে আইন জিহাদে যাওয়ার ক্ষেত্রে মা-বাবা নিষেধ করলে তাঁদের নিষেধাজ্ঞা মান্য করার হুকুম কী?
-মুহাম্মাদ আশরাফ
উত্তর:
ফরযে আইন জিহাদে মা-বাবা কিংবা অন্য কারো জন্য নিষেধ করা জায়েয নয়। যদি কেউ নিষেধ করেন, তার নিষেধাজ্ঞা মান্য করা জায়েয নয়। বরং এমন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে জিহাদ করা ফরয। হাদীসে এসেছে,
عن علي، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا طاعة لبشر في معصية الله». –صحيح البخاري (7257) ، صحيح مسلم (1840) مصنف ابن أبي شيبة (34998) واللفظ له.
“আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তাআলার অবাধ্য হয়ে কোনো মানুষের আনুগত্য করা যাবে না।” –সহীহ বুখারী: ৭২৫৭; সহীহ মুসলিম: ১৮৪০; মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা: ৩৪৯৯৮
উমারাহ রহিমাহুল্লাহ বলেন,
نزل معضد إلى جنب شجرة، فقال: ما أبالي أطعت رجلا في معصية الله، أو سجدت لهذه الشجرة من دون الله. -مصنف ابن أبي شيبة: 34403
“(বিশিষ্ট তাবেয়ী) মিদাদ (রহিমাহুল্লাহ) একটি গাছের পাশে অবতরণ করেন। অতঃপর তিনি বলেন, আল্লাহর অবাধ্য হয়ে কোনো মানুষের আনুগত্য করা, আর আল্লাহর পরিবর্তে এই গাছকে সিজদা করা আমার নিকট বরাবর।” -মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা: ৩৪৪০৩
ইমাম মুহাম্মাদ রহিমাহুল্লাহ বলেন,
وإن نهى الإمام الناس عن الغزو والخروج للقتال فليس ينبغي لهم أن يعصوه إلا أن يكون النفير عاما. اهـ
“ইমাম যদি লোকজনকে যুদ্ধ করতে এবং কিতালে বের হতে নিষেধ করেন, তাহলে তাদের জন্য তার আদেশ অমান্য করা জায়েয নয়। তবে যদি (শত্রু আক্রমণের কারণে) নাফিরে আম হয়ে যায় তাহলে ভিন্ন কথা।” -শরহুস সিয়ারিল কাবীর: ২/৩৭৮
তবে মা-বাবার খেদমতের বিষয়ে প্রত্যেক সন্তানের সচেতন থাকা জরুরি। সেটাও সন্তানের ফরয দায়িত্ব। যদি কখনো দুটি সাংঘর্ষিক মনে হয়, তাহলে সমন্বয় করতে হবে।
এবিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন:
ফাতওয়া নং ৮৫: বর্তমান পরিস্থিতিতে পিতা-মাতার খেদমত করব, না জিহাদ করব?
ফাতওয়া নং ৪৩৬: পিতা-মাতা জিহাদি সংগঠনে অংশগ্রহণে বাধা দিলে করণীয়
ফাতওয়া নং ৩৫৮: কিতালের জন্য কি পিতা-মাতার অনুমতি জরুরি?
আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (উফিয়া আনহু)
২৫-১২-১৪৪৭ হি.
১২-০৬-১৪৪৭ হি.