বিবিধফাতওয়া  নং  ৬৫৭

স্মার্টফোন ব্যবহারের হুকুম

পিডিএফ ডাউনলোড করুন
ওয়ার্ড ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন:  

আমার কয়েকটি বিষয় জানার ছিল:

১. আমরা জানি, গুনাহ থেকে বাঁচতে হলে গুনাহের উপকরণ থেকেও দূরে থাকা জরুরি। কিন্তু বর্তমানে কর্মক্ষেত্র, পড়াশোনা ও দ্বীনি কাজের জন্য মোবাইল প্রায় অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেউ যদি স্মার্টফোন ব্যবহারের কারণে বারবার বিভিন্ন গুনাহে জড়িয়ে পড়ে এবং প্রতিবারই তাওবা করার পর পুনরায় সেই গুনাহে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে এ অবস্থায় তার জন্য স্মার্টফোন ব্যবহার করা কি জায়েয হবে?

২. যদি তার জন্য স্মার্টফোন ব্যবহার করা নাজায়েয হয়, তবুও সে যদি তা ব্যবহার করতেই থাকে, তাহলে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার কাছে তার অবস্থান কী হবে?

-মুহাম্মাদ আদুল্লাহ

উত্তর-১:

যাদের হাতে মোবাইল থাকার কারণে অনিবার্যভাবে গুনাহে লিপ্ত হয়ে যান, গুনাহ ছাড়তে পারেন না, তাদের জন্য অবশ্যই গুনাহের পথগুলো বন্ধ করা জরুরি। ব্যক্তির অবস্থা ও প্রয়োজনভেদে এর বিভিন্ন পদ্ধতি হতে পারে। কারো জন্য নেট ব্যবহার বন্ধ করার মাধ্যমে হতে পারে, কারো জন্য ইউটিউব, ফেসবুক, ইমু ইত্যাদির মতো যেসব এ্যাপস গুনাহের পথ খোলে, সেগুলো বন্ধ করার মাধ্যমে হতে পারে। আবার কারো জন্য স্মার্টফোন ব্যবহার বন্ধ করারও প্রয়োজন হতে পারে। কার জন্য কোনটা উপযোগী হবে, তা বুঝা ও আমল করার ক্ষেত্রে একজন বিজ্ঞ ও মুত্তাকী আলেমের পরামর্শ নেয়া কাম্য, যিনি তার ব্যক্তিকেও জানেন এবং সে যে দ্বীনি বা দুনিয়াবি কাজে মোবাইল ব্যবহার করা প্রয়োজন মনে করে, সে কাজ সম্পর্কেও ভালো ধারণা রাখেন।

উত্তর-২:

তওবা না করে নাজায়েয কাজ বারবার করতে থাকা ভয়ের বিষয়। এমন ব্যক্তি আল্লাহর নিকট ফাসেক গণ্য হয়। ধীরে ধীরে এই গুনাহ আরো বড় গুনাহ ও কুফর শিরকের দিকে নিয়ে যায়। তাই গুনাহের নেশা ও অভ্যস্ততা পরিত্যাগের বিষয়ে অবিলম্বে সর্বোচ্চ সতর্ক হওয়া জরুরি। প্রয়োজনে যদি দ্বীনের এমন কোনো কাজের কারণে মোবাইল ব্যবহার করা হয়, যা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার অবকাশ আছে, তাহলে সে কাজ বন্ধ রাখতে হবে, তবুও গুনাহের নেশা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। বাহ্যত অনেকের দৃষ্টিতে এটা কঠিন মনে হলেও, বান্দা সংকল্প করলে আল্লাহ সহজ করে দেন।

فقط، والله تعالى أعلم بالصواب

আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (উফিয়া আনহু)

২৫-০৩-১৪৪৮ হি.

০৮-০৯-২০২৬ ঈ.

Related Articles

Back to top button
অ+
অ-