পিডিএফ ডাউনলোড করুন
ওয়ার্ড ডাউনলোড করুন
প্রশ্ন:
যদি কোনো স্ত্রী নিজেই তার স্বামীর কাছে স্বীকার করে যে, তিনি পরকীয়ার সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন এবং এটি যে মারাত্মক গুনাহ, সে বিষয়েও তিনি সচেতন, তাহলে এ অবস্থায় স্বামীর করণীয় কী? এ ধরনের স্বীকারোক্তির পর কি স্বামী-স্ত্রীর বৈবাহিক সম্পর্ক অটুট থাকে, নাকি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়?
-রাশেদুল ইসলাম
উত্তর:
এটা যে মারাত্মক গুনাহের কাজ তা আমরা সবাই জানি। তবে একারণে বিবাহ ভাঙ্গবে না। স্বামীর দায়িত্ব সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যেকোনো উপাযে বুঝিয়ে সমঝিয়ে এবং প্রয়োজনে কিছু শাসন করে হলেও তাকে এমন মারাত্মক গুনাহের কাজ থেকে ফেরানো। প্রথম চেষ্টাটা স্বামীর নিজেরই করা উচিত; অন্য কাউকে না জানিয়ে। গোনাহের কাজ বিশেষ কোনো কারণ ছাড়া অন্যদেরকে জানানো যায় না। বিশেষ করে ব্যক্তি যদি গোনাহের কারণে অনুতপ্ত হয়ে তওবা করে, তখন তার গোনাহের কথা অন্যদেরকে জানানোও গোনাহ। হাঁ নিজের সকল চেষ্টা প্রচেষ্টা যদি কখনো ব্যর্থ হয়, তখন প্রয়োজনে নিকটাত্মীয় বা এমন কাউকে জানিয়ে হলেও তার সংশোধনের চেষ্টা করতে হবে, যাকে জানালে কাজটি সহজ হবে বা সহযোগিতা পাওয়া যাবে। -সূরা নিসা (৪): ৩৪-৩৫; তিরমিযী: ১১৬৩; মুসনাদে আহমাদ: ৫৩৭২; সুনানে নাসায়ী: ৩৪৬৪, রদ্দুল মুহতার: ৩/৩৪ (দারুল ফিকর), আল-বাহরুর রায়েক: ৩/১০৩ (দারুল কিতাবিল ইসলামী)
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
{الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ بِمَا فَضَّلَ اللَّهُ بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ وَبِمَا أَنْفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ فَالصَّالِحَاتُ قَانِتَاتٌ حَافِظَاتٌ لِلْغَيْبِ بِمَا حَفِظَ اللَّهُ وَاللَّاتِي تَخَافُونَ نُشُوزَهُنَّ فَعِظُوهُنَّ وَاهْجُرُوهُنَّ فِي الْمَضَاجِعِ وَاضْرِبُوهُنَّ فَإِنْ أَطَعْنَكُمْ فَلَا تَبْغُوا عَلَيْهِنَّ سَبِيلًا إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيًّا كَبِيرًا * وَإِنْ خِفْتُمْ شِقَاقَ بَيْنِهِمَا فَابْعَثُوا حَكَمًا مِنْ أَهْلِهِ وَحَكَمًا مِنْ أَهْلِهَا إِنْ يُرِيدَا إِصْلَاحًا يُوَفِّقِ اللَّهُ بَيْنَهُمَا إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا خَبِيرًا} [النساء: 34، 35]
পুরুষ নারীদের অভিভাবক, যেহেতু আল্লাহ তাদের একের উপর অন্যকে মর্যাদশীল করেছেন এবং যেহেতু পুরুষগণ নিজেদের অর্থ-সম্পদ ব্যয় করে। সুতরাং সাধ্বী স্ত্রীগণ অনুগত হয়ে থাকে, (পুরুষের) অনুপস্থিতিতে আল্লাহ প্রদত্ত হেফাযতে (তার অধিকারসমূহ) সংরক্ষণ করে। আর যে সকল স্ত্রীর ব্যাপারে তোমরা অবাধ্যতার আশঙ্কা কর, (প্রথমে) তাদেরকে বুঝাও এবং (তাতে কাজ না হলে) তাদেরকে শয্যায় একা ছেড়ে দাও এবং (তাতেও সংশোধন না হলে) তাদেরকে (মৃদুভাবে) প্রহার করতে পার। অতঃপর তারা যদি তোমাদের আনুগত্য করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কোনো (ব্যবস্থা গ্রহণের) পথ খুঁজো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সকলের উপর, সকলের বড়। তোমরা যদি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহের আশঙ্কা কর, তবে (তাদের মধ্যে মীমাংসা করার জন্য) পুরুষের পরিবার হতে একজন ও নারীর পরিবার হতে একজন সালিস নিযুক্ত করবে। তারা দুজন যদি মীমাংসা করতে চায়, তবে আল্লাহ উভয়ের মধ্যে মিল সৃষ্টি করে দেবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে জ্ঞাত এবং সর্ববিষয়ে অবহিত। -সূরা নিসা (৪): ৩৪-৩৫
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজের ভাষণে বলেন,
«أَلَا وَاسْتَوْصُوا بِالنِّسَاءِ خَيْرًا، فَإِنَّمَا هُنَّ عَوَانٌ عِنْدَكُمْ، لَيْسَ تَمْلِكُونَ مِنْهُنَّ شَيْئًا غَيْرَ ذَلِكَ، إِلَّا أَنْ يَأْتِينَ بِفَاحِشَةٍ مُبَيِّنَةٍ، فَإِنْ فَعَلْنَ فَاهْجُرُوهُنَّ فِي المَضَاجِعِ، وَاضْرِبُوهُنَّ ضَرْبًا غَيْرَ مُبَرِّحٍ، فَإِنْ أَطَعْنَكُمْ فَلَا تَبْغُوا عَلَيْهِنَّ سَبِيلًا، أَلَا إِنَّ لَكُمْ عَلَى نِسَائِكُمْ حَقًّا، وَلِنِسَائِكُمْ عَلَيْكُمْ حَقًّا، فَأَمَّا حَقُّكُمْ عَلَى نِسَائِكُمْ فَلَا يُوطِئْنَ فُرُشَكُمْ مَنْ تَكْرَهُونَ، وَلَا يَأْذَنَّ فِي بُيُوتِكُمْ لِمَنْ تَكْرَهُونَ…»: ” هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.اهـ -سنن الترمذي ت شاكر (1163)
“শুনে রাখ! স্ত্রীদের সাথে সদাচরণের উপদেশ গ্রহণ কর; কেননা, তারা তোমাদের অধীনস্থ। তাদের ক্ষেত্রে সদাচারণ ব্যতীত তোমরা অন্য কোনো অধিকার রাখ না। হাঁ, তারা যদি সুস্পষ্ট অশ্লীল কাজে লিপ্ত হয় (তবে ভিন্ন কথা)। তারা যদি তাতে লিপ্ত হয়ে পড়ে, তখন তাদেরকে শয্যায় একা ছেড়ে দাও এবং (তাতেও সংশোধন না হলে) তাদেরকে মৃদুভাবে প্রহার করতে পার। অতঃপর তারা যদি তোমাদের আনুগত্য করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কোনও (ব্যবস্থা গ্রহণের) পথ খুঁজো না। তোমাদের উপর তোমাদের স্ত্রীদের অধিকার রয়েছে। তাদের উপর তোমাদের অধিকার এই—অন্য ব্যক্তিদের যেন তারা তোমাদের বিছানায় না বসায় এবং বাড়িতে আসার অনুমতি না দেয়, বস্তুত যা তোমাদের পছন্দ নয়…।” –তিরমিযী: ১১৬৩
পক্ষান্তরে স্বামী যদি এই গর্হিত কাজ থেকে স্ত্রীকে সাধ্যমতো বিরত রাখার চেষ্টা না করে, তাহলে সে জঘন্য পাপী এবং দাইয়ুস হিসেবে বিবেচিত হবে। দাইয়ুসের পরিণতি খুবই ভয়াবহ।
মুসনাদে আহমাদের এক হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
” ثَلَاثَةٌ قَدْ حَرَّمَ اللهُ عَلَيْهِمُ الْجَنَّةَ: مُدْمِنُ الْخَمْرِ، وَالْعَاقُّ، وَالدَّيُّوثُ “، الَّذِي يُقِرُّ فِي أَهْلِهِ الْخَبَثَ.اهـ -مسند أحمد ط الرسالة: 5372، قال الهيثمي: فيه راو لم يسم، وبقية رجاله ثقات. -مجمع الزوائد ومنبع الفوائد (4/ 327)
“আল্লাহ তিন প্রকার মানুষের জন্য জান্নাত হারাম করেছেন। তারা হলো, নিত্য মদ পানকারী, পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান এবং দাইউস, যে তার পরিবারের মধ্যে অশ্লীলতা-অনৈতিকতা সংঘটিত হতে দেয় এবং তা মেনে নেয়।” -মুসনাদে আহমাদ: ৫৩৭২
আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (উফিয়া আনহু)
২৫-১২-১৪৪৭ হি.
১২-০৬-১৪৪৭ হি.